বীরশ্রেষ্ঠদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বিসিএসের চাকরি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ মে ২০১৭, ১৭:৫৩ | প্রকাশিত : ০৫ মে ২০১৭, ১৬:১৭

সাত বীরশ্রেষ্ঠের সামাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে চাকরিতে যোগ দিলেন ৩৫তম বিসিএস-এ প্রসাশন ক্যাডারে উত্তীর্ণরা। ২ মে যোগদানের আগে তাঁরা ঘুরে বেরিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সমাধি।

বিসিএস ফল প্রকাশের পর চিন্তাটা প্রথম আসে মোস্তাফিজুর রহমানের। ছোটবেলায় স্কুলের পাঠ্য বইয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী পড়ার সময়ই ভেবেছিলেন যদি সম্ভব হয় তো তাদের সমাধিতে যাবেন। বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মনে হল এই তো সময়। ঢাকাটাইমসকে মোস্তাফিজুর বলেন, ‘ছোটবেলার স্বপ্নের নায়কেরা বারবার মনের ভেতর উঁকি দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল চাকরিতে যোগদানের আগে তাদের সমাধিতে না গেলেই নয়।’

এভাবেই প্রজেক্ট ‘প্রজেক্ট সেভেন স্যালুট’ শুরু যাতে সায় মেলে আরেক একই ক্যাডারে আরেক উত্তীর্ণ রবিউল ইসলাম রবিরও। অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর সবার কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া মিলল।

কিন্তু ২৩ এপ্রিল যাত্রা শুরুর আগেই বিপদ। দেশজুড়ে টানা ঝড়-বৃষ্টি। ফল, অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারলেন না। তবে দমে গেলেন না মোস্তাফিজুর আর রবি। সাত বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রা শুরু হল টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি দিয়ে।

‘যাকে ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, যাকে ছাড়া বাংলাদেশ নামে কোন দেশ থাকত না পৃথিবীর মানচিত্রে, সেই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সামাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন না করলেই নয়। তাই আমরা শুরু করি বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে’ বললেন মোস্তাফিজুর। 

তবে পথটা সহজ ছিল না তাদের জন্য। কারণ সাত বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি ছড়িয়ে আছে দেশের নানাপ্রান্তে। ‘যশোরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ, খুলনার পাকশীতে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ প্রাঙ্গনে শায়িত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, রাঙামাটির নানিয়ার চরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল এবং সবশেষ ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট  লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সফলভাবে আমাদের প্রজেক্ট শেষ করি’ জানান অপর সঙ্গী রবি।

তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তাদের সমাধীতে গিয়ে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে তাদের। কোথাও খুবই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠরা, কোথাও আবার পরিবেশ খুবই খারাপ। বিশেষত যশোরের শর্শায় সীমান্তবর্তী স্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ আর ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় আখাউড়া সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামালের সমাধির অবস্থা খুবই নাজুক।

মোস্তাফিজুর বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সমাধিতে অবাধে গুরু-ছাগল চরে বেড়ায়, নেশাদ্রব্যের বাণিজ্য চলে যা খুবই দুঃখজনক। জাতি হিসেবে এগুলো আমাদের জন্য লজ্জার।’

তবে রাঙামাটির জেলার কাপ্তাই লেক থেকে এক ঘন্টার স্পিড বোটি গিয়ে দ্বীপ নানিয়ার চরে পৌঁছে হতাশ হননি মোস্তাফিজুর  ও রবি। কারণ সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ শুয়ে আছেন পরম শান্তিময় পরিবেশে।

‘এমন দুর্গম দ্বীপে এতো চমৎকার একটা কমপ্লেক্স, আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সত্যি অসাধারণ। অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এছাড়া ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থনে শায়িত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের সমাধিও অনেক সুন্দর করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়’ বলেন রবি।

সাত বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোস্তাফিজুর ও রবি এরমধ্যেই নিজেদের কাজে যোগ দিয়েছেন।

ঢাকাটাইমস/০৫মে/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত