ডিমলায় অস্তিত্বহীন প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকায়

নীলফামারী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:১৪

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় অস্তিত্বহীন একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম উঠেছে জাতীয়করণের তালিকায়। কাগজে কলমে স্কুলটির অস্তিত্ব দেখানো হয়েছে উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ি গ্রামে। কিন্তু সেখানে এই নামে কোনো স্কুলের অস্তিস্ত নেই।

বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সঙ্গে ওই বিদ্যলয়ের চারজন শিক্ষকের নামভুক্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ঘটনাটি ফাঁস হয়। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-১ শাখা কর্তৃক (স্মারক নম্বর ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.১৪.০১.২০১৫-১১৯) চলতি বছরের ২৩ মার্চ জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে দেশের ৯৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়। এর মধ্যে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম রয়েছে তালিকার ৪৩ নম্বর ক্রমিকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিগ্রহণ আইনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই সব বিদ্যালয় সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করেছে।

এই প্রতিবেদক রবিবার সরেজমিনে গিয়ে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। বিদ্যালয় হিসেবে যে স্থানটি বা ঘর দেখানো হয়েছে সেটি আছিয়া খাতুন নি¤œমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এটি ২০০১ সালের আগে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন গয়াবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বর্তমানে কর কমিশনার আব্দুর রহমান। এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তার ছেলে শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন।

মুন বলেন, ‘দাদির নামের নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি এখন তার মা লায়লা রহমান পরিচালনা করছেন। এখানে কোখনো পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না এবং এখনো নেই। তবে, জানতে পেরেছি কোনো চক্র আছিয়া খাতুন নি¤œমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জায়গা ও ঘর দেখিয়ে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এখন শিক্ষকের নামের তালিকা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অবাক।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মালেকা বেগমসহ চারজন শিক্ষক ছিলেন। অপর তিনজন হলেন মমতাজ বেগম, ফরিদা আক্তার ও শরীফা খাতুন। সেখানে নতুন করে আরো দুজন শিক্ষক যোগ করা হয়। তারা হলেন মুক্তা আক্তার ও সুফিয়া খাতুন। প্রভাবশালী চক্রটি ফরিদা আক্তার ও মমতাজ বেগমের নাম বাদ দিয়ে নতুন দুজন শিক্ষকের নাম জাতীয়করণের জন্য উঠেপড়ে লাগায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়ে।
আছিয়া খাতুন নি¤œমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০০ গজ দূরে রয়েছে শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ময়নুদ্দিন বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন তার স্কুলের কাছেই পশ্চিম খড়িবাড়ি নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই নামে স্কুলের কোনো অস্তিত্ব আছে বলে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘এলাকার সব ছাত্রছাত্রী তো আমার স্কুলেই পড়ছে।’  

আছিয়া খাতুন নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আমিন বলেন, তার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩১ জন ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানে পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বলে কিছু নেই।   

এ ব্যাপারে সদ্য জাতীয়করণ হওয়া পশ্চিম খড়িবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মালেকা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা বালাপাড়া ইউনিয়নে থাকেন। কাগজে কলমে তার স্কুল সঠিক ও নিয়ম অনুযায়ী চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি তার স্কুলটি আছিয়া খাতুন নি¤œমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে তদন্ত করে স্কুলটি জাতীয়করণ করেছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্কুলের জায়গা না থাকায় চলতি বছর ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। গয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মুনকে বলেছি জায়গা দিতে। কিন্তু তারা জায়গা না দেয়ায় স্কুলের ঘর নির্মাণ করা যাচ্ছে না। শিক্ষক জটিলতার প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতীয়করণে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন থাকবে। এখন ছয়জন শিক্ষক। ফলে শিক্ষক নামের তালিকা করে জাতীয়করণে জটিলতা দেখা দিয়েছে।  

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা-রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, তাই ওই স্কুল সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না। তবে এবারের জাতীয়করণের তালিকায় পশ্চিম খড়িবাড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম রয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/১০এপ্রিল/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত