শহীদ মিনারে মিজারুল কায়েসকে শেষ শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৭, ১৫:৫১

শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আর চোখের জলে সদ্য প্রয়াত ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসকে বিদায় জানালেন সর্বস্তরের মানুষ। রবিবার দিবাগত রাতে ব্রাজিল থেকে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। সকাল আটটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথম জানাজা শেষ মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হলে সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সাবেক সহকর্মীরা মিজারুল কায়েসকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সকাল ১০টার দিকে শহীদ মিনারে মরদেহ নেয়ার পর তাতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ ও বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের পক্ষ থেকে সভাপতি মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।

এছাড়া বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, ঢাকা কলেজ, ঢাকাস্থ পাকুন্দিয়া ছাত্র সংগঠন, সাবেক কূটনীতিকরা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাও ছুটে আসেন প্রিয় মানুষটির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণও করেন শুভানুধ্যায়ীরা। স্মৃতিচারণকালে সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম বলেন, মিজারুল কায়েস শুধু কূটনীতিক হিসেবে দক্ষ ছিলেন না। তিনি শিল্পগুণে ভরপুর ছিলেন। মানুষকে আনন্দ দেয়া ছিল তার স্বভাব। ক্ষণজন্মা এই বাঙালির অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দীক বলেন, মিজারুল কায়েসের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তিনি দক্ষ আমলা ও যোগ্য কূটনীতিক ছিলেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শুরুর সময়ের ছাত্র ছিলেন মিজারুল কায়েস। প্রতিষ্ঠানটি করতে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালক ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি শাহ আলম সারোয়ার বলেন, সাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠত মিজারুল কায়েসের উপস্থিতিতে। শুধু বই পড়ে নয়, জ্ঞান আহরণের জন্য মিজারুলের উৎসাহে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াতাম।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, মিজারুল কায়েসকে সকলে কূটনীতিক হিসেবে চেনেন। কিন্তু বিশ্ব সাহিত্য সম্পর্কে তার ছিল অগাধ জ্ঞান।

প্রয়াত মিজারুল কায়েসের বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব.) ইমরুল কায়েস বলেন, মা-বাবার কাছে থাকতে চাইত কায়েস। তাকে বনানী কবরস্থানে তাদের পাশেই কবর দেয়া হবে। এর আগে হেলিকপ্টারযোগে তাকে মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া নেয়া হবে।

ইমরুল কায়েস বলেন, পাকুন্দিয়ায় আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেলিকপ্টার চেয়েছিলাম, তিনি বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দিয়েছেন। এতে করেই মিজারুল কায়েসকে ওইদিন ঢাকা আনা হবে।

দুপুর ১২টা পর্যান্ত মিজারুল কায়েস প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন চলে। এর আগে, সোমবার সকাল আটটার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিজারুল কায়েসের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৪ সাল থেকে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মিজারুল। এর আগে তিনি রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা মিজারুল কায়েস ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পেশাদার কূটনীতিক জেনেভা, টোকিও এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ মিশনের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অর্থনৈতিক বিষয়াবলী, আনক্লস ও বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বও পালন করেছেন।

২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণ সভা ও ২৩ মার্চ বাদ মাগরিব শাহীন অডিটোরিয়াম কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে মিজারুল কায়েসের।

ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত