লাকসামে ভাইস চেয়ারম্যানের দখলে খাল হলো ড্রেন

মাসুদ আলম, কুমিল্লা
 | প্রকাশিত : ০৪ মে ২০১৭, ০৮:২৬

কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদের শাখা লাকসাম উপজেলা সদরের দক্ষিণে ফতেপুর খালটি প্রভাবশালীদের দখল ও ভরাটে দিন দিন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। দখলদারদের মধ্যে লাকসাম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ফতেপুর অংশে খালের পূর্ব পাশে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে অর্ধেক জায়গা দখলে রেখেছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা বেগম। এমনকি খালের পশ্চিম পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন। দুই পাশে দখল ও ভরাটের কারণে খালটি বর্তমানে হাত কয়েক প্রশস্ত ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে রাশেদা বেগমের জবরদখলের দক্ষিণ পাশে একটি সিগারেট কারখানার বর্র্জ্যে পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে দখল ও ভরাট খালটি।

অথচ ফতেহপুর খালটি একসময় লাকসাম সদর হয়ে উপজেলার দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও চাষিদের জন্য ছিল একমাত্র আশা-ভরসার জলপথ।

তবে খাল দখলের কথা স্বীকার করছেন না ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা বেগম। তিনি দাবি করেন, তার বাড়ির মাটি ভেঙে খালে পড়ে ভরাট হচ্ছে। তাতে তার কোনো হাত নেই।

খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদা বেগম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি খালের পূর্ব পাড়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছি। মাটি ভেঙে খালে পড়লে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।’ অন্য পাশে খাল ভরাটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খালের পশ্চিম পাশ ভেঙে যাওয়ার কারণে আমি মাটি দিয়ে ভরাট করেছি।  ভবিষ্যতে যাতে আর না ভাঙে সে জন্য ইটের দেয়াল নির্মাণ করব।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের ফতেপুর হয়ে কৃষ্ণপুর, হেষাখাল, চন্দনা, মনপালসহ অর্ধশতাধিক এলাকায় ডাকাতিয়ার এ খালটি একসময় বার মাস প্রবহমান ছিল।  এমনকি চৈত্র মাসেও এই খালে পানি থইথই করত। লাকসাম উপজেলা শহরের আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালের দখল প্রক্রিয়াও বাড়তে থাকে। গত কয়েক বছরে খালের দুই পাশের জমি দখল ও ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন, বাড়িঘর ও দোকানপাট।

বর্তমানেও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা বেগমের মতো কিছু প্রভাবশালী টাকার বিনিময়ে অথবা রাজনৈতিক পরিচয়ে খাল দখল করে অবৈধভাবে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। খাল ভরাট ও দখলের মহোৎসবে মেতে উঠেছেন তারা।
ডাকাতিয়ার শাখা ফতেপুর খাল দখল ও ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফতেপুর এলাকার আবুল হাশেম ও বৃদ্ধ মোকলেছ মিয়া জানান, লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর এই খালটি ছিল বেশ প্রশস্ত। কুমিল্লা জেলার একসময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যিক এলাকা লাকসামে কৃষক, চাষি ও ব্যবসায়ীরা মালামালসহ আসা-যাওয়া করতেন এই খাল দিয়ে। কিন্তু দিনে দিনে প্রভাবশালীদের দখল ও ভরাটের কারণে এখন সেটি ময়লার ড্রেনে পরিণত হয়েছে।   

এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, লাকসাম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খাল দখল ও ভরাটের যে অভিযোগ উঠেছে তা তারা  ক্ষতিয়ে দেখবেন।  ভূমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন খালটি নিয়ে। খাল দখলদারদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৪মে/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত