চবিতে অভিযান চলছে, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ মে ২০১৭, ১৫:৪৮
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ ঘণ্টা ধরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে শার্টারগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছাত্রলীগের তিন নেতাকে। শুক্রবার বেলা দুইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মিজানুর রহমান অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে শুরু হয় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় শুরু হওয়া অভিযানে একের পর এক হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর মধ্যে শাহ জালাল, শাহ আমানত, সোহরাওয়ার্দী, এফ রহমান, আলাওল হল থেকে একটি শার্টারগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশের (সদর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ অস্ত্র উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, রামদা, কিরিচ ও হাঁসুয়া মিলে ২৫টির মতো ধারাল অস্ত্র রয়েছে। আর শাহজালাল হল থেকে শার্টারগানটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় তিন ছাত্রলীগ নেতাকে। তবে তাদের নাম জানাননি তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, অভিযানের খবর টের পেয়ে হলগুলোতে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে গা ঢাকা দেয়।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালীন রুম ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

তবে পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির উপস্থিতিতে হাটহাজারী থানার পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আখতারুজ্জামান বলেন, অভিযানে রুম ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি সঠিক নয়।

বৃহ¯পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ স¤পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হয়।

এরপর বৃহ¯পতিবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ স¤পাদক জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, চবি ছাত্রলীগে দফায় দফায় সংঘর্ষের জের ধরে বৃহ¯পতিবার দিবাগত রাতে এ কমিটি স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ইউনিটের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টিপুকে সভাপতি ও সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৫ সালের ২ জুলাই দুই সদস্যের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। টিপু সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী এবং সুজন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান টিপু ও সুজনের অনুসারীরা। তেমনি এক সংঘর্ষের জেরে কেন্দ্র থেকে দুই সদস্যের এ কমিটি স্থগিত করা হয় ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো ঘোষণা ছাড়াই সে বছর ১৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এরপর ওই কমিটিতে পদ পাওয়া এবং পদবঞ্চিত ও কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়াদের মধ্যে সংঘাতে অচল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় ছাত্রলীগ নেতাদের সামলাতে সংগঠনের সভাপতি সোহাগ ও সাধারণ স¤পাদক জাকির চট্টগ্রামে গিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছিরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এরপর কিছুদিনের জন্য সংকটের সুরাহা হলেও পরে আবার সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।

(ঢাকাটাইমস/৫মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত