আ.লীগের ক্ষমতার আট বছর

জঙ্গিবাদ নির্মূলে কতটুকু সফল সরকার?

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫১ | প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ১৫:৫৫
ফাইল ছবি

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ যখন জন্ম নিল, তখন রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ কিংবা সাধারণ মানুষ কি ভাবতে পেরেছিলেন যে, এমন সময় আসবে যখন ‘জঙ্গিবাদ’ রাষ্ট্রের অন্যতম সংকট হয়ে দেখা দেবে? তাঁরা হয়তো ভাবেননি, কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে এসে এটাই দেশের বাস্তবতা যে দেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা আছে। টানা আট বছর ধরে ক্ষমতায় আছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। এই লম্বা সময়ে জঙ্গিবাদ দমনে কতটুকু সফল হয়েছে বর্তমান সরকার?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট কিছু জঙ্গিবাদী ঘটনা মোকাবেলায় সরকার যথেষ্ট  পারঙ্গমতা দেখালেও রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনে সরকারকে আরও অনেক দূর যেতে হবে।

অক্সফোর্ড অভিধানমতে, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো কারণ ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সংঘাতমূলক অথবা সহিংসতাপূর্ণ প্রক্রিয়ার ব্যবহারই হলো জঙ্গিবাদ।  বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাস একেবারে নতুন নয়।  

মো. আলাউদ্দিন ভুঁইয়া নামের একজন ব্লগারের লেখা থেকে জানা যায়, ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’- স্লোগানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা শুরু হয় ১৯৯২ সালের দিকে। বাংলাদেশ থেকে বেশকিছু ‘মুজাহিদ’ সোভিয়েত বাহিনীর সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। সে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে এলে ওই সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে ‘হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ’ (হুজি) নামে একটা দল তৈরির ঘোষণা দেন কিছু ধর্মীয় নেতা।

আলাউদ্দিন ভুঁইয়া লিখেছেন, ১৯৯৪ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়া গ্রামে বায়েজিদ খান পন্নি ওরফে সেলিম পন্নির নেতৃত্বে ‘কোমরে হাতুরি’ সংগঠন ‘হিজবুত তাওহীদ’ আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৯৮ সালে হুজি থেকে বেরিয়ে এসে শায়েখ আবদুর রহমান জামালপুরে  ‘জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’ (জেএমবি) গঠন করে। এ বছরেই (বা মতান্তরে ২০০৩ সালের মাঝামাঝিতে) শায়খ রহমানের পরামর্শে সিদ্দিকুল ইসলাম ‘বাংলা ভাই’ এর নেতৃত্বে জেএমবির আরেকটি অংশ ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ’ (জেএমজিবি) গঠন করে। পরের বছর কাওসার হুসাইন সিদ্দিকী নামে একজন গড়ে তোলে আরেকটি জঙ্গি সংগঠন-শাহাদাত-ই আল হিকমা। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অংশ হিসেবে ২০০১ সালে ‘হিযবুত তাহরীর’ ও ২০০৭-০৮ সালে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ (এবিটি) বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করে।

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সূচনা হয় ১৯৯৯ সালে। হুজি প্রথম হামলা করেছিল কবি শামসুর রাহমানের ওপর।  তবে মার্চে বড় আকারে প্রথম বোমা হামলা হয় যশোরের উদীচী সমাবেশে। এ হামলায় ১০ জন নিহত এবং ১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছিল।  এছাড়া, খুলনা শহরে আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলা, ২০০১ সালে রাজধানীর পল্টন ময়দানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা,  কয়েক মাসের ব্যবধানে রমনার বটমূলে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, জুনে গোপালগঞ্জের বানিয়াচং গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে বোমা হামলা, সেপ্টেম্বরে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় রিমোট কন্টোলে নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ইত্যাদি হামলায় নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দেয় জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্যরা।

২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে একটি নির্বাচনী আলোচনা সভায় বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আবার সক্রিয়তা প্রদর্শন করে, দিন দুয়েক পড়ে সাতক্ষীরা শহরের একটি সিনেমা হল ও স্টেডিয়ামে সার্কাসের প্যান্ডেলে বোমা হামলা হামলা হয়। সে বছর ডিসেম্বরে ময়মনসিংহ শহরের চারটি সিনেমা হলে (অজন্তা, ছায়াবাণী, অলকা ও পূরবী) দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর কয়েকটি বোমা হামলায় শিশু ও নারীসহ ১৮ জন নিহত ও দর্শকসহ আহত হয় দেড় শতাধিক মানুষ। এ হামলার দায় স্বীকার  করে জেমএমবি নামে জঙ্গি সংগঠনটি আলোচনায় আসে।

২০০৩ সালেও অব্যাহত থাকে বোমা হামলা। জানুয়ারিতে টাঙ্গাইলের সখীপুরের দড়িয়াপুর গ্রামের ফালুচাঁন পাগলার মাজারে রাতে বোমা বিস্ফোরণে সাতজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঙ্গি হামলাপ্রবণ সময় ২০০৪-০৫ সাল।  নানা পরিসংখ্যানের হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৪ সালেই দেশে একশ’রও বেশি মানুষ নিহত হন। ২০০৪ সালের শুরুতে জানুয়ারিতে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণে প্রথম দফা বোমা হামলা দিয়ে।  এ হামলায় প্রাণ হারায় সাত জন।  এখানে দ্বিতীয় বার গ্রেনেড হামলা হয় ২১ মে।  হুজি’র পরিচালিত এ হামলায় তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারসহ আহত হয় ৭০ জন। এর পড়ে নানা হামলায় নিহত হন সাংবাদিক মানিক সাহা, লেখক হুমায়ুন আজাদ, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু।

২০০৪ সালে রাজশাহী অঞ্চলে বাংলা ভাই নামে এক জঙ্গিনেতার উত্থান দেশে-বিদেশে আলোচনার ঝড় তোলে। তৎকালীন সরকারের শিল্পমন্ত্রী জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামী বাংলা ভাইয়ের ঘটনাকে মিডিয়ার সৃষ্টি বলে দাবি করলেও খালেদা জিয়ার সরকার তখন চাপে পড়ে অভিযান চালিয়ে বাংলা ভাইকে গ্রেপ্তার ও পরে আদালতের প্রক্রিয়ায় ফাঁসি দেয়। তবে ২০০৪ সালের সবচেয়ে লোমহর্ষক জঙ্গি হামলা হয় ২১ আগস্ট, আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও সে হামলায় ২৪ জন নিহত হন, আহত হন আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন।

দেশে জঙ্গি তৎপরতা নতুন মাত্রা নেয় ২০০৫ সালে। আদালতে-এজলাশ ও এনজিওতে বোমা হামলা শুরু করে জঙ্গিরা। লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঝালকাঠি, গাজীপুরের বিভিন্ন আদালতে হামলায় বিচারক সোহেল আহমেদ চৌধুরী, বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও কয়েকজন আইনজীবীসহ নিহত হয় ১৮ জন, আহত ৯০ জনেরও বেশি। সে বছর দুই বার ‘ব্র্যাক’ এনজিওটিতে হামলা হয়।  গোপালগঞ্জ ও নওগাঁর এ হামলায় আহত হয়ছিল ৫০ জনেরও বেশি।

২০০৫ সালের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা। এ দিনে জেএমবি ৬৩টি জেলার ৫১১টি স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায়।  এ হামলায় তিনজন নিহত ও দু্ শতাধিক মানুষ আহত হয়।

বিএনপি সর্বশেষ সরকারের শেষ সময়ে এসে ২০০৬ সালে জঙ্গিবাদবিরোধী কিছু অভিযান পরিচালনা করে। এতে শায়খ রহমান, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়  ‘বাংলা ভাই’ এবং  খালেদ সাইফুল্লাহ গ্রেপ্তার হয়।  ২০০৭ সালের ২৯ মার্চের দিবাগত রাতে শায়খ রহমান ও ‘বাংলা ভাই’কে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।  ২০০৭ সালে জেএমবি কর্তৃক ঝালকাঠি পাবলিক প্রোসিকিউটর হায়দার হোসেন-কে গুলি করে হত্যা এবং এর দুই বছর পরে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের সম্মেলনে গ্রেনেড হামলা ছাড়া দীর্ঘ দিন বড় ধরএনর জঙ্গি নাশকতা দেখা যায়নি।

এদিকে ক্ষমতায় আসে সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ঢাকা পড়ে যায় জঙ্গিবাদের আলোচনা। জঙ্গিদের খুব একটা তৎপরও দেখা যায়নি সে সময়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

প্রথম কয়েকটি বছর ভালো চললেও, জঙ্গিরা নতুন করে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে টার্গেট কিলিং এর মাধ্যমে।  ২০১৩ সালে নানা নামে জঙ্গিরা নাস্তিকতার ব্যাখ্যায় ‘টার্গেট কিলিং’ শুরু করে।  জঙ্গিদের হামলার শিকার হয় আসিফ মহিউদ্দীন, রাজীব হায়দার, জগতজ্যোতী তালুকদার, সানাউল রহমান, আরিফ রায়হান দ্বীপ, উম্মুল মোমিনিন তৈয়ুবুর রহমান ও তার পুত্র, তন্ময় আহমেদ, জাকারিয়া বাবু ও পীর লুতফর রহমানসহ ছয়জন।  এ ধরনের হামলা পরের বছরেও চলতে থাকে।  এ বছরের শিকার রাহয়ান রাহি, উল্লাহ দাস, রাকিব, টিভি উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী, আশরাফুল ইসলাম এবং সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ‘টার্গেট কিলিং’ হয় ২০১৫ সালে।  একে একে হামলার শিকার হয় চট্টগ্রামে নার্সিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা অঞ্জনা দেবী, ‘মুক্তমনা’র প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় দাস, নীলয় নীল, শিক্ষক মানব চন্দ্র রায়, ইতালির নাগরিক তাবেলা, জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও, আধ্যাত্মিক নেতা খিজির খান,  জাগৃতি প্রকাশক আরেফিন ফয়সাল দীপন, শুদ্ধস্বরের প্রকশক টুটুল, বাহাই সেন্টার ডিরেক্টর রুহুল আমিন এবং ইসকনের প্রেসিডেন্ট বীরেন্দ্র নাথ।  আগের বছরের মতো এবারও হত্যার অস্ত্র হিসেবে ‘চাপাতি’ বহাল থাকলো, তবে আরেক নতুন সংযোজন হলো অন্যান্যদের পাশাপাশি এ বছরের বেশ কয়েকটি হত্যার ‘দায় স্বীকার’ করে ‘আইএস’ নামের আরেকটি ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক। জঙ্গিরা হামলা করত দেশের বিভিন্ন জায়গায়, কিন্তু এর স্বীকারোক্তির খবর দিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ইহুদি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টিলিজেন্স। সরকার অবশ্য শুরু থেকেই ‘আইএস’ এর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এসেছে। ধারণা করা হয় স্থানীয় জঙ্গিরাই ‘আইএস’ নাম দিয়ে সাইট ইন্টিলিজেন্সকে ব্যবহার করে আতংক ছড়াতে চেয়েছিল।

২০১৬ সালের শুরু থেকে একে একে যারা জঙ্গিবাদের শিকার হয় তারা হলেন পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে হিন্দু পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও অনলাইন এক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ, ঝিনাইদাহে শিয়া ধর্ম প্রচারখ আবদুর রাজ্জাক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী, ‘রূপবান’ পত্রিকার সম্পাদক জুলহাস মান্নান,  নাট্য ও সমকামীদের অধিকার আন্দোলনের কর্মী মাহবুব তন্ময়, নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, রাজশাহীর তানোর উপজেলার ‘পীর সাহেব’ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বান্দরবানের বাইশারী ইউনিয়নের চাক পাড়ার বৌদ্ধ ভিক্ষু মংশৈ উ চাক, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক, নাটোরে খ্রিস্টান ব্যবসায়ী সুনীল গমেজ, ঝিনাইদহে বৃদ্ধ পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি, পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডে, ঝিনাইদহে হিন্দু সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস ও বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মংশৈনু মারমা। এসব হত্যাকাণ্ডের কয়েকটিতে আনসার-আল-ইসলাম নাম এলেও অধিকাংশ হত্যার জন্য আইএস ‘দায় স্বীকার’ করে।

তবে সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালের  জুলাই মাসে। এদেশের কিছু ইংরেজি শিক্ষিত বিত্তশালী ছেলে আইএসের ব্যানারে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বিদেশিদের জিম্মি করে। পশ্চিমাদেশের আদলে এই জিম্মি ঘটনায় ১৭ বিদেশিসহ (৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়) ২০ জন, ছয় সন্ত্রাসী ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের মাঠের কাছে বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশসহ নিহতের সংখ্যা চারজন। আহত হয় প্রায় ১২ জন যাদের মধ্যে বেশির ভাগই পুলিশ।

পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচলানা করে। বিভিন্ন সময়ে কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে নয় জঙ্গি, রুপনগরে একজন, নারায়ণগঞ্জে গুলশান হামলার নাটেরগুরু তামীম চৌধুরীসহ তিনজন জঙ্গি নিহত হয়।  আজিমপুরে পুলিশের অভিযানে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করে জঙ্গি নেতা তানভীর কাদেরী। আশকোনায় পুলিশের অভিযানে আত্মঘাতী হয় এক নারী জঙ্গিসহ ১৪ বছর বয়সী তানভীরের ছেলে আফিফ কাদেরী আদর। সবশেষে গত ৫ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় গুলশান হামলার আরেক নাটেরগুরু নূরুল ইসলাম মারজান ও তার সহযোগী সাদ্দাম হোসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্যমতে গুলশান হামলার পরে ৩১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন।

পুলিশ এত তৎপর থাকার পরেও কেন জঙ্গিবাদী তৎপরতা বাংলাদেশে বন্ধ হচ্ছে না। তবে কি জঙ্গিবাদ এদেশে অনেক গভীরে প্রোথিত? পুলিশ কতখানি সফল-প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার উপমহাপরিদর্শক এ,কে,এম শহীদুর রহমানকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের মনোভাব জঙ্গিবিরোধী। তাই পুলিশকে তারা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। এছাড়াও পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা, কঠোর পরিশ্রম, তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা ভালো থাকায় বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গি দমনে বেশ ভালো করছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আনসার আল ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে খুব শিগগিরই পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। একই সঙ্গে এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনোবলেও চিড় ধরবে। এ ছাড়া তাদের নতুন করে সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া আটকানো সহজ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠনকে পরাস্ত করতে কিছু সময় লাগে। এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করলেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে তা নয়। এটা আমরা মনেও করি না, বিশ্বাসও করি না। অনেক পদক্ষেপের একটি হলো দলকে নিষিদ্ধ করা। তাদের কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দীর্ঘ সময় লাগে।’

(ঢাকাটাইমস/১০জানুয়ারি/এএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত