বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অতিরিক্ত প্রবেশ মূল্য

আবুল হাসান, গাজীপুর
 | প্রকাশিত : ০৫ মে ২০১৭, ১০:৩৯

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পার্কটিতে লাখো দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মত। কিন্তু পার্কটিতে নেই পর্যাপ্ত বসার স্থান, মসজিদসহ অবকাঠামোগত সুবিধা। কোর সাফারিতে তুলনামূলক গাড়ি কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় দর্শনার্থীদের। এছাড়া পার্কে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বেশি মূল্যে টিকিট কাটারও অভিযোগ রয়েছে। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান হবে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। 

সরে জমিনে দেখা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো ও বাঘ, সিংহ, হাতি, জেব্রা, জিরাফসহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণি দেখতে বিভিন্ন বয়সী পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ার মত।

সাফারি পার্কে বর্তমানে বড় আকারের বাঘ রয়েছে নয়টি, সিংহ ২৩টি, ভাল্লুক ১৫টি, জিরাফ ১০টি। এছাড়া মরুভূমির প্রাণি উটপাখি, ক্যাঙ্গারো, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি দর্শকদের মোহিত করে। কিন্তু এত বড় এ প্রতিষ্ঠানে দর্শনার্থীদের তুলনায় নেই তেমন বিশ্রামাগার, টয়লেট এবং বসার স্থান। ভাঙাচোরা সরু রাস্তা পার্কের সৌন্দর্য্যরে সাথে বেশ বেমানান। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও এখানে নেই কোন মসজিদ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা। টাইগার সাফারিতে দর্শকদের অপেক্ষমাণ দীর্ঘ সারি থাকলেও নেই পর্যাপ্ত গাড়ি। এ অবস্থায় বিনোদন পিপাসু দর্শনার্থীরা পড়েন বেশ বিপাকে।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, এখানে প্রবেশ করতে হলে পূর্ণ বয়স্কদের ১০০ টাকা এবং ছাত্র ও কম বয়সীদের ৫০ টাকার টিকেট কিনতে হয়। কিন্তু শর্ত না মেনে শিশু ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন অতিরিক্ত টাকা নেয়। এছাড়া পার্কে কোন মসজিদ না থাকায় শুক্রবারে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। একবার টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নামাজের জন্য বাইরে বেরুলে আবার টিকিট কেটে তাদের প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া পার্কে পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, বসার স্থান এবং সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। কোর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন লেগে থাকে প্রতিদিন। সেখানে যে গাড়ি রয়েছে, তা দর্শনার্থীদের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল।

ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িতে ওঠায় বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান, শুক্রবারে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বেড়াতে এসেছেন তিনি। কিন্তু ভেতরে কোন মসজিদ না থাকায় বাইরে গিয়ে তাকে নামাজ পড়তে হয়েছে। নামাজ শেষে আবার পার্কে ঢুকতে গিয়ে ফের প্রবেশমূল্য দিয়ে প্রবেশ করতে হয়েছে তাকে। তার দাবি, এত বড় একটি এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ভিড় জমায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তিনি মসজিদ নির্মাণের দাবি করে বলেন, সেখানে একটি মসজিদ থাকলে নামাজ আদায় করতে পর্যটকদের সুবিধা হবে।

স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক জানান, তিনি তার কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাফারি পার্কে বেড়াতে যান। কোর সাফারি পার্কে ঢুকতে গেলে সবার কাছ থেকেই ১০০ টাকা করে প্রবেশ মূল্য নেয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য টাকা কম নেয়া হয়নি।

পার্কের এসব সংকট সমস্যার কথা স্বীকার করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে মসজিদসহ পার্কের অবকাঠামোগত সুবিধা আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাংলাদেশের মধ্যে ১নং ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। এখানে আগত দর্শনার্থী বেড়েই চলেছে। দর্শনার্থীদের বেশির ভাগ মুসলিম, তাদের সুবিধার জন্য এখানে একটি মসজিদ দরকার। এজন্য সীমানা প্রাচীরের কাছে সরকারিভাবে একটি মসজিদ আন্ডার কন্সট্রাকশনে আছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কোর সাফারি অংশটি নির্ধারিত শর্তানুসারে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জন্য পাল এন্টারপ্রাইজ, বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড ও বিজ এন্টারপ্রাইজের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাফারি পার্কের এ অংশের ঠিকাদারদের লোকজন চুক্তি না মেনে সকলের কাছ থেকেই প্রবেশ মূল্য বাবদ ১০০ টাকা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে পর্যটকদের কাছ থেকে।

তবে ইজারার শর্ত না মানলে হলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৩ হাজার ৮১০ একর জমি বিস্তৃত পার্কটি থাইল্যান্ডের সাফারি পার্কের আদলে তৈরি করা হয়েছে। অবকাঠমোগত সুবিধা বাড়ালে এ পার্ক থেকেই বিপুল রাজস্ব আদায় হতে পারে বলে মনে করছেন আগত দর্শনার্থীরা।

(ঢাকাটাইমস/৫মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত