কোন পরিচয়ে বড় হবে কিশোরীর সন্তান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি,ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৩৬ | প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ১১:৩০

বিয়ে হয়নি। কিন্তু ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের কিশোরি। অভিযোগের তীর বছর ৫০ এর বৃদ্ধ প্রতিবেশির দিকে। তার যৌন লালশার শিকার হয়েই মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে-এমনই অভিযোগ কিশোরীর পরিবারের।

ঘটনাটি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামের। অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী এলাকার আটিয়া হযরত শাহান শাহ্ আদম কাশ্মেরী রহঃ দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।   

গ্রাম্য শালিসের ওপরে ভরসা করে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর পরিবার  এখনও মামলা করেনি থানায়। তবে গত বৃহস্পতিবার অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর পরিবার মেয়েকে নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার সরনাপণ্ন হতে ঢাকায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু কোনো মীমাংসা না হলে গর্ভের সন্তান কোন পরিচয়ে বড় হবে সেটা নিয়ে মহা দুঃচিন্তায় আছেন কিশোরী ও তার পরিবার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মঙ্গলহোড় গ্রামের ওই কিশোরীর বাবা মোসলেম জোয়ারদার এর বাড়িতে থাকার ঘর নেই। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকায় তিনি থাকেন সিলেট। আর মোসলেম জোয়ারদার টাঙ্গাইল শহরে রিকসা চালান। বড় ভাই মোফাজ্জল অটোরিকসা চালক হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। অপর ভাই তোফাজ্জল পাথরাইলে ব্রেড ফ্যাক্টরিতে দিন মজুরের কাজ করে। সেখানেই রাত কাটায়।

অবিভাবকদের অনুপস্থিতি আর থাকার ঘরের অভাবে মেয়েটি পাশের বাড়ির নাছির উদ্দিনের (বারকু মিয়া) বাড়িতে থাকতেন। মেয়েটির ওপর কু-নজর পড়ে বারকু মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক আব্দুল হাকিমের। মেয়েটিকে একা পেয়ে ফুঁসলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই তার সাথে  শারীরিক মেলামেশা করে আসছিল হাকিম। ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সমালোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিমকে বাঁচাতে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছে  বলে অভিযোগ করছেন অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটির স্বজনরা।

কিশোরীর বড় ভাই মোফাজ্জল  জানান,  ‘আমাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় ছিল। বসতবাড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর আব্দুল হাকিমের বাড়িতে আশ্রয় নেই। এই সুযোগে জোরপূর্বক আমার বোনের সাথে শারীরিক মেলামেশা করতেন। সম্প্রতি আমার বোন অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষার মাধ্যমে আমার বোনের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে বোনটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় জড়িত আব্দুল হাকিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

তিনি আরও বলেন,  ‘হাকিমের পরিবার প্রথমে চাপ দিয়েছিল বাচ্চাটি নষ্ট করতে। রাজি না হওয়ায় বড় অংকের টাকা নিয়ে এলাকা ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানান মোফাজ্জল।

অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটি জানায়,  সাতমাস যাবত ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সাথে শারীরিক মেলামেশা করতেন হাকিম। এমনকি বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে ও বাবা, ভাইকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিতেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বার বিষয় বেরিয়ে আসলে স্বজনদের সবকিছু খুলে বলি।’

অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটির বড় চাচি মনোয়ারা বেগম, চাচা আব্দুল মজিদ ও বাবা মোসলেম জোয়ারদার বলেন,  বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় মাতব্বররা একাধিকবার বসেছেন। কিন্তু এর পরেও কোন বিচার পায়নি।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন,  আব্দুল হাকিমের ছেলে মেয়েরা বিবাহিত। আরেকজন বিয়ের বয়সী। যে মেয়ের সাথে এমন ঘৃণীত কাজ করেছে সে তার মেয়ের বয়সী। এলাকায় এ ধরণের অনৈতিক কাজ তাদের হতবাক করেছে। তারা অভিযোগ করেন বিষয়টি মীমাংসার নামে ধর্ষক আব্দুল হাকিমকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

মাদ্রাসা শিক্ষক নুরুল হক বলেন,  ঘটনার সত্যতা আছে বলেই বিষয়টি নিয়ে দুবার বসা হয়েছে। না থাকলে হাকিম ও তার অবিভাবকরা শালিসে বসতে রাজি হত না। এর পর চলতি মাসের ১০ তারিখে মীমাংসায় বসার কথা ছিল। এখনও বসা হয়নি।

অভিযুক্তের পরিবারের মন্তব্য নিতে গেলে বাড়িতে কোনো পুরুষ লোকজন চোখে পড়েনি। সকাল-বিকাল দুবার বাড়ি গিয়েও অভিযুক্ত পরিবারের কোন পুরুষের দেখা মেলেনি। অভিযুক্ত হাকিমের স্ত্রী রুবি বেগম বলেন,  বাড়ির পুরুষেরা সবাই বাজারে গেছেন। তবে তিনি বলেন আমার স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশাররফ হোসেন জানান,  ‘আমাদের কাছে এ ধরণের কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৮এপ্রিল/প্রতিনিধি/এএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত