দুই ঘণ্টায় পাল্টে গেল চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের চেহারা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:২০

অন্য আর দশটি দিনের চেয়ে আজকের দিনটি ছিল চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের আবাসিক রুগীদের জন্য অন্যরকম। ঘুম থেকে উঠে তারা যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বিছানার পাশে অগোছালো জিনিপত্র গোছানো। প্রতিটি বিছানার পাশে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন। ওয়ার্ডের মেঝে পরিচ্ছন্ন। চিরচেনা নোংরা বাথরুমের চেহারাও অন্য রকম।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এই নতুন পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যতিক্রমী এই কাজটি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। সদর হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ রাখতে বুধবার সকালে তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন গোটা হাসপাতালে। এই কাজে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর সভার মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু।

বুধবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযান দুপুর পর্যন্ত চলে। ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, ওয়ার্ড, রোগীর বিছানা, হাসপাতালের মেঝে ও ড্রেন পরিষ্কার করেন।

এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ালে থাকা কোম্পানির ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করেন তারা।

প্রায় দুই ঘণ্টার পরিচ্ছন্ন অভিযানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিরচেনা অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালটি নতুন চেহারায় ফুটে ওঠে।

ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন সদর হাসপাতাল চত্বরে। তাদের একজন  বেসরকারি একটি কলেজের শিক্ষক আহমেদ ফয়সাল। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দেশে ছাত্রলীগের বির্তকিত কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সেই ছাত্রলীগের এই চেহারা মডেল হতে পারে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে। শুধু চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন করা নয়, গোটা চুয়াডাঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত করতে ছাত্রলীগ এমন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা এই শিক্ষাবিদের।

ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়া চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশ মানতেই এমন আয়োজন।

মেয়র বলেন, নিজ শহরের পাশাপাশি হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। আর তাই এখন থেকে প্রতি মাসে এক দিন ‘ক্লিন হাসপাতাল ক্লিন ডে’ পালন করবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা ছাত্রলীগের এই কাজের  প্রশংসা করে বলেন, এমন ছাত্রলীগেরই স্বপ্ন দেখতেন জাতির জনক। শুধু ছাত্রলীগ নয়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সব ভালো কাজের সঙ্গে জেলার সবাইকে অংশ নেয়ার  আহ্বান জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৬এপ্রিল/এলএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত