কিশোরগঞ্জের হাওরে খাদ্য সংকট, অপ্রতুল ত্রাণ

আমিনুল হক সাদী, কিশোরগঞ্জ থেকে
 | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৭, ০৮:৪৪

কিশোরগঞ্জের হাওরে থামছে না বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাহাকার। আগাম বন্যায় ডুবে গেছে স্বপ্নের ফসল। এতে মানুষের খাদ্য সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সংকটও।

জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার অন্তত ৯০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ জন কৃষক। সরকারি হিসাবে ৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও প্রকৃতপক্ষে এর পরিমাণ হাজার কোটির বেশি বলে দাবি কৃষকদের।

এ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী ও ক্ষুদ্র চাষী পরিবারের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে এক লাখ ৩৫০ মে.টন। ১৫ হাজার পরিবারের জন্য নগদ বিশেষ বরাদ্দ হয়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে হাওরের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম চলছে।

হাওরের কৃষকদের দাবি- এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থায় ত্রাণ তৎপরতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া কৃষি ঋণ মওকুফ ও কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হাওরে বিভিন্ন জলায়শয়গুলোর লিজ বাতিল করে এগুলো জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকের ঘরে খাবার নেই। ফসল ডুবে যাওয়ায় চালের দাম বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। অপরদিকে হাওরের জলমহালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় হাওরবাসী মাছ ধরতে পারছে না। এ অবস্থায় খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে হাওরবাসীর। হাওরের অনেক মানুষ এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দীন বিশ্বাসের বরাত দিয়ে ঢাকাটাইমসকে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এর আগে সাড়ে ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী ও ক্ষুদ্র চাষি পরিবারের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে এক লাখ ৩৫০ মে.টন চাল। ১৫ হাজার পরিবারের জন্য নগদ বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া গেছে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা। হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে সরকার সব ধরনের সহযেগিতার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাওরের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে ওএসমএস ডিলারের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ফসল উঠার আগ পর্যন্ত হাওরবাসীকে খাদ্য সহায়তা ও কৃষিতে সহযোগিতা করা হবে।

ঢাকাটাইমস/২৭মে/প্রতিনিধি/জেবি 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত