নাসির আছেন, নাসির নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:৪২ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:৩৫

২০১১ সালের ১৪ আগস্ট হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন টাইগার অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। অভিষেক ম্যাচেই তিনি ব্যাট হাতে সবার নজর কেড়েছিলেন। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৬৩ রান করেছিলেন তিনি।

একই বছরের ১১ অক্টোবর ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় নাসিরের। এরপর ২১ অক্টোবর চট্টগ্রামে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেই প্রথমবারের মতো সাদা পোশাকের ক্রিকেট খেলতে নামেন তিনি।

জাতীয় দলে প্রবেশ করে নাসির নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন। তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন ‘মিস্টার ফিনিশার’ হিসেবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই তিনি অসারাধণ পারফরম্যান্স করতে থাকেন। কিন্তু ২০১৪ সালে এসে ফর্ম হারিয়ে ফেলেন নাসির। এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মধ্যেই আছেন। জাতীয় দলে জায়গা পেলেও একাদশে খেলার সুযোগ হচ্ছে না। সতীর্থদের জন্য পানি টেনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাকে।

নাসিরকে নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। তার ফর্ম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও অনেক সমালোচনা হয়েছে। জাতীয় দলে জায়গা না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতেই জবাব দিয়ে চলেছেন নাসির।

গতবছরের অক্টোবের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন নাসির হোসেন। এরপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন বেশ উজ্জ্বল। চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলে ১১৫.৩৮ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১৯৫ রান। বল হাতে তিনি নিয়েছিলেন চারটি উইকেট।

ইংল্যান্ড সিরিজের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর করেছে। কিন্তু একটি সফরেও দলে ছিলেন না নাসির হোসেন।

জাতীয় দলে জায়গা না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ব্যাট হাতে প্রমাণ করেছেন যে তিনি ফুরিয়ে যাননি। গত ডিসেম্বরে তিনি জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ইমার্জিং এশিয়া কাপে নাসির হোসেনকে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়। এই টুর্নামেন্টে তিনি সেঞ্চুরি পান। আবার চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও (ডিপিএল) তিনি ইতোমধ্যে একটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন। নাসির নেতৃত্ব দিচ্ছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে।

এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর মনে করা হচ্ছিলো নাসির হোসেনের আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলে জায়গা হবে। কিন্তু তিনি শুধু জায়গা পেলেন ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাকে রাখা হলো স্ট্যান্ড বাই হিসেবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে ১৮ জনকে। সেজন্যই হয়তো জায়গা হয়েছে নাসির হোসেনের। ১৫ সদস্যের জায়গা স্কোয়াড হলে হয়তো তার জায়গা হতো না। আর জায়গা পেয়েছেন বলে যে তিনি একাদশে থাকবেন তার নিশ্চয়তা কোথায়।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নাকি অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাসিরের অভিজ্ঞতার কম কোথায়। তার শেষ আঁচড়েই তো অনেক ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নাকি তরুণদের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নাসির হোসেনের বয়স তো এখন ২৫ বছর। তিনি তো আরও দীর্ঘদিন বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিয়ে যেতে পারবেন।  

নাসির কেন দলে নেই। দলে থাকলেও কেন একাদশে থাকছেন না, এই নিয়ে নিরন্তর গলা ফাটিয়ে যাচ্ছেন তার ভক্তরা। অবশেষে তিনি দলে ফিরেছেন। দলে ডাক পেয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন নাসির। তবে ভক্তদের কথা ঠিকই স্মরণ করলেন এই অলরাউন্ডার। তাদের কাছে কৃতজ্ঞ তিনি।

দলে ডাক পাওয়ার পর নাসির হোসেন বলেছেন, ‘মানুষ আমাকে পছন্দ করে। তারা আমার জন্য দোয়া করে। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সবাই যে আমাকে ভালোবাসে, উঠতে বসতে এর অনেক প্রমাণ পাই। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সুযোগ পেলে তাদের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব। জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও অনেক ম্যাচ খেলছি। চার দিনের ম্যাচ ছিল্। ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলছি। ভালো অনুশীলনও করেছি। আমার মনে হয় সেটারই পুরস্কার পেয়েছি।’

তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন নির্বাচকদেরও। নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নাসির বলেছেন, ‘আমাকে যারা নির্বাচন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। অতীতে আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি ভালো পারফর্ম করতে। সুযোগ পেলেই পারফর্ম করতে চেয়েছি। অবশ্য এখন সুযোগ পাওয়াই বড় কথা নয়। আসল কাজ হলো, পারফর্ম করা।’

ফিনিশার হিসেবে নাসির হোসেনের যে সুনামটা ছিল সুযোগ পেলে সেই দায়িত্বটা আবারও ভালো মতো পালন করতে চান তিনি। নাসির বলেন, ‘ম্যাচ শেষ করে আসতে সবসময়ই আমি পছন্দ করি। এবারও তা করার চেষ্টা করব। মনে হচ্ছে আগের ছন্দ ফিরে পেয়েছি। যদি সুযোগ পাই আগে যেমন খেলতাম তেমন খেলার চেষ্টা করব।’

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সামনে রেখে আগামী ২৬ এপ্রিল দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে দশদিনের ক্যাম্প করবে টাইগাররা। আগামী ১২ মে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এই সিরিজে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। অপর দলটি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড।

ত্রিদেশীয় সিরিজটি শেষ হবে আগামী ২৪ মে। এরপর ২৭ মে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ৩০ মে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী ১ জুন বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। এই আসরে বাংলাদেশের গ্রুপে ইংল্যান্ড ছাড়াও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

(ঢাকাটাইমস/২১ এপ্রিল/এসইউএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত