লিটন হত্যা: এবার পৌর মেয়রকে জিজ্ঞাসাবাদ

উত্তম সরকার ও আবু বক্কর সিদ্দিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২২:৩৫ | প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:২৩

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্যাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।  এদিকে লিটনের মৃত্যুর পর মিষ্টি বিতরণ করার অভিযোগে বুধবার এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


লিটন হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত জামায়াত ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এ নিয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।


থানার পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইএর কর্মকর্তারা এলাকায় অবস্থান করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক শত্রুতা, জামায়াত-শিবির ও নব্য জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা, জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে এই হত্যা রহস্যের জট খুলতে সময় লাগছে। বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটনের আশা করছেন তারা।


এদিকে লিটন হত্যা মামলার রহস্য এত দিনেও উন্মোচন না হওয়ায় হতাশার কথা জানিয়েছেন মামলার বাদী লিটনের বোন।
সুন্দরগঞ্জের পৌর মেয়র মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ


মঙ্গলবার ঢাকা থেকে আসা গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল্যাহ আল মামুনকে সুন্দরগঞ্জ থানায় ডেকে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ বা মেয়রের পক্ষ থেকে কোনো তথ্যই জানা যায়নি।
শিশু শাহাদত হোসেন সৌরভের ওপর এমপি লিটনের গুলির ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে লিটনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মেয়র আব্দুল্যাহ আল মামুন। লিটনের শাস্তির দাবিতে তারা সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন এমনকি তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিও তোলেন।


লিটনবিরোধী এই উপদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আহসান হাবীব মাসুদও।
মেয়র আব্দুল্যাহ আল মামুন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুবার নির্বাচন করে পরাজিত হন। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে লিটন তাকে সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন দেন। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি লিটনবিরোধী ভূমিকা নেন।

রিমান্ডে কী বলছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদ
এই হত্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে সুন্দরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আহসান হাবীব মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি নন পুলিশ কর্মকর্তারা।


লিটনের অন্যতম বিরোধিতাকারী হিসেবে এলাকায় সোচ্চার ছিলেন সাবেক জাসদ নেতা মাসুদ। তার আওয়ামী লীগে যোগ দেয়াটা ভালোভাবে নেননি লিটন ও তার সমর্থকরা। কারণ মাসুদ বারবার দল পাল্টেছেন। গরু চুরি ও ছিনতাই মামলায় কারাভোগও করেছেন তিনি।


২০১০ সালের মার্চ মাসে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মাসুদ স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগ দেন। তবে তখনই সংসদ সদস্য লিটন এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন। এ সময় মাসুদের সমর্থকরা লিটনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ আছে। এরপর লিটন ও মাসুদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।


মিষ্টি বিতরণের অভিযোগে যুবক আটক
লিটন হত্যার পর মিষ্টি বিতরণের অভিযোগে মতিউর রহমান নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামালের হাট নামক গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লিটন হত্যার পর মতিউর রহমান আনন্দ-উল্লাস করে জামালের হাট এলাকায় মিষ্টি বিলিয়েছিলেন। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এলে পুলিশ তাকে আটক করে।


সুন্দরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক আব্দুল জলিল ম-ল বলেন, মতিউরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে।


খুনিকে গ্রেপ্তারে সময় নিলে আপত্তি নেই বাদীর
১১ দিনের খুনি শনাক্ত না হওয়ায় হতাশার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য লিটনের ছোট বোন ও হত্যা মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকলী। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দেখছেন ব্যাপারটা, আর প্রশাসনেরও এখন পর্যন্ত তৎপরতা দেখছি, সেহেতু আমরা ভেবেছিলাম এর মধ্যে কিছু একটা জানতে পারব। তা যখন পাইনি, তাতে মনে হয় ওনাদের আর একটু টাইম লাগবে। লাগুক, আমরা আর একটু অপেক্ষা করব। যাতে আমার ভাইয়ের প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়ে।’


লিটনের বোন বলেন, ‘তাড়াহুড়া করতে গিয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হোক, তা আমরা চাই না।’
বুধবার বিকালে ভাইয়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ঢাকাটাইমসের সঙ্গে কথা বলেন তার বোন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই এলাকা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা।  এই এলাকার মানুষ যেন স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে সে জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করব।’


গত ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নিজ বাড়িতে লিটনের ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ লিটনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত আটক হয়েছে ৫০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতাকর্মী রয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/১১জানুয়ারি/ডব্লিউবি/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত