বিশৃঙ্খলা করলে কাউকেই ছাড় দেই না: ছাত্রলীগ সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২৭ মে ২০১৭, ০৯:৫১ | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৭, ০৮:৫৯

হাল আমলে আলোচিত-সমালোচিত সংগঠন ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালনকারী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ইদানীং প্রায়ই শিরোনাম হচ্ছে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে। আর মূল দল আওয়ামী লীগও প্রায়ই বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তাগিদ দিয়েছে গৌরবের ইতিহাস ফিরিয়ে আনার।

দুই বছর আগে নতুন ২০১৫ সালের  ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিকে দায়িত্ব দেয়ার সময়ই সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর দুই বছরের চেষ্টায় সংগঠন এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। ঢাকাটাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কোনো ঘটনায় অভিযুক্তদেরকে তারা ছাড় দেননি। এ কারণে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সুনাম ফিরে আসছে।  আলাপচারিতায় ছিলেন তানিম আহমেদ।

দায়িত্ব নেয়ার পরের সময়ের মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?

এই দুই বছর আমাদের সাধ্যমত কাজ করেছি। প্রায় ১৪টি সাংগঠনিক শাখার সম্মেলন করেছি। ২৬ টি শাখার নতুন কমিটি দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার সম্মেলন করেছি। যা ছাত্রলীগের ইতিহাসে প্রথম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা চালু করেছি। এছাড়াও সংগঠনের তৃণমূলে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সফর নিশ্চিত করেছি। যা আগে খুবই কম ছিল। আগামী বছরের শেষের দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে- তা হলো ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। এগুলোর আগেই আমরা আমাদের সংগঠনকে ঢেলে সাজাব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এ ছাত্র সংগঠন নিয়ে যে চিন্তা করেছেন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে কাজ করব।

দুই বছরের আপনাদের সফলতা কী?

দুই বছরে আমরা সফলতা অর্জন করেছি। ছাত্রলীগ এখন শতভাগ সুশৃঙ্খল সংগঠনে পরিণত করেছি। যেখানেই কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আর বিশৃঙ্খলাকারীদের স্থান ছাত্রলীগে নেই। যেখানেই বিশৃঙ্খলা হবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।

দুই বছরে আপনাদের ব্যর্থতা কী ছিল?

আমাদের ব্যর্থতা মূল্যায়ন করবে জনগণ। আমাদের ব্যর্থতা গণমাধ্যম কর্মীরা ধরিয়ে দেবে। আমরা তা সংশোধন করে নেব।

ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে...

ছাত্রলীগ একটি পবিত্র সংগঠন। একে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এবং সমাজের কাছে ছোট করার জন্য অনেক খারাপ লোক প্রবেশের চেষ্টা করে। তাঁরা বিভিন্ন জায়গা প্রবেশ করে। এটা জানামাত্র আমরা কঠোর হস্তে দমন করি। আগামীতেও আরও কঠোর হস্তে দমন করব।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনির নাতি স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে...

এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। আপনারা আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সাথে কথা বলে জানতে পারবেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। তোফায়েল আহমেদের সাথে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তিনি দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, এরা কোন অপরাধী পরিবারের সন্তান না।

গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন?

বিশ্ববিদ্যালয়টি এক সময় শিবিরের ঘাঁটি ছিল। সেখানের অনেক শিবির কর্মী আমাদের সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন অপকর্ম করছে। তাদের আমরা চিহিৃত করছি। আশা করি, চট্টগ্রামের সমস্যা আমরা দ্রুতই কাটিয়ে উঠতে পারব।

ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

ছাত্রদলই এখন ক্যাম্পাসে আসতে চাইলে আসতে পারে। আর তারাই তো ক্যাম্পাসে আসে না। ছাত্র ইউনিয়নসহ সব বাম সংগঠনগুলোই ক্যাম্পাসে আছে। ছাত্রদল দুটি কারণে কোন ক্যাম্পাসে আসতে পারে না। এর একটি হলো- পূর্বের অপকর্ম। আরেকটা হলো তাদের বয়স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্রের বয়সতো ৪০-৫০ হতে পারে না। ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হলে, তাদের সন্তানকে নিয়েই আসতে হবে।

ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রভাব কতটুকু?

আওয়ামী লীগ নেতারা প্রভাব বিস্তার করেন না। তাদের জ্যেষ্ঠ নেতারা আমাদের পরামর্শ দিতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাদের সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। খুবই দুঃসময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আমাদের সবসময় ভাল ভালো পরামর্শ দেন। ভালো পরামর্শ দিলেতো আমরা নেবই। সংগঠন চালাতে হলে বড়ভাইদের পরামর্শ নিতেই হবে।

গঠনতন্ত্রে দুই বছর পরপর ছাত্রলীগের সম্মেলনের কথা রয়েছে। আগামী সম্মেলনের জন্য কি আপনারা প্রস্তুত?

প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমাদের নেত্রী যখনই নির্দেশ দেবেন, তখনই আমাদের পরবর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

ছাত্রলীগে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন করে কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে কেন?

কমিটি রিসাফল করা হচ্ছে। আরেকটা কথা হলো, নতুন কমিটির সবাই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য না। আমাদের একটা হলো কেন্দ্রীয় কমিটি আরেকটা হলো কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। আমরা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।  অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমরা ১০০+ সদস্য দিতে পারি। কেন্দ্রীয় কমিটির এ নেতারা বর্ধিত সভায় অংশ নিতে পারে না। আবার ভোট দিতে পারবে না। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের চারটি সম্পাদকীয় পদ খালি হয়েছে, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন। আবার কেউ বিয়ে করছেন, তাই ফাঁকা পদে তো আমাদের দায়িত্ব দিতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসোইনের সাথে আপনার দ্বন্দ্বের গুঞ্জন রয়েছে...

আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলে সংগঠন চলে নাকি? আমরা সবসময়ই একসাথে থাকি। সংগঠনকে ছোট করার জন্যই এ অপপ্রচার করা হচ্ছে। সে আমার ছোট ভাই। আমি যে হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক (জিয়া হল) ছিলাম, সে কমিটির সদস্য ছিল সে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠনের পরিকল্পনা কতটুকু আগাল?

প্রায় ২২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কমিটি রয়েছে। আরও ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠন করা কাজ চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ কাজ আমরা শেষ করতে পারব।

ডাকসুসহ ছাত্র সংসদদের নির্বাচনের দাবিতে আপনারা সোচ্চার নন কেন?

ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন। সর্বশেষ রাষ্ট্রের অভিভাবক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। আর আমরাও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে, টিভি টকশোতে এ বিষয়ে কথা বলছি। আমি মনে করি এটা সময়ের দাবি। আশা করি খুব শিগগির ডাকসুর নির্বাচন হবে।

ছাত্রদের কল্যাণে আপনারা কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

ছাত্রলীগ ছাত্রদের সংগঠন। আগে তো আমরা ছাত্র। তারপর আমরা সংগঠনের নেতা-কর্মী। আমাদের মূল কাজ হলো ছাত্রদের অধিকার আদায় করা। ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যারা দেশের সবক্ষেত্রেই অবদান অতীতে রেখেছে, এখনও রাখছে। ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনও আমরা সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে করেছি এবং সফল হয়েছি।

প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন?

এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমরা তাদের সাথে কথা বলবো। সবকিছুই আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে হয় না। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সাথে একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধেও আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করব এবং এ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাব। কারণ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিবে ছাত্রলীগ।

প্রধানমন্ত্রী তো আপনাদেরকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলেছেন...

আমি মনে করি বাংলাদেশে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে মাদক। সম্প্রতিক সময়ে আমরা যেখানেই গিয়েছি মাদকের বিরুদ্ধ জনমত গড়ে তুলতে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হচ্ছে এবং নির্মূল হবেই। মাদক কিন্তু জঙ্গিবাদ থেকে কোন অংশেই কম না। মাদক বর্তমান প্রজন্ম এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অতি ভয়ানক। আমি মনেকরি সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম চাওয়া নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গঠন। এ ক্ষেত্রে আপনারা কী করছেন?

নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গঠনে আমরা বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে কাজ করব। সাক্ষরতা হার নির্ণয়ে আমরা সারা দেশের ডাটা তৈরি করছি। রংপুর বিভাগীয় এরই মধ্যেই কাজ শুরু করেছি। ডাটাবেজ তৈরি করার পর আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

এবারের বই মেলায় আপনার লেখা ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস বইটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগামী মেলার জন্য কোন পরিকল্পনা?

বইটি ছিলো প্রথম খণ্ড। কাজেই দ্বিতীয় খণ্ডতো বের করতেই হবে। এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে।

ঢাকাটাইমস/২৭মে/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত