সাড়ে পাঁচ মাসে জন্মানো শিশুকে বাঁচিয়ে তোলার গল্প (ভিডিও)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১০:৩০ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:৫৩

দিনটা ছিল ২০১২ সালের ১৬ জুলাই। বেঞ্জামিন স্কটমিলার ও তার স্ত্রী লিন্ডসে স্বপ্নেও ভাবেননি যে সেদিনই তাদের জীবনে যাচ্ছে নতুন এক অতিথি, যার আসার কথা আরো সাড়ে তিন মাস পরে।

যুক্তরাষ্ট্রের  ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এই দম্পতির পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের সাড়ে তিন মাস আগে। মানে মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসেই জন্ম হয় শিশুটির। তখনও অনেকটাই অপিরণত ছিলো সে। সন্তানের আশায় ছিলেন তারাও। কিন্তু সেটা যে এরকম অপ্রত্যাশিতভাবে হবে সেটা লিন্ডসে-মিলার ভাবতেও পারেননি। দিনটি এসেছিল একেবারেই আকস্মিকভাবে। এমনকি মার্কিন মুলুকের বাঘা বাঘা চিকিৎসকরাও সেই মুহূর্তে ছোট শিশুটির এতো আগে ভাগে পৃথিবীতে চলে আসা ঠেকাতে পারেনি।

মা-বাবা ও চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে জন্ম নিলো মাত্র ১২ ইঞ্চি লম্বা ওয়ার্ড মাইলস মিলার। জন্মের সময় ওর জন্মছিল এক পাউন্ড ১৩ আউন্স। মানে মাত্র আধা কেজি ওজন নিয়ে জন্মায় ওয়ার্ড। যদিও দ্রুতই সেই ওজন কমে এক পাউন্ড সাত আউন্সে দাঁড়ায়। পেশায় চিত্রগ্রাহক ওয়ার্ডের বাবা বেঞ্জামিন বলেন, ‘একজন চিকিৎসক তো প্রথমরাতেই আমাদের বলে দিয়েছিল যে, আপনার সন্তানের বেঁচে থাকার সম্ভবনা ৫০/৫০। অবশ্যই আমরা সেই সময়ে শুধুই প্রার্থনা করছিলাম।’

হয়তো সেই শঙ্কা থেকেই ওয়ার্ডের জন্মের প্রথম এক বছর ক্রমাগত বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে রেখেছিলেন বেঞ্জামিন। ছেলের এক বছর বয়সে সবছবি একসঙ্গে করে একটি ভিডিও তৈরি করে যোগাযোগ মাধ্যমে দেন বেঞ্জামিন। মানবিক আবেদনে ভরা এই ভিডিও দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন সারা পৃথিবীর লাখ লাখ মানুষ। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও দেখা হয়েছে ৩৫ লাখ সাত হাজার ৫৪২ বার এরমধ্যেই। কমেন্ট পড়েছে প্রায় ৪২ হাজারেরও বেশি।

বেঞ্জামিনের হৃদয়স্পর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, কিভাবে লিন্ডসে মাত্র চারদিনের ওয়ার্ডকে প্রথমবারের মতো কোলে তুলে নেন। ১২ ইঞ্চি শরীরটি জড়িয়ে রয়েছে কয়েকশ পাইপ এবং টিউব। হাসপাতাল কর্মীদের সহায়তায় নিজের সন্তানকে প্রথমবারের মতো কোলে নিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন লিন্ডসে।

অপরিণত বয়সে জন্মই একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল না ওয়ার্ডের। বরং জন্মের দশদিন পরেই মাথায় এক ধরনের জটিলতা ধরা পড়ে ওয়ার্ডের। বেঞ্জামিন বলেন, ‘সেদিন আমার এখনো মনে আছে। আমি হাসপাতালে সারা দিন কেঁদেছিলাম এবং প্রার্থনা করেছিলাম। আমাদের খুব খারাপ লাগছিল। কারণ যে জন্য আমার বাচ্চাটা কষ্ট পাচ্ছে, সেখানে আমাদের কিছুই করার ছিল না। এমনকি এই জন্য সে নিজেও দায়ী নয়। শুধু বিছানায় শুয়ে শুয়ে কষ্ট পাচ্ছে।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সেই ত্রুটি কাটিয়ে ওঠে ওয়ার্ড। হাসপাতালের শিশুদের জন্য বানানো নিবিড় পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে পাক্কা একশো দিন থাকার পর প্রথমবারের মতন বাড়ি আসে ওয়ার্ড।

বেঞ্জামিন বলেন, ‘যখন ওকে বাসায় নিয়ে আসলাম, সেই অনুভূতি আসলে বলে বোঝানোর নয়।’

বেঞ্জামিনের ইচ্ছা ছিল ওয়ার্ডের প্রথম জন্ম দিনে এই ভিডিওটি শেয়ার করবে। কিন্তু পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে হয়ে উঠেনি। পরে তিনি চিন্তা করে দেখলেন, এর সবচেয়ে উপযুক্ত ক্ষণ হতে পারে ওয়ার্ডের বাসার আসার দিনটি। সেই দিনটি ছিল ৩১ অক্টোবর।

বেঞ্জামিন জানান,  ওয়ার্ড নিজেও তার মায়ের আইপ্যাডে এই ভিডিও দেখেছে এবং তিনি নিজেকে দেখে বেশ খুশি। তবে ওয়ার্ড আসলে ভিডিওর গুরুত্ব এখনো বোঝেনি। আসলে তার বয়স ১৬, ১৭ কিংবা ১৮ না হওয়া পর্যন্ত এটি বোঝার ক্ষমতা ওর হবে না।’

 (ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/জেএস/কেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর