জেলা পরিষদ নির্বাচন

নরসিংদীতে দুই প্রার্থীর আড়ালে লড়াইয়ে রাজু-হিরু

এম লুৎফর রহমান, নরসিংদী থেকে
| আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১২:১১ | প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৪৫

জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে আগামী বুধবারের ভোটকে ঘিরে নরসিংদী আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব চরম  আকার ধারণ করেছে। এই জেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা যুদ্ধংদেহী মনোভাবে একে অন্যের সমালোচনায় মুখর। চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর আড়ালে আসলে লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের দুই ডাকসাইটে নেতা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু এবং সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর মধ্যে লড়াই জমেছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত আসাদুজ্জামান আনারস প্রতীক ও বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঞা কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট করছেন।

নরসিংদী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান। অপরদিকে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরুর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আব্দুল মতিন ভূইয়া। নিজ প্রার্থীকে জেতাতে চালাচ্ছেন আপ্রাণ চেষ্টা।

গত সরকারের আমলে রাজু যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন আসাদুজ্জামান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে দলের কাণ্ডারী হিসেবে জেলায় ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি রাজুর আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম হিরু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর রাজনৈতিক জটিলতা নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূইয়া তার বিস্বস্ত হয়ে উঠেন।

এই নির্বাচনে একই দলের দুই নেতা অংশ নেয়ায় দলের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বলেন, আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় আমি দলের পক্ষে প্রার্থীর হয়ে কাজ করছি। আর মতিন ভূইয়া দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রাথী হওয়ায় তিনি বিদ্রোহী। তাকে সমর্থিন করা নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি দলের প্রার্থী। আর প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছে উপেক্ষা করে প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। এখন ওয়াজ মাহফিলের নামে এলাকায় এসে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছেন বলেই মতিন ভূঞা প্রার্থী থেকে গেছেন। তা না হলে একই দলের দুই প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মতিন ভূইয় দাবি করেন, আসাদুজ্জামান দলীয় সমর্থন পেলেও পরে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। যার ফলে জেলা পরিষদ নির্বাচন সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাই আমি বিদ্রোহী প্রার্থী নই।

এবারের নির্বাচনে নির্ধারিত ২১টি পদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে দুই জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫০ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। জেলার ছয়টি উপজেলার ছয়টি পৌরসভাসহ ৭২টি ইউনিয়নের ৯৯৩ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এই নির্বাচনের ভোটার।

ঢাকাটাইমস/২৬ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত