স্পঞ্জের স্পর্শে নিখুঁত মেকআপ

তানিয়া আক্তার, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ১৪:১৬ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৭, ১৪:০৬

শুধু সাজলেই হয় না। তা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারল কি না, সেটাও ভাবতে হবে। সাজ তাই নিখুঁত হওয়া চাই। এর জন্য সাজের সহায়ক উপকরণ ভালো হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম সারিতেই থাকবে মেকআপ স্পঞ্জের নাম। ত্বকে মেকআপ ভালোভাবে মেশাতে এবং স্থায়িত্ব দীর্ঘ করতে এর জুড়ি নেই। বেস মেকআপে চমৎকার ফল মেলে এই স্পঞ্জের ছোঁয়ায়।

সৌন্দর্যে সচেতন হলেও অনেকেই ত্বকে তরল, ক্রিম এবং পাউডার প্রসাধনী হাতেই মিশিয়ে থাকে। কিন্তু হাত কিংবা পাফ ব্যবহারে ত্বকের নানা ভাঁজে গিয়ে পৌঁছায় না কাক্সিক্ষত প্রসাধনী। কারণ সবার মুখের গড়নে আছে ভিন্নতা। এভাবে প্রসাধনীর ব্যবহারে ত্বকের মসৃণতার পাশাপাশি উজ্জ্বলতাও নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে। তাই মেকআপের আগেই সাজের সহায়ক উপকরণ নির্বাচন করা প্রয়োজন। এর মধ্যে মেকআপ স্পঞ্জ সহজেই নিখুঁতভাবে মিশিয়ে দেয় মেকআপ।

মুখের গড়ন অনুসারে বিভিন্ন আকারের স্পঞ্জ রয়েছে। ত্বকের আকার অনুযায়ী স্পঞ্জগুলোর সঠিক ব্যবহারে সাজ পূর্ণতা পাবে। মেকআপ স্পঞ্জের মধ্যে আছে বিউটি ব্লেন্ডার স্পঞ্জ। এটি এতই কার্যকরী যে, আনাড়িরাও বিজ্ঞদের মতো সাজে পূর্ণতা আনতে পারবে। লিকুইড ফাউন্ডেশন, ব্লাশ, ক্রিম ফাউন্ডেশন এবং কনসিলার ব্যবহারে এই স্পঞ্জ খুব ভালোভাবে মেশাতে পারে। মুখের তীক্ষè কোণে সহজেই প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। এছাড়া  খুব ভারী ফাউন্ডেশনকে হালকা ওজনের করে নেয় । মসৃণ বেস মেকআপ পেতে এটি অতুলনীয়। স্পঞ্জের ব্যবহারে প্রসাধনীর অপচয় রোধ করে।

হারমনি স্পা ও ক্লিউপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতানা রীতা বলেন, ত্বকের ধরন বুঝে মেকআপ করতে হয়। বিভিন্ন ধরনের ত্বক রয়েছে আমাদের। একেক ত্বকের মেকআপ একেক রকম হবে। ত্বক অনুযায়ী প্রথমেই প্রয়োজন কনট্যুরিং করা। মুখের ধরন যেমনই হোক না কেন কনট্যুরিং করে ওভাল শেপে নিয়ে আসতে হবে। মেকআপ স্পঞ্জগুলোর আকার অনুযায়ী মুখের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করতে হবে। স্পঞ্জগুলো প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ধুয়ে শুকিয়ে রাখতে হবে। তবে মেকআপ স্পঞ্জগুলো ২ মাসের বেশি ব্যবহার করা ঠিক না।

কনট্যুরিং স্পঞ্জ মুখের কঠিন জায়গায় প্রসাধনী পৌঁছে দেয়। মুখের ধরন যেমনই থাকুক না কেন কনট্যুর করে আদর্শ শেপ অর্থাৎ ডিম্বাকৃতির রূপ দেওয়া হয়। ফলে সহজেই নিখুঁত সাজ সম্ভব হয়। এটি  চেহারার  খুঁতগুলো  ঢেকে দেয়। এই স্পঞ্জগুলোর আকার সাধারণত টিয়ার  শেপড বা এগ শেপড হয়। কনট্যুরিং স্পঞ্জ দিয়ে লিকুইড আর ক্রিম দুই ধরনের প্রসাধনীই ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া গাঢ় শেডের ব্রোঞ্জারের রং হালকাও করা যায়।

কসমেটিক স্পঞ্জ সবার পরিচিত। এটি দামে কম, সহজলভ্য এবং টেকসই হয়। এর ব্যবহার মূলত ক্রিম, লিকুইড প্যানকেকের জন্য। শুকনো কিংবা ভেজা দুই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। স্পঞ্জটি অতিরিক্ত লিকুইড শুষে নেয় এবং বেস  মেকআপের জন্য সবচেয়ে ভালো।

ত্বক পরিষ্কার করার জন্য সেলুলোজ স্পঞ্জ জনপ্রিয়। এটি খুব কোমলভাবে ত্বকের মরা  কোষ দূর করতে দারুণ উপযোগী। এটা দুই দিক থেকেই ব্যবহার করা যায়। ভারী  মেকআপ তোলা আর ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করার জন্য এর কোনো জুড়ি নেই। সহজেই ভারী মেকআপ তোলে এবং   রোমকূপের ভেতর পর্যন্ত পরিষ্কার রাখে।

জেনে নিন

সৌন্দর্য সচেতন নারীদের ভীষণ প্রয়োজনীয় সামগ্রী মেকআপ স্পঞ্জ।  এটা পুরনো হলে এর থেকে  ত্বকে  র‌্যাশসহ নানা রকম  সমস্যা হতে পারে। মেকআপ স্পঞ্জ আর মুখের ত্বক দুই-ই রাখতে প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর ধুয়ে পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
ত্বকে ব্যবহারের আগে স্পঞ্জ ভেজা থাকবে কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ভেতরে পানি না থাকে। এতে  বেস ফিনিশটাও ভালো হয়। যদি এটি থেকে বাজে গন্ধ বের হয় তবে ফেলে দিতে হবে। স্পঞ্জ থেকে জেদি  মেকআপের দাগ দূর করতে বেবি অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/টিএ/টিএমএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত