ভাসমান ডিঙিতে বাহারি পণ্যের পসরা

সৈয়দ মাহ্ফুজ রহমান, পিরোজপুর থেকে
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১০:১৬ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:১৫

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া নদীতে দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্যের ভাসমান হাট। নাম বৈঠাকাটার হাট। নামেও রয়েছে বিচিত্রতা। সপ্তাহে (শনি ও মঙ্গলবার) দুই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জমে থাকে কেনাবেচা। স্থানীয় কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য এ হাটে নিয়ে আসেন।

শুধু নাজিরপুর উপজেলার ক্রেতা-বিক্রেতা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলাসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ কৃষিপণ্য কেনাবেচা করেন ভাসমান এ হাটে। ঢেউয়ের তালে চলে পণ্য কেনাকাটা। এ হাটে কৃষিপণ্যের পাইকারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

শুধু কৃষি পণ্যই নয়, হাটের লোক সমাগম বেশি হওয়ায় অন্যান্য বিক্রেতারা বিভিন্ন পণ্যের ভাসমান পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রির আশায়। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ জমায়েত হয় এখানে। হকার তাদের পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত, পিঠা ব্যবসায়ী পিঠাপুলি ভাজছেন নৌকায়। হকার তার রকমারি পণ্য বিক্রিতে মাইকে হাঁকডাক দিচ্ছেন মাঝ নদীতে।

উপজেলার বৈঠাকাটা নামক এ হাটে ছোট-বড় ও মাঝারি রকমের পাইকাররা আসেন। কেউ স্থানীয় পার্শ্ববর্তী হাট বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তুলনামূলক সস্তায় পণ্য কিনে (পাইকারি) খুচরা মূল্যে বিক্রির জন্য, কেউ কেউ রাজধানী ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন শহরে নিয়ে যায়। সপ্তাহের দুই দিনের প্রতি হাটে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হয় বলে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া নদীর তীরবর্তী দৃষ্টিনন্দন সারি সারি ডিঙি নৌকা। ক্রেতা বিক্রেতারা এক নৌকা থেকে অপর নৌকায় তুলে নিচ্ছেন ক্রয়কৃত পণ্য। রকমারি সব সবজির সমাহার, চোখ জুড়ানো সব ডিঙি। এক একটি ডিঙিও সেজেছে ভিন্ন সাজে। গ্রাম্য গৃহিনীদের তৈরি খাদ্যপণ্যও আসে এ হাটে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে শাক-সবজি, দেশীয় ফল আর পণ্যের আমদামিরও পরিবর্তন হয়।

পসরা সাজানো ডিঙিতে ঋতু অনুযায়ী মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, টমেটো, ফুলকপি, কাঁচা মরিচ, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, শালগম, গোলআলুতে পূর্ণ। শাক-সবজি ছাড়াও ধান, চাল, মুড়ি, নারিকেল, সবজি বীজ, চারা, ফুল ও ফলের চারাগাছ বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকার বৈঠা থেকে এই ‘বৈঠাকাটা’ নামের উৎপত্তি। অনুন্নত-বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম নৌপথ। প্রায় প্রতিটি পরিবারের রয়েছে ছোট বড় ডিঙি কিংবা ইঞ্জিনচালিত নৌকা-ট্রলার। হাট-বাজারে, ঘুরতে, বেড়াতে, স্কুলে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নৌকাই ভরসা।

বৈঠাকাটা হাট (সাপ্তাহিক) বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবাহান সাংবাদিকদের জানান, যতটুকু শুনেছি, ১৯৫৪ সালের দিকে এখানে প্রথম হাট বসে। আশপাশের গ্রামগুলোর সাথে নৌ যোগাযোগ সহজ হওয়ায় কৃষক পরিবারের লোকজন উৎপাদিত ফসল নৌকায় করে এখানে (বৈঠাকাটা) নিয়ে আসতে। ধীরে ধীরে ক্রেতারাও এ হাটে জমায়েত হতে শুরু করে। সেই থেকেই বেলুয়া নদীতে চলতো ভাসমান কেনাবেচা। পরে ‘বৈঠাকাটা’ হিসেবে পরিচিতি পায়, এভাবেই শুরু। এখন বৈঠাকাটা সবজির হাটটি দেশের অন্যতম কৃষিপণ্যের হাট বলে খ্যাতি পেয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত