যাপন

খুঁতমুক্ত ত্বকের জন্য

তানিয়া আক্তার
 | প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:১৫

প্রতিদিনের সাজে সৌন্দর্য ঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলাই সার্থকতা। কিন্তু মুখের দাগ, চোখের কালি (ডার্ক সার্কেল), ত্বকের লালচে ভাব (রেডনেস) সাজকে সেই পূর্ণতা থেকে বঞ্চিত করে। কনসিলার এবং কালার কারেক্টারের নির্ভুল ব্যবহারে সাজকে করে তুলবে সহজ। এতে ত্বক দেখাবে নিখুঁত ও সুন্দর।

কনসিলার মানেই কিছু কনসিল করবে বা ঢেকে দেবে। নিজের গায়ের রঙের সঙ্গে মিলানো কনসিলার চেহারার খুঁতগুলোকে ঢেকে আকর্ষণীয় দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে। এটি ফাউন্ডেশনের চেয়ে হালকা হয়ে থাকে এবং তরল, কিংবা আঠালো উভয় ধরনের হয়। আর কালার কারেক্টার কনসিলারের মতো ত্বকের রঙের না হয়ে বরং ভিন্ন রঙা হয়ে থাকে। এটি মুখের ভিন্ন ভিন্ন দাগ ঢাকতে ব্যবহৃত হয়। তবে কনসিলারের চেয়ে ঘন ও ভারী আর আঠালো হয়।

কনসিলার এমন একটা জিনিস যা একটু এদিক-সেদিক হলেই পুরো সাজটাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার বেশ সম্ভাবনা থাকে। কারণ দাগ দূর করতে গিয়ে নতুন দাগের সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা কালার কারেক্টিং কনসিলারও ব্যবহার করতে হবে।

রেড বিউটি পার্লার অ্যান্ড স্যালনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা পারভীন বলেন, ‘কনসিলার আর ফাউন্ডেশনের মধ্যে কোনটা আগে ব্যবহার করতে হবে এ নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে প্রথমে কনসিলার ব্যবহার করে তারপর ফাউন্ডেশন ত্বকে ব্যবহার করতে হবে। তবে বরাবরের মতো সবার প্রথমে প্রাইমার তো অবশ্যই লাগিয়ে নিতে হবে।’

কনসিলার আগে ব্যবহার করার নিয়ম হচ্ছে কোথায় দাগ আছে সেটা ভালোভাবে শনাক্ত করে মিশিয়ে নেওয়া যায়। কারণ ত্বকের পৃরো রং একই থাকে না। কোথাও কালচে আবার কোথাও লালচে থাকে। ঠোঁটের এবং নাকের দিকে ত্বকের ভিন্নতার বেশি দেখা যায়। কনসিলার ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে মিশে যায়। তখন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে সুবিধা হয়। কনসিলার দেওয়ার পরও কিছু দাগ দেখা যায় সেগুলো কালার কারেক্টিং দিয়ে খুঁতগুলো ঢেকে দিতে হবে। কমলা রঙের কালার কারেক্টার চেহারার নীলাভ ভাব দূর করে। ডার্ক সার্কেল ও ছোটখাটো কালো দাগ ঢাকতে এটি বেশ উপকারী। আবার পিচ রঙা কালার কারেক্টার কমলা রঙের মতোই কাজ করে তবে খুব বেশি ফর্সা ত্বকে বেশি উপযোগী। কনসিলারটি ভালোভাবে মেশাতে হবে। কনসিলার ব্যবহারের পর তা পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে হবে।
সহায়ক উপকরণ

কনসিলার ব্রাশ, বিউটি ব্লেন্ডার কিংবা আঙুলের মাধ্যমেই ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাইক্রো বা মিনি সাইজের বিউটি ব্লেন্ডারও ব্যবহার করা যায়। ফাউন্ডেশন মেকআপের বেইস তৈরি করে দেয় আর কনসিলার মুখের দাগ ছোপসহ অন্য খুঁতগুলো ঢেকে দেয়।

জেনে নিন
    একটি কটনবাডে লিকুইড কনসিলার লাগাতে হবে। এটি চোখের পাপড়িতে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর মাশকারা লাগিয়ে নিলে চোখের পাপড়িগুলো অনেক ঘন মনে হবে।
    আইব্রো আঁকতে গিয়ে বেশি মোটা হয়ে গেছে বা ছড়িয়ে গেলেও সমস্যা নেই। সেখানে ছোট ব্রাশে কনসিলার লাগিয়ে মিশিয়ে নিন। আবার আইব্রোর চারদিকে লাগিয়ে নিতে পারেন, এতে আইব্রো হাইলাইট হবে এবং আইব্রো অনেক শার্প মনে হবে।
    লিপস্টিকের রং ঠোঁটে ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পুরো ঠোঁটে অল্প একটু কনসিলার লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর লিপস্টিক ব্যবহারে এর আসল রঙটি ফুটে ওঠে।
    আই লাইনার বা আই শ্যাডো দেওয়ার সময় বাইরের দিকে ছড়িয়ে গেলে একটু কনসিলার নিয়ে ছোট একটি ব্রাশের সাহায্যে যেখানে লাইনার বা শ্যাডো ছড়িয়ে গেছে সেখানে লাগিয়ে নিতে হবে। ফলে লাইনার বা শ্যাডো বাইরের দিকে অনেক শার্প লাগবে এবং ক্যাট আই লুক পাবেন।

কোথায় পাবেন
বাংলাদেশে কনসিলার পেলেট পাওয়া যায়। তবে কমলা অথবা হলুদ কালারের পেন স্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে। আর ত্বকের শেডের কনসিলার আমাদের দেশে অনেক ব্র্যান্ডের পাওয়া যায়। আর সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে কিছু ভালো কনসিলারের নামÑ মেবিলিন ফিট মি কনসিলার, এল. এ গার্ল প্রো এইচডি কনসিলার, মেবিলিন এইজ রিউইন্ড কনসিলার, রেভলন ফটোরেডি স্টিক কনসিলার, মুয়া মেকাপ একাডেমি কাভার গার্ল কনসিলার ইত্যাদি। এর দাম পড়বে ৪০০ টাকা। রাইফেলস স্কয়ার এবং যমুনা ফিউচার পার্ক ব্রাঞ্চ থেকে নিজে দেখে কিনে নেওয়া যায় অথবা কিছু অনলাইন থেকে ঘরে বসেও অর্ডারে পাওয়া যাবে এ পণ্যগুলো।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত