পুঁজিবাজারে বড় দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:১৭ | প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:০৪

ঢাকার পুঁজিবাজারে বড় পতন দিয়ে শুরু করা সপ্তাহ শেষও হলো বড় পতন দিয়ে। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার প্রায় ১১৮ পয়েন্ট সূচক হারানো পুঁজিবাজারে শেষ দিন বৃহস্পতিবার পতন হলো ১০৮ পয়েন্ট। ছয় বছর মন্দার পর চলতি বছরের শুরুতে বাজারে তেজীভাব দেখা যাওয়ার পর হঠাৎ উল্টোচিত্রে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে বাজারে। এ নিয়ে টাকা আটদিন কমেছে লেনদেন। এক সপ্তাহ আগে বাজারে লেনদেন যেখানে দুই হাজার একশ কোটি টাকা ছাড়ায় সেখানে আজ লেনদেন হয়েছে ৮৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। এটা চলতে বছরের সবচেয়ে কম লেনদেন।

আজ ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ২৭৩টির এবং বদলায়নি ১০টির।

চলতি বছরের শুরু থেকেই গতি পেতে থাকে পুঁজিবাজার। প্রায় ছয় বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে সক্রিয় হতে থাকে বিনিয়োগকারীরা। ২০১০ সালের ধসের পর এই চিত্র প্রথমবারের মতো দেখা যায়। কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি এক মাসও।

গত রবিবার ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণার দিন থেকেই বাজারে মন্দাভাব দেখা দেয়। বরি ও সোমবারে ২০০ পয়েন্টের মতো হারায় ঢাকার পুঁজিবাজার। পরের দুই দিনে বাজার সামান্য বেড়েছিল। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা আসার আশায় ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের মূল্যপতনে আবার ২০১০ সালের ধসের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে অনেককে। চলতি সপ্তাহেই বাজারে মূল্যসূচক কমেছে আড়াইশ পয়েন্টের বেশি। গত সপ্তাহের শেষ দুই দিনও সূচক পড়েছিল প্রায় ১০০ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে গত ছয় কার্যদিবসে সাড়ে তিনশ পয়েন্ট সূচক কমানোকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

মতিঝিলে একটি ব্রোকারেও হাউজে গিয়ে সাইফুল ইসলাম নামে একজন বিনিয়োগকারীকে মুখে হতাশা নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘বাজারে কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমছে, আর লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ছে। আবার বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভালো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে। আমি তো তাদের পরামর্শ মেনে চলছি। কিন্তু কী হচ্ছে তা তো বুঝতে পারছি না।’

বৃহস্পতিবার ঢাকার পুঁজিবাজারে প্রধান মূল্য সূচক ১০৮ পয়েন্ট কমে হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৫ পয়েন্ট। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৫৪ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক দশমিক ৩৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৯৫৬ পয়েন্টে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ব্যাপক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ সিএসইতে ৪৪ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬০৪ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ২০৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির।

ঢাকাটাইমস/০২ফেব্রুয়ারি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত