মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে হঠাৎ আলোচনায় দেওয়ান সাইদুর

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৬, ০৮:৫৭

কদর বেড়েছে কানাডা-প্রবাসী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা দেওয়ান সাইদুর রহমানের। সম্প্রতি কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর দলের নেতাকর্মীরা তাকে সংর্বধনা জানিয়েছেন। আলোচনায় আছে আগামী জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি হবেন ‘ট্রাম্প কার্ড’। তার সমর্থন যিনি পাবেন, তিনি হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা থেকে শুরু করে হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-কাউন্সিলরা প্রতিনিয়ত সাইদুরের সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করছেন। সাইদুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে খোঁজখবর নিয়েছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র রমজান আলী। মোবাইল ফোনে কথা বলে দেওয়ান সাইদুরের সাফল্য কামনা করেছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম।

এরই মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক গড়পাড়ায় স্বপনের বাসভবনে গিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। মানিকগঞ্জের মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমের আমন্ত্রণে পৌরসভায় গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেওয়ান সাইদুর। কোলাকুলি করে কুশল বিনিময় হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলের সঙ্গে।

কে এই দেওয়ান সাইদুর

একসময় হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দেওয়ান সাইদুর রহমান। ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। তাকে করা হয়েছিল হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এরপর ২০০৯ সালে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেওয়ান সাইদুর বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে, যার খেসারত দিতে হয় তার ভাতিজা দেওয়ান রুবেলকে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে রাতের বেলায় বাড়িতে হামলা করে দেওয়ান রুবেলকে হত্যঅ করা হয় সাইদুর রহমান ভেবে।

সেই সময় এই হত্যার পেছনে জেলা আওয়ামী লীগের ওই নেতার  পরিকল্পনা ছিল দাবি করেন সাইদুর। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।

এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের উপজেলা নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থীর কাছে প্রায় ১৪০০ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন সাইদুর। ওই নির্বাচনে হারার পেছনে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে দায়ী করেন সাইদুর রহমান। একদিকে ভাতিজা হত্যা, অন্যদিকে নির্বাচনে পরাজয়- দুটির কোনো সুরাহ না হওয়ায় ২০১৪ সালের মে মাসে দেওয়ান সাইদুর রহমান পাড়ি জমান কানাডায়। সেখানে বসেই তিনি পেয়ে যান জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদ।

দেশে ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন

দীর্ঘদিন কানাডায় কাটিয়ে ১১ নভেম্বর দেশে ফেরেন সাইদুর রহমান।  হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ তাকে দেয় ফুলেল সংবর্ধনা। এরপর ঢাকা থেকে তাকে হরিরামপুরের শতাধিক নেতাকর্মী তাকে নিয়ে আসে মানিকগঞ্জে।

পুলিশ লাইন্স এলাকায় সাইদুর রহমানকে বহনকারী গাড়ি পৌঁছানোর পর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের একান্ত কাছের লোক যুবলীগ নেতা  আবু বক্কর সিদ্দীক খান তুষার পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এরপর মানিকগঞ্জ থেকে সাইদুরকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল বহর যোগে নিয়ে যাওয়া হয় হরিরামপুর উপজেলা প্রাঙ্গণে। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাহজাহান শেখ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবিনা ফেরদৌস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত হরিরামপুর উপজেলার হারুকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চুন্নু, আজিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমাস মাতব্বর, চাঁলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বিশ্বাস শিরু, সুতালড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বলড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম তারেক, ধুলশুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জায়েদ খান, কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনুস গাজী উপস্থিত ছিলেন।

কেন সাইদুর রহমানের কদর

আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দীন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক পৌর মেয়র রমজান আলী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলসহ বেশ কয়েকজন। তবে লড়াই হবে গোলাম মহিউদ্দীন ও শফিউল আরেফিন টুটুলের মধ্যে।  ভোটের সমীকরণে পিছিয়ে থাকবেন না সাবেক পৌর মেয়র মো. রমজান আলীও।

ভোটারদের  মধ্যে গুঞ্জন  রয়েছে, হরিরামপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানকে যে প্রার্থী তার পক্ষে রাখতে পারবেন, তার ভাগ্যেই শিকে ছিঁড়বে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের। তাকে নিজের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর