ঢাকার দক্ষিণে অনন্য এক মসজিদ

মাহমুদ উল্লাহ ও আসাদুজ্জামান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:০০ | প্রকাশিত : ০৫ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:২৬

‘মসজিদটির কথা প্রথমে আমি জানতে পারি ফেসবুকে। ছবিতে এর সৌন্দর্য দেখে বাস্তবে দেখার জন্য ছুটে এসেছি। মাগরিবের নামায পড়ে এখান থেকে আবার ঢাকায় ফিরে যাবো।’ বলছিলেন ঢাকা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা নাঈম রাজন।

তার সঙ্গে আমাদের দেখা হয় শহর ঢাকার বাইরে জেলা ঢাকার একটি এলাকা কেরানিগঞ্জ সাউথ টাউনে। তার মতোই সাউথ টাউন জামে মসজিদের স্থাপত্যশৈলী প্রথমে আমরা দেখতে পাই ফেসবুকে।

দেশে ঐতিহ্যবাহী অনেক মসজিদ আছে। নান্দনিক বিবেচনায়ও এগুলো অনেক এগিয়ে। মসজিদের সংখ্যা বাড়লেও এখনকার ভবনগুলো শৈল্পিক দিক দিয়ে পিছিয়ে। তবে এক্কেবারেই হচ্ছে না তা নয়। স্থাপত্য চিন্তায় অপরূপ এক মসজিদ

কেরানীগঞ্জের বাঘৈরের রাজেন্দ্রপুর সাউথ টাউন জামে মসজিদ। এর মাধ্যমে নয়াভিরাম সুদৃশ্য এক মসজিদ যোগ হলো আমাদের দেশে। এর উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের কর্ণধার মোস্তফা কামাল মঈনুদ্দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সাউথ টাউনের এই মসজিদটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। আধ বিঘা জমির উপর মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। চারপাশে খোলামেলা জায়গার মাঝে মসজিদটি তার সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে আবাসন প্রকল্পটিতে এখনো সেভাবে জনবসতি গড়ে উঠেনি। তাই মসজিদটিতে মুসুল্লির সংখ্যা এখনো কম। তবে মসজিদের নান্দনিকতার খবর পেয়ে অনেকেই এটি দেখতে আসেন।

সাউথ টাউন এখনো জনবিরল এক এলাকা। চারিদিকে তাকালে শুধু দেখা মিলবে বড় বড় ঘাস আর বিস্তৃত মাঠ। কিছু দূরে দেখা যায় ইটভাটা। সেখানকার শ্রমজীবীরা এই মসজিদে নামায পড়তে আসেন।

একতলা মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে ৬০০ লোক জামাতে নামাজ পড়তে পারেন।

জানা গেল, মসজিদটি তৈরিতে প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এতে প্রধান ফটক আছে তিনটি। দুই পাশে আছে আরও দুটি দরজা। চারপাশে প্রচুর জানালা তৈরি করে আলো ঢোকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই স্তরের জানালার ফাঁক গলে আসা প্রকৃতির আলোয় ভেতরে চমৎকার এক পরিবেশ তৈরি হয়। জুড়িয়ে যায় চোখ। স্থপতির নন্দনভাবনার শৈলী ফুটে আছে গম্বুজের ভেতরের অংশেও। দিনের আলো ঢোকার ব্যবস্থা আছে সেখানেও।

এর পাশেই মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের থাকার জন্যে আলাদা একটি ভবন করা হয়েছে। এই মসজিদ নিয়ে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রকল্পের মসজিদ ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের সব প্রকল্পেই সুন্দর মসজিদ করা হয়েছে। তবে রাজেন্দ্রপুরের মসজিদটি সবচেয়ে সুন্দর।’

মসজিদের খাদেম হাফেজ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দুর-দুরান্ত থেকে মানুষজন মসজিদটি দেখতে আসে, আগে আরও অনেক সুন্দর ছিলো। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে মসজিদটির ক্ষতি হয়েছে। ধুলাবালি পরে মসজিদের চারপাশের ফুলের গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’

এই এলাকায় এলে প্রকল্পের ভেতরে মিলবে কাশবন। বিকেলে দেখা যাবে সূর্যাস্ত। ঢাকার অদূরেই এতো সুন্দর মনোরম পরিবেশ রয়েছে তা সেখানে না গেলে বোঝা যাবে না। সন্ধ্যার দিকে মসজিদের চারপাশের লাইটগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়, তখন আরেক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনেক দূর থেকে মনে হয় যেনো আলোকিত তাজমহল। মসজিদটি তখন তার রূপের ডালা আরো মেলে ধরে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাবুবাজার সেতু পার হয়ে যেতে হবে রাজেন্দ্রপুরে। গুলিস্তান থেকে বাস পাবেন। বাবুবাজার ব্রিজ থেকে বাস ছাড়াও হলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাবেন। ঢাকা মাওয়া হাইওয়ের রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারের একটু পরে হাতের ডান দিকেই সাউথ টাউন প্রকল্প। এই আবাসন প্রকল্পের প্রধান ফটক থেকে ৮-১০ মিনিট হেঁটে ভেতরে ঢুকতেই দূর থেকে চোখে পড়বে এই মসজিদ।

ছবি: আসাদুজ্জামান

ঢাকাটাইমস/৪ডিসেম্বর২০১৭/এমইউ/এজেড/টিএমএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত