মেয়েরাই সেরা

মোসাদ্দেক বশির, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ মে ২০১৭, ১৭:০৫ | প্রকাশিত : ০৪ মে ২০১৭, ১৭:১৯

পড়াশোনায় মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে-গত এক দশকের এই ধারাবাহিকতায় ছেলেরা এবার পিছিয়েছে আরও এক ধাপ। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ফল খারাপের মধ্যেও মেয়েরা ঠিকই এগিয়েছে। পরীক্ষার্থী হিসেবে সংখ্যায় তারা যেমন বেশি ছিল, তেমনি পাস করেছে বেশি, জিপিএ ফাইভও পেয়েছে বেশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একে দেখছেন নারী জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের নমুনা হিসেবে।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে আটটি সাধারণ বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৮০.৭১ শতাংশ আর ছাত্রীদের পাসের হার ৮১.৬৯ শতাংশ।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর পরীক্ষায় ছাত্রের তুলনায় ১৯ হাজার ১০৫ জন ছাত্রী বেশি অংশ নিয়েছে। পাঁচ হাজার ৪৯৪ জন ছাত্রী বেশি পাস করেছে। ছাত্রের তুলনায় ০.৯৮ শতাংশ বেশি ছাত্রী পাস করেছে। তিনি বলেন, ‘সে দিক থেকে ছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, পাসের সংখ্যা ও শতাংশের দিক দিয়েও তারা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

২০১৬ সালেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভাল ফল করে। গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৮৮.২৯ শতাংশ। মেয়ে শিক্ষার্থীর সার্বিক পাসের হার ছিল ৮৮.৩৯ শতাংশ। আর ছেলে শিক্ষার্থীর সার্বিক পাসের হার ছিল ৮৮.২০ শতাংশ। অর্থাৎ ছেলে শিক্ষার্থীর চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর পাসের হার ০.১৯ শতাংশ বেশি। সেই হিসাবে এবার এই ব্যবধান বেড়েছে আরও বেশি।

৯০ দশকের শেষে এমনকি চলতি শতকের শুরুর দিকেও মেয়েদেরকে স্কুলে টানতে সরকারকে নানা প্রণোদনা দিতে হয়েছে। মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি, খাবারের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগ নিতে হয়েছে। আর এর সুফলও মিলছে। যে বাবা-মা তার মেয়েকে অল্পবয়সে বিয়ে দিয়ে নির্ভার হতে চেয়েছে, সেই বাবা মাই এখন আগ্রহ ভরে মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই বলেছিলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শিক্ষা দিয়ে তৈরি করতে হবে। তার সেই লক্ষ্য আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

মেয়েরা ভাল করলে বরাবরই উচ্ছ্বসিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এসএসসির ফলাফল হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা সব সময় ভাল করছে শিক্ষায়। ছেলেদেরকে আমি বলবো যে তাদেরকে আরও লেখাপড়ায় মনযোগী হতে হবে। সমান সমান থাকতেই হবে। পিছিয়ে থাকলে চলবে না। একটু মনযোগ দিলেই ভাল রেজাল্ট তারা করতে পারবে।’

এক দশক আগেও বাংলাদেশের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বা প্রধানমন্ত্রীকে উল্টো কথা বলতে হয়েছে। অর্থাৎ মেয়েদেরকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেছেন, তাদের পিছিয়ে থাকলে চলবে না। এখন সেই প্রধানমন্ত্রীই ছেলেদেরকে বলছেন মেয়েদের সমান হতে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন-জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি গত বেশ কয়েক বছর ধরে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভাল ফল করছে। এর পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে। বর্তমানে দেশে জেন্ডার বৈষম্য কমেছে। শিক্ষায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেয়েরা ভাল করছে। এতে মেয়েরা ভাল করার অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এছাড়া এই সময়ে মেয়েদেরকে ঘরের বাইরে যেতে দেয়া হয় না। ঘরে বসে ওরা বেশি পড়ালেখা করছে।’   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছেলেরা বাইরে ঘুরাঘুরি করে, আড্ডা মেরে সময় নষ্ট করছে। আর মেয়েরা ওই সময়ে বাড়ি পড়ালেখা করছে। এই জন্য বর্তমানে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভাল ফল করছে। এটা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।’ 

(ঢাকাটাইমস/০৪ মে/এমএবি/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত