কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী হাসপাতালে

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ২০:২৮

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।

জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার সকালে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার পর এসব শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে রামকানাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সিদলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও রয়েছে।

সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সকালে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর অনেক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে যায়। কারো মাথা ব্যথা, বুক ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।’

বিদ্যালয়টির অভিভাবক সদস্য ওমর ফারুক বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শিক্ষার্থীদের সেবার নিয়োজিত ছিলাম। আমি নিজেই প্রায় ৫০/৬০ জন শিক্ষার্থীর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম।’

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুহিলপুর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমা, আঁখি, মরিয়ম, সানজিদা, আছমা, সাবিনা, শান্তা, লিপি, তানজিনা, সুমাইয়া, সুমনা, নাজমিন, সাবিনা, বৃষ্টি, খাদিজা, মারজান, ফারজানা, তামান্না, রাবেয়া, রোকসানা, সানজিদা, নাছরিন, আনিকা, জান্নাত, মাছুম, রমজান, নাছির ও সাকিবের নাম জানা গেছে। তারা সবাই ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে অন্য শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ইসরাফিল জানান, বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো শুরু হয়। ওষুধ খাওয়ার পর অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এদিকে কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে শিক্ষার্থী মারা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাঙচুর করে এলাকাবাসী। পরে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাবেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এছাড়া একই ওষুধ খেয়ে রামকানাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সিদলার একটি মাদ্রাসার ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। তাদেরকেও হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহম্মদ জানান, ‘জরুরি চিকিৎসার জন্য ২০ জন চিকিৎসক, ১০ জন প্যারামেডিকেল চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেন। তিনি বলেন, দুঃচিন্তার কোনো কারণ নেই। সব শিক্ষার্থী সেরে যাবে।

ঢাকাটাইমস/৩এপ্রিল/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত