প্রথম নারী ইসি কবিতার কথা

হারুন-অর-রশিদ চৌধুরী, নওগাঁ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:২৫ | প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪:৫৫

দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একজন নারীকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ঘোষিত নতুন নির্বাচন কমিশনে এসেছেন বেগম কবিতা খানম। তিনি অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ। প্রায় ৩১ বছর বিচারাঙ্গনে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশে এখন পর্যন্ত ১১বার নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম কোনো নারীকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য করা হলো।

কবিতা খানম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন নওগাঁর উকিলপাড়া মহল্লার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম বজলুল হক ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ। মা গোলে রানী ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী। ১৯৭২ সালে নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং একই শহরের তার পিতা যে কলেজের শিক্ষক ছিলেন সেই বিএমসি থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৮১ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৩ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৪ সালে বিসিএসে বিশেষ ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহীর জেলা জজ আদালতে মুনসেফ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ অবস্থায় বগুড়া, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঝিনাইদহ ও পাবনাতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনাতে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনাতে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৬ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান এবং খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাজশাহী লেবার কোর্টের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ওই সালেই তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা দায়রা জজ হিসেবে বদলি করা হয়। তিনি সেখানে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে আবারও তাকে রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি করা হয়। সেখানে দায়িত্বপালন শেষে ২০১৬ সালের ৩০ জুন তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কবিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষাজীবনে কবিতা অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। সাহিত্য ও গানেও ছিল বেশ বড় দখল। একসময় নওগাঁ জেলা সিপিবির সাধারণ স¤পাদক ছিলেন।

তার স্বামী মশিউর রহমান চৌধুরীও জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বৈবাহিক জীবনে তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। ছেলে চৌধুরী আবিদ রহমান রুয়েট থেকে লেখাপড়া শেষে বর্তমানে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত আছেন। মেয়ে ডা. মুমতাহিনাহ ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছেন।

কবিতা খানমের চার ভাই চার বোনের মধ্যে কবিতা তৃতীয় সন্তান। বড় ভাই বখতিয়ার মোসতাহিদ সোবহানি যিনি প্রকৌশলী হিসেবে আমেরিকা প্রবাসী। দ্বিতীয় ফরিদা বেগম যিনি নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি  কলেজ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নিয়েছেন। তৃতীয় ভাই হেলাল মোস্তাহিদ সোবহানি ব্যবসায়ী। চতুর্থ ভাই কুরাতুল আইন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নিয়েছেন। পঞ্চম সিহাব মোতাব্বির সুবহানি থাকেন আরব আমিরাতে। বোন ফৌজিয়া খানম গাইনি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। আরেক ভাই তারিক মোস্তাহিদ সোবহানি যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর হিসেবে কর্মরত আছেন। কবিতা খানমের পিতা বজলুল হক প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী বিএমসি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১০ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/এসআর/টিএমএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত