প্রবাসীদের কল্যাণে বোর্ড হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ১৯:১৯ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৭, ১৮:৫২

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে অবশেষে গঠন হচ্ছে বোর্ড। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অংশীদার প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা ও অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসন করবে এ বোর্ড।

সোমবার‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন-২০১৭’নামে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক কাজ করছেন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে প্রতিবছরই তাঁরা বিপুল রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন দেশে। জিডিপিতে এর অবদান ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ ৪৫ বছরেও এ বিপুল প্রবাসীর কল্যাণে কোনো বোর্ড গঠন করা হয়নি। প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি বোর্ড গঠনের দাবি করে আসছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আইনের খসড়ায় প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।  প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক একটি কনভেনশন আছে। সেটি হচ্ছে- ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন দি প্রটেকশন অব দি রাইটস অব অল মাইগ্রেন্টস অর্কারস অ্যান্ড দি মেমবার্স অব দেয়ার ফ্যামিলিজ ইন ১৯৯০’। এটি জাতিসংঘের একটি কনভেনশন। আমরা যেহেতু এটার স্বাক্ষরকারী, সে হিসেবে কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের একটি আইন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে কারণেই এই নতুন আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

সচিব বলেন, এতদিন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বিধিমালা-২০০২ দিয়ে  এটি পরিচালিত হত। এটাকে একটু গুছিয়ে আইন আকারে নিয়ে আসা হয়েছে। অভিবাসীর সংজ্ঞাটি আমরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন-২০১৩ এর থেকে নিয়েছি। ওখানে এর সংজ্ঞা থাকায় আমরা এটিকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করিনি। এখানে একটি বোর্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রবাসীকল্যাণ বোর্ড।

শফিউল আলম বলেন, প্রবাসীগামী শ্রমিকদের জন্য ট্রেনিং, প্রকল্প গ্রহণ তাদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ, প্রবাসে কেউ মারা গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা, তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়া। বিদেশে কর্মরত কোনো নারী কর্মী অপরাধে জড়ালে, আহত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার ও আইনি সহায়তা দেয়াসহ ২১ ধরনের কাজ করবে বোর্ড।

তিনি বলেন, বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ হবে ১৬জনের। এতে প্রবাসী কল্যাণ ও  বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব চেয়ারম্যান এবং প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (ন্যূনতম যুগ্ম সচিব মর্যাদা) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সরকার মনোনীত বিদেশ ফেরত দুজন (একজন নারী), জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য থাকবেন।

আইনটি পাস হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের চলমান কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রবাসীকর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, কর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থায়নসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে।

(ঢাকাটাইমস/২০মার্চ/এমএম/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত