দেলদুয়ার হাসপাতালে শয্যা বাড়লেও কমেছে জনবল

রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৭, ১৬:০১

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে সম্প্রতি তিন তলাবিশিষ্ট ৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন হলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জনবলসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে না। উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা দিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সরকার হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছে। শয্যা বাড়ায় সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল হাসপাতালের চিকিৎসা মান বাড়বে। হাসপাতালের সকল বিভাগ সচল থাকলেও জনবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী।

অভিযোগ উঠেছে, ভবনটি উদ্বোধনের তিন মাস পার হলেও এখনও ভবনটি তালাবদ্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বা রোগীদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে না নতুন ভবন। এখনও কার্যক্রম চলছে পুরনো সেই ৩১ শয্যাবিশিষ্ট জরাজীর্ণ ভবনটি। নতুন ভবনে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসলেও এখনও অব্যবহৃত রয়েছে নতুন ভবনের কক্ষগুলো।

অভিযোগ উঠেছে, ৩১ শয্যা হাসপাতালেই চিকিৎসকের ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে কর্মরত অধিকাংশ চিকিৎসক আসেন ঢাকা থেকে। ফলে মাসে চার পাঁচ দিনের বেশি চোখে পড়ত না এসব চিকিৎসকদের। এরপর ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরও নতুন কোন জনবল বাড়ানো হয়নি। এমনকি ভবনটিও খোলা হচ্ছে না।

এদিকে জনবল বা চিকিৎসক ছাড়াও হাসপাতালে রয়ে গেছে নানা সমস্যা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে পুরো হাসপাতাল। এমনকি জরুরি বিভাগেও একমাত্র ভরসা মোম ও হারিকেনের আলো। পুরনো সেই অ্যাম্বুলেন্সটিও এখন রোগী বহনের অযোগ্য। মধুপুর থেকে ধার করে আনা এই অ্যাম্বুলেন্সটি কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের সামনেই পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আউটডোরে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। কেবিনগুলোতেও ভর্তি রয়েছে পর্যাপ্ত। হাসপাতালের চেক লিস্টটাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে মেডিসিন কনসালটেন্ট, সার্জারি কনসালটেন্ট, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সার্জারি গাইনি, নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও কনসালটেন্ট সহকারী এসব পদে লোকবল নেই। ফলে ৫০ শয্যা হাসপাতালের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মো.আব্দুর রহমান বলেন, নানা কারণে সম্প্রতি চারজন ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছে। ফলে ডাক্তার সংকট দেখা দিয়েছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালের সেবা পেতে হলে ডাক্তার প্রয়োজন। কিন্তু নতুন হাসপাতালের কোন ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ফলে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সচিবালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান হলে একদিকে যেমন রোগীদের জেলামুখী প্রবনতা কমে যাবে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে সাধারণ মানুষ।

(ঢাকাটাইমস/১২মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত