প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরেও নির্বাচন দেখেনি বোদা পৌরসভা

বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:১০

মেয়াদ শেষে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রায় সব পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পরও নির্বাচন হয়নি পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার। সীমানা নিয়ে দফায় দফায় মামলার কারণে নির্বাচনবঞ্চিত এই পৌরসভা কবে নির্বাচিত প্রতিনিধি পাবে কিংবা আদৌ কখনো নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে পৌরবাসী।

সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা উপজেলা নির্বাচন অফিসও এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলতে পারছে না। পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে করা মামলা-মোকদ্দমায় বারবার বাতিল হচ্ছে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল।

নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী। উন্নয়নকাজ, কর আদায়, ইজারা কার্যক্রম, বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও ঘোষণা, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার-  সবই চলছে পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে। জনপ্রতিনিধিহীন এই পৌসভায় ‘ওপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট’-এর মতো এক বছর আগে কোটি টাকায় নির্মিত সুবিশাল পৌর ভবন।

আমলানির্ভর বোদা পৌর প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে¡ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পৌরবাসী। নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ ও গরু-মহিষ বিক্রির প্রত্যয়নপত্র, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ সব বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় এবং হয়রানি পৌরবাসীকে অসহায় করে তুলেছে। বৈদ্যুতিক বাতি বরাদ্দে চলছে পক্ষপাতিত্ব।

২০০১ সালে বোদা উপজেলার বোদা ও চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের অংশবিশেষ এবং আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার ও কুড়–লিয়া মৌজা নিয়ে বোদা পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু শুরুতে পৌরসভার সীমানা জটিলতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সালে বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার ও কুড়–লিয়া মৌজাকে বাদ দেয়ার জন্য জনৈক আজিজার রহমান হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। ২০০৩ সালে রুল ডিসচার্জ করে রায় দেন আদালত।

ওই এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে  সাতখামার ও কুড়–লিয়া মৌজা দুটি বাদ দিয়ে বোদা পৌরসভার সীমানা সংকুচিত করে। মৌজা দুটি বাদ দিয়ে ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর ঘোষণা করা হয় এই পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল। কিন্তু ২০০৫ সালে জনৈক আহসান হাবীর সাতখামার ও কুড়–লিয়া মৌজা দুটিকে বাদ দিয়ে কেন নির্বাচন করা হবে, এই মর্মে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এই রুলও ডিসচার্জ করে ২০০৭ সালে রায় দেন আদালত।

২০১০ সালে বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার ও কুড়লিয়া মৌজা দুটি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে বোদা পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারিত করা হয়। ২০১১ সালে বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার ও কুড়–লিয়া মৌজাকে বাদ দেয়ার জন্য জনৈক হাইতুন নবী, ইসমাইল ও নুরনবী পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ফলে বোদা পৌরসভার নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

পৌরবাসীর সন্দেহ, আমলাতান্ত্রিকতা টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বোদা পৌরসভার সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা জিইয়ে রাখার প্রবণতা দেখছেন তারা। মামলা-মোকদ্দমার পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টির কৌশলের কাছে বারবার মার খাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিজয় কুমার বর্মন জানান, ইতিমধ্যে সব মামলা খারিজ হওয়ায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নির্বাচনের প্রস্তুতিস্বরূপ ওয়ার্ড বিভক্তি সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৯এপ্রিল/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত