পুঁজিবাজারে উল্টোচিত্র, চারদিনে সূচক পড়েছে ২৮৭ পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, ১৮:০৬ | প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৪৮

টাকা দুই দিন বড় ধরনের দরপতন হলো ঢাকার পুঁজিবাজারে। আগের দিন সাধারণ সূচক ১১৭ পয়েন্ট কমার ধারবাহিকতায় সোমবারও কমেছে প্রায় ৮০ পয়েন্ট। দুই দিনে প্রায় ২০০ পয়েন্ট আর চার দিনে প্রায় ৩০০ পয়েন্ট সূচক হারানো নিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১৫ নভেম্বর ডিএসইএক্স ইনডেক্স ছিল ৪৬৬৪.৮১ পয়েন্টে। টানা উত্থানে ২৪ জানুয়ারি সার্বিক মূল্য সূচক ৫৭০৮.২৫ পয়েন্ট অতিক্রম করে। অর্থাৎ ৪৯ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক বাড়ে ১০৪৩.৪৪ পয়েন্ট।

সূচকের এই উত্থানের সময় সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে ২০১০ সালের ধসের কথা মাথায় রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষও ধার-কর্জ করে বাজারে না আসার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু এরপরও বেশিরভাগ শেয়ারের দর টাকা বাড়ছিল। কিন্তু গত বুধবার থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেদিন ও তার পরদিন বৃহস্পতিবার সূচক কমে ১০০ পয়েন্টের প্রায় ৯০ পয়েন্ট। টাকা তিনদিন সূচক বাড়ার পর একে স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই ধরেছিলেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু রবিবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণার পর সূচকের বড় অবনমন নিয়ে কথা উঠে। মুদ্রানীতি ঘোষণার পর আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বেচে দেয়ার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় কার্যদিবসেও একই ঘটনা ঘটলো। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও হঠাৎ এই পতনের কারণ খুঁজছেন।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পরপরই বাড়তে থাকে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম। কিন্তু কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই কমতির দিকে যেতে থাকে বাজার। এরপর মাঝে একবার উঠলেও শেষ দেড় ঘণ্টায় প্রায় ১০০ পয়েন্ট হারায় পুঁজিবাজার।

সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। মোট ৩২৭ টি কোম্পানির ৩২ কোটি ৫৪ লাখ ৪১ হাজার ২৯৭ টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে আজ মোট লেনদেনের পরিমাণ ১০৭৪ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৯ টাকা।

ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৭৯.৬৫ পয়েন্ট কমে ৫৪২১.২১ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ২৪.৭৮ পয়েন্ট কমে ১৯৭৮.৪৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরিয়াহ্ সূচক ১৪.৭৩ পয়েন্ট কমে ১২৬০.০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনকৃত কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ২৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ার।

লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো:- বারাকা পাওয়ার, আরএসআরএম স্টিল, ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, সাইফ পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, শাশা ডেনিমস,  ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইফাদ অটোস।

 বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো বারাকা পাওয়ার, রহিম টেক্স, শাশা ডেনিমস, এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফাইন ফুডস, সিম টেক্স, ইস্টার্ন হাউজিং, এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-ওয়ান, জাহিন টেক্স ও ন্যাশনাল টিউবস।

অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি: পেনিনসুলা চিটাগাং, ফারইস্ট নিটিং, প্রাইম ফার্স্ট আইসিবিএ, আরএসআরএম স্টীল, জেমীনি সী ফুড, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, এফবিএফআইএফ, খান ব্রাদার্স পিপি, ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

(ঢাকাটাইমস/৩০জানুয়ারি/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ারবাজার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত