আলোচিত ইউএনও সাদমীনের কর্মতৎপরতায় ভাটা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ মে ২০১৭, ১২:০০ | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৭, ০৮:৩২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে থেমে গেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীনের কর্মতৎপরতা। সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ে নির্বাহী বিভাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ইউএনওর কর্মতৎপরতায় ভাটা পড়েছে। এজন্য বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, নদী থেকে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন, খাদ্যে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিসহ অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা তৎপর হয়ে উঠেছে।

গত সাত দিনে পাঁচটি বাল্যবিয়ে ছাড়াও নদী থেকে দিনে রাতে মাটি ও বালু লুট হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্ত আদালতের নিষেধাজ্ঞার ফলে  ইউএনওর কর্মতৎপরতা থেমে যাওয়ায় জনমনে  ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন চার মাস আগে এ উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কমপক্ষে ২০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। এছাড়া মাদক বিক্রি ও সেবন, নদী থেকে মাটি লুট, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং ইভটিজিংয়ের অপরাধে প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে জেল জরিমানা করে আলোচনায় আসেন তিনি। এই সমস্ত অপকর্মের খবর যেখানেই পেতেন সেখানেই হাজির হয়ে তা বন্ধ করতেন তিনি।

সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ে নির্বাহী বিভাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বন্ধ হয়ে পড়ে ইউএনওর এই কর্মতৎপরতা।
গত সাতদিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পাঁচটি বাল্যবিয়ে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উপজেলার, রশিদ  দেওহাটা, থলপাড়া, বহুরিয়া ও উয়ার্শী এলাকায় নদী থেকে দিনরাত মাটি ও বালু লুট হলেও তা বন্ধ করা কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানা গেছে। এতে করে সরকারের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ ছাড়াও নদী ও গ্রামীণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে ভয় ও আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। তারা আশঙ্কা করছেন নির্বাহী বিভাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ হওয়ার খবরে বখাটে ও ইভটিজারা সমাজে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, ছাত্রীদের স্কুলে আসা যাওয়ার পথে অনেক সময় ইভজিংয়ের শিকার হতে হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। এখন সে অবস্থা না থাকায় বখাটে ও ইভটিজাররা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া ইউএনও, এসিল্যান্ডের হাতে জেল জরিমানার ক্ষমতা থাকায় অপরাধীরা অনেকটা ভয়ে থাকতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মিয়াজ উদ্দিন বলেন, নৈতিকতার অভাব ও বেশি লাভের আশায় অনেকে খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে তা বিক্রি করলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে তা অনেকটা সহনশীল থাকত। কিন্ত তাদের সে ভয়টাও এখন আর রইল না। আসন্ন রমজানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত না হলে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি ও খাদ্যে ভেজালের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮মে/প্রতিনিধি/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত