বেসরকারি রেডিও সিইওর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৭, ১৬:০৯

একটি বেসরকারি রেডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন তার এক সহকর্মী। নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ১০ ধারায় গত ১৭ এপ্রিল তিনি এই মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশ ইনভেসটিগেশন ব্যুরো-পিআইবি। 

মামলার এজাহার সূত্র জানা গেছে, মামলার বাদী গত ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ওই রেডিওতে আরজে পদে যোগদান করেন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কক্ষে বাদীকে বিভিন্ন সময়ে যেতে হতো। ওই কারণে ওই কর্মকর্তা বাদীকে বিভিন্ন সময়ে তার গেলে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং যৌন হয়রানি করত এবং মানসিক নির্যাতন করত।

এজাহারে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে বাদী চলতি বছরের ২ মার্চ অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  রেডিওর চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করেন। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হন। এতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাদীকে হুমকি এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাদী সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ৮ এপ্রিল বিকাল চারটার সময়ে বাদী চাকরিতে ইস্তফাপত্র জমা দিতে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চড় থাপ্পড় মারেন। পরে বাদী স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না দিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে বাদী ঢাকার নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ইনভেসটিগেশন ব্যুরো (পিআইবি)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিআইবির পরিদর্শক নুরুন্নবী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটা একটি সিআর মামলা। তদন্ত শেষ করে দ্রুততার মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে ও রেডিওর অভিযুক্ত সিইও ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটা একটা মিথ্যা বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক, গাঁজাখুরি মামলা। ওই কর্মী কখনো আমার রুমে আসেননি। উনি আরজে পদে কাজ করতেন। তার কাজ ছিল প্রোগ্রাম ম্যানেজারের সঙ্গে। তার কাজকর্মে সন্তুষ্ট না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে চলে যেতে বলেন। সেই ক্ষোভেই তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা করেছেন।’

সিইও বলেন, ‘মামলাটি এখন পুলিশ তদন্ত করছে। ওই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করে সহানুভূতি নিতে চাচ্ছেন। আমার অনুরোধ একটি তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনে আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করবেন না। ঘটনাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার ও প্রতিষ্ঠানের মানইজ্জত গেলে এর কী হবে?’

(ঢাকাটাইমস/২২মে/এএ/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত