‘আমরা যৌনকর্মী নই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫৪ | প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৪৪

বুকে দৃঢ়ভাবে ধরা রয়েছে দুটো প্ল্যাকার্ড। একটাতে লেখা ‘আমরা যৌনকর্মী নই, মাদকাসক্তও নই।’ অন্যটায়, ‘মাননীয় বম্বে হাইকোর্ট, আমরা আক্রান্ত, বিচার চাই।’ ভারতের বম্বে হাইকোর্ট থেকে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত এভাবেই বুকে প্ল্যাকার্ড ধরে হাঁটলেন দুই বোন। ২৩ বছরের শিবাঙ্গি সুলে ও ২১ বছরের সামিরা সুলে। কেন এ ভাবে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হলেন তারা?

শিবাঙ্গিদের দাবি, তারা যৌনকর্মী এবং মাদকাসক্ত বলে নালিশ করে মালাড থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাদের বাবা-মা। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিবাঙ্গিদের বাবা-মা। কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বম্বে হাইকোর্ট মালাড পুলিশের তিরস্কার করে।

শিবাঙ্গি ও সমিরার অভিয়োগ, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাওয়ায় বাবা-মা তাদের অত্যাচার করতেন ও ঘরে আটকে রাখতেন। গত ২৪ ডিসেম্বর শিফু সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠাতা সুনীল কুলকার্নি ও মালাড পুলিশের সহায়তায় তাদের বন্ধুরা শিবাঙ্গি ও সামিরাকে উদ্ধার করেন। এরপর মালাড পুলিশের কাছে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে বলে দাবি করে দুই বোন। উপরন্তু তাদের বসিয়ে নীতি শিক্ষার ক্লাস দেয়া হয় বলে জানান সুনীল। এরপর বুধবার শিবাঙ্গি-সমিরার বাবা-মায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বম্বে হাইকোর্টকে জানায়, সুনীল কুলকার্নি এবং তার শিফু সংস্কৃতি সেক্স ও মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত। এরপরই আদালত মালাড পুলিশকে বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেয়ার জন্য তিরস্কার করে।

দুই বোনের প্ল্যাকার্ডেই লেখা ছিল ‘সেভ আস ফ্রম আওয়ার প্যারেন্টস (বাবা-মায়ের থেকে আমাদের রক্ষা করো)। কেন বাবা-মায়ের হাত থেকে বাঁচতে চাইছেন তারা?

সামিরা বলেন, ‘আমরা শুধু স্বাধীনভাবে, নিজেদের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা-মা আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। উনারা বলছেন আমরা যৌন ও মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত। শিফু সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। শিফু সংস্কৃতি শেখায় কীভাবে নিজের শরীর ও মনকে নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত করতে হবে।’

যদিও সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছেন শিবাঙ্গি-সমিরার বাবা আইনজীবী সন্দেশ পাতিল। তার বক্তব্য, বড় মেয়ে শিবাঙ্গি পেশায় আইনজীবী, ছোট মেয়ে সামিরা স্থাপত্য বিদ্যার শেষ বর্ষের পড়াশোনা ছেড়ে কুলকার্নির শিফু সংস্কৃতিতে যোগদান করেছেন। নিজেদের গতিবিধি সম্পর্কে তারা বাড়িতে ক্রমাগত মিথ্যা বলে চলেছেন। প্রশ্ন করা হলে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে তাদের নির্যাতন করার অভিযোগ এনে বাড়ি ছাড়েন দুই মেয়ে।

শিবাঙ্গী বলেন, ‘আমাদের পিছনে গুন্ডারা ধাওয়া করছে। পুলিশ যখন তখন আমাদের তলব করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেনস্থা করছে। বম্বে হাইকোর্টকে অনুরোধ করছি আমাদের বাবা-মায়ের হাত থেকে রক্ষা করুন।’

অন্যদিকে সুনীল কুলকার্নি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা আভিযোগ আনা হচ্ছে। আমার অপরাধ আমি পুলিশের সাহায্যে ওদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে এনেছিলাম। এখন ওদের অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, আমি ওদের হিপনোটাইজ করে যৌন হেনস্থা করেছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

মালাড পুলিশের জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক সুধীর মহাদিকের বলেন, ‘আদালত এখনো নির্দির্ষ্ট কোনো নির্দেশ দেয়নি। ওই দুই তরুণীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে বেআইনি কিছু করার প্রমাণ মেলেনি। আদালতের নির্দেশ পেলে এই বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

(ঢাকাটাইমস/২০এপ্রিল/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত