বেদে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকা

শাখাওয়াত হোসেন, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
| আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:১৫ | প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:৩২

বেদেরা বাঙালির অতি পরিচিত নৃ-গোষ্ঠী। সাধারণত ‘বাদিয়া’ বা ‘বাইদ্যা’ নামে পরিচিত ওরা। এরা নৌকায় ঘুরে বেড়ায় গ্রাম থেকে গ্রামে, বন্দর থেকে বন্দরে। কেউ সঠিক করে বলতে পারে না- কোথায় তাদের আদি নিবাস।

তবে কথিত আছে, ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে শরণার্থী আরাকান রাজ বল্লাল রাজার সঙ্গে এরা ঢাকায় আসে। পরে এরা ইসলাম গ্রহণ করে। ঢাকা থেকে প্রথমে বিক্রমপুর অঞ্চল, পরে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে এরা ছড়িয়ে পড়ে। বেদে শব্দটির অবজ্ঞাসূচক ‘বাইদ্যা’ (হাতুড়ে ডাক্তার), পরিমার্জিত ‘বৈদ্য’ (চিকিৎসক) থেকে উৎপত্তি। কালক্রমে চিকিৎসা অর্থাৎ কবিরাজিতে সম্পৃক্ত হওয়ায় ‘বৈদ্য’ ‘বাইদ্যা’ থেকে ‘বেদে’ হয়ে যায়।

এরা নৌকায় ঘুরে বেড়ায় গ্রাম থেকে গ্রামে, বন্দর থেকে বন্দরে। মাঝেমধ্যে স্থলে নোঙর ফেলে টোল বা তাঁবুতেও বাস করে।

বেদেরা নিজেদের ‘মাঙতা’ বা ‘মানতা’ নামে ডাকে। মাঙতা অর্থ মেগে বা ভিক্ষা করে খাওয়া। তারা সাপ, বাঁদর, ভাল্লুক ইত্যাদি নাচিয়ে, শারীরিক কসরত- জাদুর খেলা দেখিয়ে, পোক-জোঁক ফেলে, শিঙ্গা বসিয়ে, শেকড়-বাকড় ও তাবিজ-কবজ বিক্রি করে, তন্ত্র-মন্ত্র পড়ে- লোকজন থেকে যা পায়, তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে বলে তারা নিজেদের ‘মানতা’ নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।

১৭ শতকে বিক্রমপুরের সিরাজদিখানে বেদেরা প্রথম বসতি গড়ে। লৌহজংয়ের খড়িয়া, গোয়ালীমান্দ্র, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান বাজারের পাশের খালে এদের বসবাস চোখে পড়ে। জমির মলিকানা, স্থায়ী নাগরিকত্ব ও ভোটার হওয়ার জন্য এদের আন্দোলনও করতে হয়েছিল। কুমারভোগে এদের নির্বাচিত মেম্বার আছে।

বেদেদের সাবেক পেশায় আয় রোজগার কমে গেলে তাদের জীবনযাত্রায় নানামুখী পরির্বতন ঘটতে থাকে। কৃষি বা দিনমজুরি করে এখন এদেরকে জীবিকানির্বাহ করতে হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/৩ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত