একটি সেতু পাল্টে দিতে পারে রায়পুরার চিত্র

এম লুৎফর রহমান, নরসিংদী
| আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১০:৩৬ | প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:৫৬

মেঘনার উপর একটি সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পান্থশালা ও সাইদাবাদ ঘাটসহ চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের লাখো মানুষের চালচিত্র।

সরেজমিনে পান্থশালায় গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে বিনোদনের জন্য পান্থশালায় গড়ে উঠেছে- রাজি উদ্দিন আহম্মেদ রাজু নামে একটি কর্টেজ, জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত একটি ছাউনি, শিশুদের বিনোদনের জন্য মনোরম আনন্দ পার্ক।

পান্থশালার আনন্দ পার্কের পাশেই বয়ে চলেছে চিরচেনা নদী মেঘনা। নদীর কলতানি, পড়ন্ত বিকালে নদীর উপর আচড়েপড়া সূর্যের হাসি আর স্নিগ্ধ হাওয়ার পরশ পেতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন এলাকাসহ দূর-দুরান্ত থেকে আগত শতশত দর্শনার্থী। তাদের কেউ কেউ ভাড়া করা নৌকায় মেঘনায় ভ্রমণ করছেন। অনেকেই আবার নদীর ধারে, পার্কের উপরে থাকা নিপুন হাতে গড়া মাটির হাতি, ঘোড়া আর বাঘ মামার উপর বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থেকে ছবি উঠিয়ে স্মৃতির অ্যালবাম ভরে তুলছেন।

এক সময় সন্ধ্যা হলেই যেখানে এলাকার লোকজন যেতে ভয় পেত, সেখানে এখন পার্ক হওয়ায় প্রতিনিয়ত সমাগম হয় হাজার হাজার মানুষের। মেঘনা নদীর তীরে আনন্দ পার্ক গড়ে উঠায় দিনের আলো অস্তমিত হওয়ার সাথে সাথে এখানে লাল-নীল বাতির আলোতে তৈরি হয় এক অনাবিল পরিবেশ।

স্থানীয় মোশারফ হোসেন, হান্নান সরকার ও তার স্ত্রী তিন জন মিলে এলাকার মানুষের চিত্তবিনোদনের কথা চিন্তা করে গত এক বছর আগে স্বল্প জায়গা ভাড়া করে প্রথমে আনন্দ পার্কটি তৈরি করেন। তাদের অনুসরণ করে পাশাপাশি গড়ে উঠেছে আরেকটি পার্ক।

পান্থশালার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, এই এলাকায় একসময় মানুষের যাতায়াত ছিল কম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই ভয়ে এদিক দিয়ে মানুষ চলাচল করত না।

স্থানীয় এমপি রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু এ এলাকার মানুষের পাড়াপাড়ের কথা চিন্তা করে প্রথমে ফেরির ব্যবস্থা করে দেন। পরে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় এলাকার মানুষের জীবন ব্যবস্থা। রাজি উদ্দিন আহম্মেদ রাজু’ নামে তৈরি হয় একটি কর্টেজ। তারপরই এই পার্ক, দোকানপাট, ঘর বাড়ি। বর্তমানে লোকে লোকারণ্য থাকে এই পান্থশালা।

এলাকাবাসী জানান, মেঘনার এ পাড়ের গ্রাম পান্থশালা ও অন্য পাড়ের গ্রাম সায়দাবাদসহ চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের মানুষের কথা চিন্তা করে মেঘনার উপর যদি একটি সেতু তৈরি করে দেয়া হত- তাহলে ২৪টি ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হত। ঘুরে দাঁড়াতো পান্থশালা।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, নদীবেষ্টিত রায়পুরা, তার মধ্যে পান্থশালা হয়ে উঠতে পারে বিনোদনের জন্য একমাত্র স্থান। মেঘনা নদীর উপর একটি সেতু হলে বদলে যাবে রায়পুরা। আমার পক্ষ থেকে কি করা যায়- তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

রায়পুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, মেঘনার ঐ পাড়ের পাড়াতলীতে রয়েছে কবি শামসুর রহমানের পৈত্রিক বাড়িসহ গুণীজনদের বাস। তাছাড়া নরসিংদী জেলার ৩ ভাগের ১ ভাগ যেমন: বেগুন, বাঙ্গী, তরমুজ, ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি সেতু  না থাকায় সঠিক সময়ে রায়পুরাসহ আশেপাশের বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না। আর নৌকা করে বিক্রি করতে পারলেও ন্যায্য মূল্য থেকে তারা হয় বঞ্চিত।

(ঢাকাটাইমস/২৯জানুয়ারি/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত