দুদণ্ড শান্তি উবারে

সৈয়দ ঋয়াদ
 | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৭, ১২:০৪

যানজট ও পরিবহন নৈরাজ্যের শহরে হঠাৎই যাত্রা শুরু করল অ্যাপভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিবহন সেবা ‘উবার’। গত বছরের ২২ নভেম্বর ‘অন ডিমান্ড’ এই পরিবহন সেবাটি চালু হওয়ায় এর সঙ্গে পূর্ব পরিচিত যারা ছিলেন তারা অনেকেই আনন্দিত হয়েছিলেন। সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন ঠিক সেই সময়ে এমন একটি পরিবহন সেবা চালু হওয়ার তিনদিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

পরিবহন নৈরাজ্যের এই শহরে পৃথিবীর আধুনিকতম সেবাটি বন্ধ করার প্রতিবাদে সেসময় অনেকেই সমালোচনায় মুখর হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ কেউ ‘উবার’ বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে এক হাত নিয়েছেন  যোগাযোগমন্ত্রী এবং বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে। তবে সমালোচনার তোপ সামলাতে না পেরে কিছু দিনের মধ্যেই এই পরিবহন সেবাটি চালুর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বিআরটিএ।

কেন ব্যতিক্রম?

ঢাকা শহরের ট্যাক্সিক্যাব কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্যে  বিরক্ত নগরবাসী। রাজধানীতে ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজি অটোরিকশাচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে উবারকে স্বাগত জানায় রাজধানীবাসী। কারণ সরকার নির্ধারিত ভাড়া কিংবা মিটারের ভাড়া নেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে এর কোনোটাই মানছেন না সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা ট্যাক্সিক্যাবগুলো। নির্ধারিত ভাড়া নেই এদের। যাত্রীদের বিপদে ফেলে বেশি ভাড়া হাঁকিয়ে নেওয়ায়ই যেন এদের প্রধান কাজ।

যে শহরে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিক্যাব উবার (টইঊজ) প্রথম শুরু হয় সেই সানফ্রানসিসকোর বাংলাদেশি নাগরিক আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন উবার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, আমি নিজেও একজন উবার ইউজার, ‘এটি পৃথিবীর সব দেশেই বেশ জনপ্রিয়। অন্যান্য ট্যাক্সিক্যাব এত ভালো সেবা দিতে পারে না। শুধু গুণগত সেবার কারণে আমেরিকার জনপ্রিয় ইউলোক্যাবের মতো বড় ট্যাক্সিক্যাব কো¤পানিও উবারের কারণে দেউলিয়া হওয়ার পথে।

উবারের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি আছে এমন যে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধনের মাধ্যমে উবারের চালক হয়ে যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ প্রতিটি ড্রাইভারের বৈধ কাগজপত্র এবং গাড়ির বৈধ কাগজ সব কিছু জমা রেখেই নিবন্ধন করা হয় একজন উবার ড্রাইভারের। একই অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা পাবেন যাত্রীরা। ‘উবার’ যাত্রীদের ভাড়া বিষয়টি নির্ধারণ করবে এর অনলাইন অ্যাপ। যাত্রী কতটুকু যাবে ঠিক সেই অনুপাতেই  এই অনলাইন অ্যাপটি ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনডিমান্ড অনুসারে অ্যাপে ক্লিক করলেই নিকটস্থ গাড়ি চলে আসবে বাসার সামনে।

স্মার্টফোনে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে চালক ও যাত্রী যোগাযোগের মাধ্যমে মূলত পরিবহন সেবাটি নেওয়া যায়। ভাড়ার বিষয়টিও অ্যাপনির্ভর হওয়ায় যাত্রীদের কাছে এই সেবাটি পৃথিবীর অনেক দেশেই বেশ জনপ্রিয়। অ্যাপভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিবহন সেবাটি এখন পৃথিবীর ৬৬টি দেশের ৫১৬টি শহরে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার রাস্তায় যখন পরিবহন নৈরাজ্য ক্রমশই বেড়ে চলেছে তখন এই শহরের যাত্রীদের কাছে পরিবহনে স্বস্তির নামই ‘উবার’। গণপরিবহনগুলোর ভাড়ার যদি নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা থাকত তাহলে নিশ্চয়ই এই শহরের মানুষ  যাপিত জীবনে একটু হলেও শস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত