পুলিশের ভুলে বিল্লালের ১৫ দিনের দুর্ভাগ্যের জেল

শওকত আলী, চাঁদপুর
| আপডেট : ১৯ মে ২০১৭, ১১:৩৪ | প্রকাশিত : ১৯ মে ২০১৭, ১১:১৮

‘নামে নামে জমে টানে’-বহুল প্রচলিত প্রবাদটির নির্মমতা বুঝেছেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সিংআড্ডা গ্রামের যুবক বিল্লাল পাঠান। এক ডাকাতি মামলার প্রধান আসামির সঙ্গে তার নামের মিল রয়েছে। এ কারণে ১৫ দিন তাকে থাকতে হয়েছে কারাগারে।

অবশেষে মুক্তি মিলল মিলল বিল্লাল পাঠানের। বৃহস্পতিবার তিনি চাঁদপুর আদালত থেকে বের হয়ে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ পান।

প্রায় ১২ বছর আগে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়া ডাকাত দলের এক সদস্য নিজের নাম বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলে জানান। তার গ্রাম কচুয়ার শিংআড্ডা বলেও উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত পান। আর ফরিদগঞ্জ থানার একটি ডাকাতির মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি।

কিন্তু ওই এলাকায় বিল্লাল হোসেন মোল্লা নামে কেউ না থাকলেও ছিলেন বিল্লাল হোসেন পাঠান। আর নামে এই মিল থাকার কারণে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে পুলিশ চলতি মাসের শুরুর দিকে তাকে আটক করে। তিনি সেখানে তরকারি বিক্রি করতেন। এরপর আসামি হিসেবে বিল্লালকে চাঁদপুর আদালতে চালান দেয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বিল্লালের পরিবারের সদস্যরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে প্রতীকী অনশন করে। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ভুইয়াসহ অনান্য নেতারা ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এরপর আইনজীবীরা চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মামনুর রশিদের আদালতে ঘটনাটি জানিয়ে বিল্লালের মুক্তি দাবি করেন।

এরপর বিচারক কারাগার থেকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। আর সে প্রতিবেদন আসার পরই বিল্লাল পাঠানকে মুক্তি দেওয়ার কাগজে সই দেন বিচারক মামুনুর রশিদ।

বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের চাঁদপুর কারাগারে এই আদেশ পাঠানো হলে বিল্লালকে তার পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

বিল্লাল পাঠান ঢাকাটাইমসসে বলেন, ‘আমি সকলের দোয়া এবং ভালোবাসায় আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছি । আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না। কিন্তু পুলিশ আমাকে যে হয়রানি করলো তার কী হবে? আমি যে ১৫ দিন কারাগারে থাকলাম, তার জন্য কে শাস্তি পাবে?’।

ভুল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলায় দায় কার-জানতে চাইলে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে নাম ঠিকানা সঠিক পেয়েছে। সে জন্যই গ্রেপ্তার করেছি আমরা। চাঁদপুর আদালত থেকেই ওয়ারেন্ট দেয়া হয়। পুলিশ শুধু আদালতের আদেশমত কাজ করেছে।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথমে মামলাটি ছিল ফরিদগঞ্জ থানার। আদালতকে বলা হয়েছে, আসামি ভাসমান। তারপরও আদালত তাকে জামিন দেয়। সেহেতু দায়ভার আদালতের ও জামিনদারের। ’

চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘যেহেতু আসামির নাম, পিতার নাম ও গ্রাম ঠিক পেয়েছে, সে জন্য কচুয়া পুলিশ তাকে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রকৃত আসামি ছিল ফর্সা, তার উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। আর যাকে আটক করা হয়েছে তিনি উচ্চতায় পাঁচ ফুট ও গায়ের রঙ কালো। প্রকৃত আসামি ছিল ভাসমান। তিনি মিথ্যা ঠিকানা দিয়েছিলেন। যার কারণে এই ঘটনা ঘটে।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রচেষ্টায় জয়লাভ করেছি। বিল্লাল হোসেন ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এতেই আমরা সন্তুষ্ট।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত