বিআরটিসির বাসগুলোতেই অরাজকতার শেষ নেই

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ থেকে
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১১:১২ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:০৫

সরকারি সার্ভিস বিআরটিসির বাসগুলোই নিয়ম মেনে চলছেনা। এখানেও বিআরটিসির বাস লিজ নেয়া ব্যক্তি-মালিকদের দৌরাত্ম। সিটিং সার্ভিসের নামে ভাড়া বেশি নেয়া, যেখানে-সেখানে যাত্রী উঠানো, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এগুলোই এখন ঢাকা-মানিকগঞ্জ রোডে চলা বিআরটিসি বাসগুলোর চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে ঢাকা-মানিকগঞ্জ রোডে চলাচলকারী বিআরটিসি বাসগুলো লিজ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন এর সাথে জড়িত কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।         

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আরিচা-পাটুরিয়া থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে গুলিস্থান পর্যন্ত চলাচল করা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) এর বাসসেবায় বিরাজ করছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।

সোমবার দুপুর ১২টায় বিআরটিসি (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-২৮৯২) বাসে পাটুরিয়া থেকে মানিকগঞ্জ এসেছেন যাত্রী আবুল হোসেন। বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নেমেই আবুল হোসেন পাশেই একটি হোটেলে পানি খেতে বসেছেন। এ সময় আবুল হোসেনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। বেলা সাড়ে ১০টায় পাটুরিয়া থেকে তিনি বিআরটিসি গাড়িতে উঠেছেন আর মানিকগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড নেমেছেন বেলা ১২টায়। এর কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে বহনকারী বিআরটিসি বাসটি একদিকে ধীর গতিতে চলছিল, অন্যদিকে আরিচা মহাসড়কের সব কয়টি ষ্ট্যান্ডে থামিয়ে যাত্রী তোলা হয়েছিল। শুধু তাই নয় মহাসড়কের যেখান সেখান থেকে যাত্রী তুলে গাড়ি ভরছিল গাড়ির চালক ও হেলপার। এ কারনে পাটুরিয়া থেকে মানিকগঞ্জ আসতে তার আধা ঘন্টার জায়গায় সময় লেগেছে দেড় ঘন্টা। এই হলো আরিচা-পাটুরিয়া থেকে গুলিস্থান চলাচলকারী বিআরটিসি বাসের সেবার নামে যাত্রীদের সাথে প্রতারণা ।

এ বিষয়ে কথা হয় বিআরটিসি বাসের মানিকগঞ্জের ব্যবস্থাপক ফজলুর হকের সাথে। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ থেকে গুলিস্থান চলাচলকারী বিআরটিসি বাস এখন মালিকদের নিয়ন্ত্রনে নেই। এসব বাস চালক ও হেলপারদের নিয়ন্ত্রণে। চালক ও হেলপার মিলে বিআরটিসির প্রতি ট্রিপে মালিকদের ৩ হাজার করে টাকা পরিশোধ করেন। এ কারনে চালক ও হেলপাররা মহাসড়কের যেখান সেখান থেকে যাত্রী তুললেও মালিকদের কিছু করার নেই।

মালিকরা সরকারের কাছ থেকে বিআরটিসি টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা নিয়ে গাড়ির চালক ও হেলপারদের কাছে ভাড়া দিয়ে চলছেন। এটি মালিকপক্ষ পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। সরকারের কাছ থেকে বিআরটিসি এনে মালিকপক্ষ কী করছে সেটা সরকারের দেখার বিষয় নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালে মানিকগঞ্জের আরিচা ফেরিঘাট থেকে গুলিস্থান পযন্ত বিআরটিসি চলাচল শুরু হয়। সে সময় বাস ছিল ৪৯ টি। এরপর আরিচা ফেরিঘাট পাটুরিয়া স্থানান্তর হলে আরেকটি কাউন্টার হয় পাটুরিয়ায়। প্রথমের দিকে সিটিং সার্ভিস হিসেবে এই সরকারি বাহনের যাত্রা শুরু হলেও এখন আর সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলাচল করছে না। ঢাকা থেকে আরিচা ও পাটুরিয়া পর্যন্ত প্রতিটি বাসষ্ট্যান্ডে বিআরটিসি থামিয়ে যাত্রী নেয়াসহ রাস্তার মধ্যে থেকে যাত্রী তুলছেন এই সরকারি গাড়ির চালক ও হেলপার।

আরো জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বর্তমানে ৩৫টি বিআরটিসি বাস চলাচল করছে। এর মধ্যে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তামজিদ-উল্লাহ-প্রধান লিল্টুর রয়েছে ১৬টি বাস। আরিচা ঘাটের ব্যবসায়ী ও জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধক্ষ্য আব্দুল রহিম খানের রয়েছে ৯টি বাস। শিবালয় উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক আলী আহসান মিঠুর রয়েছে ১টি বাস। মিঠুর এক আত্মীয়ের রয়েছে ১টি বাস ও ঢাকার গুলিস্থানের কামাল মিস্ত্রির রয়েছে ৮টি বাস। বাকি বাসগুলো নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে যাওয়ায় কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ খান বাহাদুর আওলাদ খান ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহম্মেদ নান্নু বলেন, ১৯৭২ সালে মূলত মানিকগঞ্জ থেকে গুলিস্থানগামী বিআরটিসি বাস চলাচল শুরু হয়। এরপর নানা কারণে ধাপে ধাপে বন্ধ হতে থাকে এই রোডে বিআরটিসি বাস চলাচল। তিনি বলেন, আরিচা-পাটুরিয়া থেকে গুলিস্থানগামী চলাচলকারী বর্তমানে বিআরটিসি বাসগুলো চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, আরিচা গুলিস্থান ও মানিকগঞ্জ-গুলিস্থানগামী সমস্ত বিআরটিসি বাস বাতিল ঘোষণা করে এই রোডে নতুন বাস নামানো হলে যাত্রী দুভোর্গ কমে আসবে। তা না হলে যাত্রী দুর্ভোগ থেকেই যাবে।

ঢাকাটাইমস/২০ এপ্রিল/এসএএফ

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত