সুনীল নারিন কী সাকিবের চেয়ে বড় অলরাউন্ডার?

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৩৯ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:৫১
লিয়াকত আলী ভূঁইয়া

একটা কথা প্রায়ই শুনি এবং তা হলো, দেশের বাইরে ভালো খেলে না বাংলাদেশ। দেশের মাটিতেই কেবল শক্তিশালী টাইগাররা।  কিন্তু এ কথাটার সঙ্গে মোটেও একমত নই আমি। এমন কথা উঠাই উচিৎ নয়। আমার প্রশ্ন, দেশের বাইরে কী খুব এটা খারাপ করছে বাংলাদেশ? মোটেও না। আপনি অন্য সব দলের পরিসংখ্যান সামনে আনুন, তাহলে দেখবেন বাংলাদেশ সেখানে বরং ভালোই করছে। আর একটা ব্যাপার হলো, সবসময় জয় দিয়ে সবকিছু বিচারও করা যায় না।ভালো করাটাই আসল কথা।

দেশের বাইরে যে কোনো দলই তুলনামূলক খারাপ খেলে। মানে দেশের মাটিতে সবাই শক্তিশালী। এটাই সত্যি। আপনি অস্ট্রেলিয়ার দিকে তাকান, দেখবেন তারা ভারত শ্রীলঙ্কা সফরে এসে নাকানি খাচ্ছে। ইংল্যান্ডরও একই অবস্থা হচ্ছে এই অঞ্চলে এসে। অন্যদিকে ভারত শ্রীলঙ্কা ঐ সব কন্ডিশনে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে। আপনি তুলনামূলক পরিসংখ্যান ঘেটে দেখেন, সেখানে বাংলাদেশ খুব একটা খারাপ করছে না।

বাংলাদেশ পাকিস্তানকে প্রথম হারিয়েছিল ১৯৯৯ সালে এবং এই জয়টা দেশের মাটিতে নয়, দেশের বাইরে। আমরা ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। ২০১৫ বিশ্বকাপে তাদেরকে হারিয়েছি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। ২০০৭ সালে আমরা ভারতকে হারিয়েছি দেশের বাইরে। একই বছর আমরা দক্ষিণ আফ্রিকে হারিয়েছি এবং সেটাও দেশের মাটিতে নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অসংখ্যবার তাদের মাটিতে হারিয়েছি। আমরা অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার হারিয়েছি কার্ডিফে। শ্রীলঙ্কার মাটিতেও অনেকগুলো জয় আছে আমাদের। আমরা কেনিয়াকে প্রথম হারিয়েছি, সেটাও দেশের মাটিতে নয়।কাজেই দেশের বাইরে বাংলাদেশ ভালো খেলে না, একথা তুলাই উচিৎ নয়। বিশেষ করে আমাদের মিডিয়াতে তো নয়ই।

আমি আশা করি, এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভালো করবে বাংলাদেশ। প্রথম পর্বে তিনটি ম্যাচ আছে বাংলাদেশের।টাইগাররা শেষ চারে উঠে যাবে, এটা আমি বলছি না। এটা আশা কারও ঠিক হবে না। কারণ আমাদের খেলতে হবে ইংল্যান্ডের মতো কঠিন কন্ডিশনে। ঐ কন্ডিশনে খুব একটা খেলার সুযোগ হয় না আমাদের। তাই ওখানে ভলো করা খুবই কঠিন। তবে আশা করব, অন্তত একটা ম্যাচ বাংলাদেশ জিতবে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কন্ডিশন অনেকটাই অভিন্ন।কাজেই ত্রিদেশীয় সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের। ওখানে খারাপ করলে রেটিং পয়েন্ট হারানোর ভয় আছে। কাজে কাজেই ওখানে অনেক সতর্ক হয়ে খেলতে হবে।

চ্যাম্পিয়ন্স ও ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে বাংলাদেশ যে প্রস্তুতি নিতে চলেছে সেটা প্রশংসনীয়। আয়ার‌্যান্ডে ১৫ দিনের কন্ডিশন ক্যাম্প করবে টাইগাররা।এরপর ইংল্যান্ডে দশ দিনের ক্যাম্প। এটা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহয়তা করবে বলে মনে করি আমি।

যতদূর জেনেছি তাতে, আয়ারল্যান্ডে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকছেন না সাকিব আল হাসান। মোস্তাফিজেরও থাকার কথা ছিল না। তবে টানা একাদশের বাইরে থাকার কারণে তিনি নাকি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তাকে ফিরে আসতে বলেছে। এটা ভালো সিদ্ধান্ত। অযথা ওখানে বসে থেকে লাভ কী? হ্যাঁ, আর্থিকভাবে তারা লাভবান হবেন বটে, তবে বাংলাদেশ দলের জন্য তা ক্ষতিকারকই হবে। আসলে মোস্তাফিজের এবার আইপিএলে খেলতে যাওয়াই ঠিক হয়নি। দেশে থেকে বরং ঢাকা লিগ খেলতে পারতেন। সামনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ওয়ানডে টুর্নামেন্টে। তার আগে দেশের মাটিতে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলা ক্রিকেরটারদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হলেন সাকিব ও মোস্তাফিজ।

সাকিব বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। অথচ তিনি টানা একাদশের বাইরে। এটা সাকিবের মতো বড় অলরাউন্ডারের জন্য বড়ই বিব্রতকর ব্যাপার। আমার কথা হলো, সুনীল নারিন কী সাকিবের চেয়ে বড় অলরাউন্ডার? সাকিবকে ডেসিংরুমে রেখে নারিনকে অলরাউন্ডার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

এবারের আইপিএল সাকিব-মোস্তাফিজের জন্য সম্মানের নয়। এরচেয়ে বরং দেশে থেকে অন্য সবার মতো ঢাকা লিগ খেলেলে ম্যাচ প্রাকটিসের মধ্যে থাকতে পারতেন।  মোস্তাফিজ চলে আসছেন ২৫ এপ্রিল। ২৬ তারিখ আয়ারল্যান্ড রওনা হবে দল। দলের সঙ্গেই আয়ারল্যান্ড যাবেন মোস্তাফিজ। সাকিব যাবেন পরে। কিন্তু তারও উচিৎ দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া। বুঝতে হবে, এবারের আইপিএল মোটেও সম্মানের নয় তার জন্য। টানা একাদশের বাইরে সাকিব, এটা দেখতে ভালো লাগে না। সাকিব কী এটা অনুধাবন করছেন?

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া : প্রথম সহ-সভাপতি, রিহ্যাব    

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত