আ.লীগের দৃষ্টিতে আগামী নির্বাচনে জেতার চ্যালেঞ্জ দুটি

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:১৬ | প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:২৪

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ভোট চাইছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও আগামী নির্বাচনে তারা লড়াই করবে ধরে নিয়েই আগাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল।

২০১৯ সালের শেষ দিকে নির্বাচনকে ঘিরে আপাতত আওয়ামী লীগে চিন্তা দুটি। এক. অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দুই. সংসদ সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড। এই দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলেই টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসা কঠিন হবে না বলেই মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই পর্বে অনেকটাই হোঁচট খায় আওয়ামী লীগ। এই দুই পর্বে আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বেশিরভাগ এলাকায় জিতে যায়। পরে তৃতীয় দফায় আওয়ামী লীগ বেশিরভাগ উপজেলায় জিতে দুই পক্ষের জয় প্রায় সমান সমান হয়।

এই তিন পর্বে ৪৫টিরও বেশি উপজেলায় আওয়ামী লীগ হারে দলীয় কোন্দলের কারণে। তাদের একাধিক প্রার্থীর ভোট এসব উপজেলায় বিজয়ী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি। আর তৃতীয় ও চতুর্থ পর্ব থেকে উঠে কারচুপির অভিযোগ।

একইভাবে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও কোন্দলের কারণে ভুগেছে ক্ষমতাসীন দল। নির্বাচনী সহিংসতায় শতাধিক প্রাণহানির দায় নিতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে।

এসব ভোটকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও ধারণা করা হয়। দলের ভেতর এই অনৈক্য আর বিভেদ সংসদ নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে এ নিয়ে রীতিমত আতঙ্ক আছে আওয়ামী লীগে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হল দলীয় কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ করা। সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হয়, তাহলে আমরা যতই উন্নয়ন কর্মকান্ড করি না কেন, আগামী নির্বাচনের সুফল ঘরে তোলা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।’

এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম দল। সেখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন দলের জন্য কাল না হয় সেই বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। কিন্তু দলের স্বার্থে সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ দেশের মানুষ আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে।’

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, গত অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলনের পর থেকেই, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে তৎপর হয়েছেন। প্রতিটি ফোরামে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন। দলীয় প্রধানের কাছে তৃণমূলের নেতাদের আমলনামা দেখছেন নিয়মিত। প্রতি ছয় মাস পরপর এ আমলনামা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এই জরিপগুলোতেই মাঠপর্যায়ে দলের কোন্দল এবং সাংসদদের সঙ্গে জনমানুষের দূরত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে।

কিছু সংসদ সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড

ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে ফেলেছে সরকারকে। বিশেষ করে কক্সবাজার, ফেনী, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইলসহ বেশ কিছু জেলার বেশ কজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার দাপট দেখানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, এসব সংসদ সদস্যদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য সংগ্রহ করিয়েছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি দলীয় এবং বিভিন্ন সূত্রে জরিপও করিয়েছেন তিনি আসনভিত্তিক। আর বর্তমান সংসদের অন্তত ৫০ জন সংসদ সদস্য আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না বলেই জানাচ্ছেন সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

সম্প্রতি দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সবাইকে সেইভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দলীয় এমপিদের শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেবল উন্নয়নের কথা বললে ভোট হবে না। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। ক্ষমতায় যেতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। জনগণের কাছ থেকে অতীতে অনেক কিছু নিয়েছেন। এবার তাদের দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল সম্প্রতি কুমিল্লায় এক জনসভায় বলেছেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নন-এমন কাউকে আগামীতে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ।

এর আগে ওবায়দুল কাদের রাজধানীতে এক আলোচনায় বলেছিলেন, বেশ কয়েকজন এমপিকে ভালো হয়ে যেতে বলেছে আওয়ামী লীগ।

উন্নয়নের সুফল পাওয়ার আশা

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, টানা দুই দফাতেই দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে সেটা এখন দৃষ্টিগ্রাহ্য। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই উন্নয়নের কিছু কৃতিত্ব তাদেরও আছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, যে দেশে বিরোধী দলের মধ্যে সরকারের উন্নয়ন অস্বীকার করার প্রবণতা আছে, সেখা তারাও আজ স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে উন্নয়ন হচ্ছে ব্যাপকভিত্তিতে। এর সুফল ঘরে না উঠার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন মানেই হল চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের জয় পরাজয় আছে। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে আমরা আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। দেশের জনগণের জন্য আমাদের দল যে সকল কর্মকাণ্ড করেছে সেগুলো প্রচার করছি।’

আহমদ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ লুটপাট হয়। আর তাই দেশের জনগণ এ সকল লুটপাটকারীদের অতীতের ন্যায় আবারও প্রত্যাখান করে আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবো।’

ঢাকাটাইমস/২৮ফেব্রুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত