ঊর্ধ্বতনের বিরোধিতায় আটকে গেছে ২২ ব্যাচের পদোন্নতি

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইম
 | প্রকাশিত : ১৬ মার্চ ২০১৭, ০৮:২৩

ঊর্ধ্বতন ব্যাচের বিরোধিতায় আটকে গেছে বিসিএস ২২ ব্যাচের পদোন্নতির কার্যক্রম।  গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে কাজও চলছিল। কিন্তু তার আর শেষ হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসন চাইছে সব স্তরের পদোন্নতি চূড়ান্ত করে একসঙ্গে প্রজ্ঞাপন করা। এ জন্য সময় নেয়া হচ্ছে।

তবে ২২তম বিসিএসের পদোন্নতি আটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়,  ২২ ব্যাচের পদোন্নতির বিষয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) প্রায় সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন ব্যাচের বিরোধিতায় সেই উদ্যোগ আটকে যায়। তারা চাইছে, যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত করে একসঙ্গে দুই স্তরে পদোন্নতি দেয়া হোক।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ মোহাম্মদ হারুন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পদোন্নতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

উপসচিব পদে পদোন্নতি আটকে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ২২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মোকতার হোসেন বলেন, ‘আমরা পদোন্নতি পাওয়ার সব যোগ্যতাই অর্জন করেছি। তারপরও পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।’

এদিকে যাদের কারণে উপসচিব পদে পদোন্নতি আটকে গেল বলে জানা যাচ্ছে, সেই যুগ্ম সচিব পদপ্রত্যাশীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তাদের পদোন্নতির।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। এ বিষয়ে এসএসবি কাজ শুরু করেছে। ১৩তম ব্যাচ থেকে ফিট লিস্ট তৈরির কাজ করছে তারা।

আর উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের যতজনকে পদোন্নতি দেয়া হবে, তাদের ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে বাছাই করা হবে বলে সূত্র জানায়।

প্রশাসনে পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নিয়ম-নীতি মেনে পদোন্নতি দেয়া উচিত। নিয়ম না মেনে পদোন্নতি দিলে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা বাদ পড়ে যান। তাতে ক্ষোভ দানা বাঁধে প্রশাসনে।’

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশ পরিচালনায় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাদের ধারাবাহিকতা থেকেই যায়। সে বিবেচনায় দেশ পরিচালনায় একটি দক্ষ ও মেধাবী আমলাতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের বর্তমান আমলাদের অবস্থা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তারা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে পদোন্নতি পান বলে তাদের যোগ্যতা-দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়।

সর্বশেষ গত বছরের ২৭ নভেম্বর অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব- তিন স্তরে ৫৩৬ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয় সরকার।

যুগ্ম সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হন ১৪৫ জন, উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব ১৮৬ জন এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব থেকে ২০৫ জনকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয়।

এরও আগে গত বছরের মে মাসে অতিরিক্ত সচিব পদে ৮৫ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭০ জন এবং উপসচিব পদে ৬২ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়।

তবে সর্বশেষ বিশাল পদোন্নতির ঘটনায়ও প্রশাসনে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেন।  অভিযোগ ওঠে, বেশ কিছু দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা সে সময় বাদ পড়েন। তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দফাতেও কেউ কেউ পদোন্নতি পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬মার্চ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত