বৈশাখী শাড়ি বানাতে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী

রেজাউল করিম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:২৭ | প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:১৫

আসছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনটিকে বরণ করতে উন্মুখ হয়ে আছে কোটি কোটি বাঙ্গালি হৃদয়। সরকারি-বেসরকারি  সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও দিনটি উদযাপন করে ধুমধামের সঙ্গে। বর্ষবরণের এই দিনটিকে আনন্দময় করতে নারীদের চাই নতুন কাপড়। আর নারীদের বৈশাখী সাজে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী। নববর্ষকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল শাড়িতে যোগ হয়েছে বাহারি রঙ আর নতুন কারুকাজ। বৈশাখের আগেই নিপুন হাতে বৈশাখী শাড়ি তৈরি শেষ করতে হচ্ছে। এ কারণেই তাঁতপল্লীর তাঁতীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল সদরের বাজিদপুর, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ও চন্ডী ও কালিহাতীর বল্লা রামপুরের তাঁত সমৃদ্ধ এলাকায় ব্যস্ততার একই চিত্র দেখা যায়। ভোর না হতেই শুরু তাঁতের খটখটি শব্দ। রাতভর কাজ করেও তাঁতীর ক্লান্তি নেই। প্রতিযোগিতা একটাই, উৎপাদন যত বেশি হবে, সাপ্তাহিক বিল তত বেশি পাবে। সুতা রং করা থেকে শুরু করে শাড়ি বাজারে বিক্রি করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পরিবারের সব বয়সের মানুষ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এক সময় দেশীয় শিল্পিদের নিপুন হাতে তৈরি মসলিন কাপড় রমনীদের নজর কেড়েছিল। সময়ের বিবর্তনে পুরোনো মসলিনের কথা আধুনিক নারীদের স্মৃতিতে ধারন না থাকলেও টাঙ্গাইলের তৈরি তাঁতের শাড়ি সেই মসলিনের মতই দেশি বিদেশি রমনীদের মনে স্থান করে নিয়েছে। এজন্যই প্রবাদ রয়েছে  ‘নদী নালা খাল বিল গজারীর বন টাঙ্গাইলের শাড়ি তার গর্বের ধন।’

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে নেমেছে নতুন শাড়ি।  ভিন্ন বুটি আর নতুন নকশায় তৈরি এসব শাড়ি বেশ বিক্রি হচ্ছে।

দেশের সবচেয়ে বড় তাঁতের শাড়ির হাট টাঙ্গাইলের করটিয়া ঘুরে দেখা যায়, তাঁতিরা তাদের উৎপাদিত কাপড় নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। স্থানীয় ও দূর থেকে আসা অধিকাংশ ক্রেতাদের চাহিদাই এখন বৈশাখের শাড়ি। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে অনেকটাই উপযোগী টাঙ্গাইল শাড়ি। মূল্যসীমা হাতের নাগালে রয়েছে সুঁতি বৈশাখী শাড়ি। যার খুচরা মূল্য ৩ থেকে ৪শ’ টাকার মধ্য। এছাড়া সিল্ক ,সপসিল্ক, রেশন ও দুতারের মধ্যেও রয়েছে উন্নতমানের বৈশাখী শাড়ি। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।

শাড়ি বিক্রেতা মীর জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে স্থানীয় ও বহিরাগত অধিকাংশ গ্রাহকের চাহিদাই বৈশাখী শাড়ি। বিক্রির হারও বেড়েছে।

বৈশাখী শাড়ির চাহিদা মেটাতে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীর পরিবেশ এখন উৎসব মুখর। ব্যস্ত সময় পাড়ি দিচ্ছে এ অঞ্চলের তাঁত শিল্পীরা। তাঁতশিল্পী লাভলু মিয়া বলেন, সামনে পহেলা বৈশাখ। এর আড়াই মাস পর ঈদ। সব মিলিয়ে ব্যস্ততা অনেকটাই বেড়েছে।

টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন জানান, উৎসবনুসারে টাঙ্গাইল শাড়ির কারুকাজ ভিন্ন হয়। বৈশাখীকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শাড়িতে যোগ হয়েছে ভিন্নধর্মী নকশাও কারুকাজ। যা সহজেই নারীদের পছন্দনীয়। চাহিদা পুরণ করতে টাঙ্গাইল শাড়ি যুগপোযোগী।

ঢাকাটাইমস/১১এপ্রিল/আরকে/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত