এরশাদের ৫৮ দলের জোটে নিবন্ধিত দুটি

আউয়াল খাঁন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ মে ২০১৭, ১২:২৬ | প্রকাশিত : ০৭ মে ২০১৭, ০৮:৪০

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্মিলিত জোটের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত কয়েক মাস ধরে তিনি এই জোটের ঘোষণা নিয়ে যত কথা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত এই জোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংখ্যার দিক থেকে অনেকগুলো দল এতে যোগ দিলেও তার সবগুলোই নামসর্বস্ব। দলের মতো নেতারাও অপরিচিত। এদেরকে নিয়েই অবশ্য নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান এরশাদ।

জাতীয় পার্টির নেতারা জানান, আজ বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির সূত্র জানায়, মোট ৫৮টি থাকছে এরশাদের জোটে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির বাইরে নিবন্ধিত দল হিসেবে থাকভে কেবল ইসলামিক ফ্রন্ট। এটি নিবন্ধিত হলেও নামসর্বস্ব। দেশের কোথাও এদের প্রভাব প্রতিপত্তি নেই। আর ইসলামি নাম থাকলেও এই ভাবধারার মানুষদের মধ্যেই নেই এর তেমন পরিচিতি।

জাতীয় পার্টির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে জানান, তাদের জোটে ইসলামিক ফ্রন্ট ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জোট-বিএনএর একাংশের নেতৃত্বে ২১টি এবং জাতীয় ইসলামি মহাজোটের ৩৫ দলের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। তবে বিএনএ নামে যে জোটটি আসছে সেটি সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন নয়। সেকান্দার আলী মনির নেতৃত্বে এই জোট থাকছে এরশাদের জোটে।

যোগাযোগ করা হলে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মানছি যে আমাদের এখানে হাতে গোনা দুই-তিনটি দল নিবন্ধিত। বাকিদের তেমন পরিচিতিও নেই। তবে আমাদের দেশে কেবল চার-পাঁচটা দলকেই মানুষ চেনে। বাকিগুলোতে মানুষ তেমন চেনে না। তবে আমরা বলতে পারি, এরশাদ সাহেবের ব্যক্তিগত পরিচিতি কোনো দলের চেয়ে কম না। তার পরিচিতির ওপর ভিত্তি করেই এই জোট এগিয়ে যাবে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাজমুল হুদার নেতৃত্বে ৩১ দলের জোট গঠন করা হয়েছিল। এরা আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইদানীং যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এই জোট থেকে এরশাদ দল ভাগিয়ে নিচ্ছেন অভিযোগ করে গত ৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করেন নাজমুল ‍হুদা। তিনি সেদিন বলেন, এরশাদ চাইলে তার জোটে যোগ দিতে পারেন। আর সে ক্ষেত্রে এরশাদই হবেন সে জোটের চেয়ারম্যান।

তবে নাজমুল হুদার এই প্রস্তাব নিয়ে পরে আর কথা বলেননি এরশাদ। আর সেকান্দার আলী মনির সঙ্গে যোগাযোগ করে ২১টি দলকে তার নেতৃত্বাধীন জোটে ভেড়ানোর বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে এরশাদের উপস্থিতিতে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের গুলশান বাসভবনে এক সভায় জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় এরশাদ-হাওলাদার ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, বাংলাদেশ জাতীয় জোট বিএনএ এর চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক এবং জোটের প্রধান সমন্বয়ক সুনীল শুভ রায়।

সুনীল শুভ রায় এই জোটের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। এই জোটের জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আজ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। ঘোষণা হলেই আপনি সব জানতে পারবেন।’

জানতে চাইলে বিএনএর চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করবো এবং একসঙ্গে সরকারও গঠন করবো ইনশাআল্লাহ।’

জোটে জাতীয় পার্টি আর ইসলামিক ফ্রন্ট ছাড়া কোনো নিবন্ধিত দল নেই। এই নামসর্বস্ব দল নিয়ে নির্বাচনে জেতার প্রত্যাশা কীভাবে করছেন- জানতে চাইলে সেকেন্দার আলী মনি বলেন, ‘নির্বাচন তো এখনো অনেক দেরি। এরশাদ সাহেব তো একটানা অনেক সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। অনেক সময় বড়কের সঙ্গে থেকে ছোটরাও বড় হয়ে যায়। আপনি দোয়া করেন আমরাও যেন বড় হই।’

নাজমুল হুদাকে ছেড়ে বিএনএ নিয়ে জাতীয় পার্টির জোটে যোগ দেয়ার কারণ কী- জানতে চাইলে জনাবে মনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম ওনাকে আনতে কিন্তু পারিনি। ওনি তো এখনো এক পা বিএনপিতে দিয়ে রেখেছেন। তিনি মানুষ ভালো, কিন্তু রাজনীতিতে যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লাইনগুলো মেইনটেইন করতে হয়, সেটা তিনি করেন না।’

(ঢাকাটাইমস/০৭মে/এএকে/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত