বগুড়ার গুন্দইলবাসীর জীবিকা পাঁপড়ে

মুনিরুজ্জামান মুনির, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)
 | প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৭, ০৯:৩৭

‘পাঁপড়’ শব্দটির সাথে পরিচিত নন- এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। অধিকাংশ লোকই খাবারের বিভিন্ন উপকরণের সাথে পাঁপড় খেতে ভালবাসেন। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আড্ডায় পাঁপড় না হলে মনে হয়, যেন আড্ডাটাই পূর্ণাঙ্গতা পাচ্ছে না। ঈদ মেলা, পূজা মেলা, বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় এই  পাঁপড়ের জুড়ি নেই।

আর যাদের জীবন জীবিকা এই পাঁপড় শিল্পের ওপর নির্ভরশীল- এমন একটি জায়গা হচ্ছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পৌর এলাকার গুন্দইল। এখানে প্রায় অর্ধশত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই পাঁপড় তৈরির সাথে যুক্ত। তাদের জীবন জীবিকা এই পাঁপড়ের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।

এই ব্যবসায় পূঁজির প্রয়োজন হয় ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। অল্প পূঁজিতে লাভজনক ব্যবসা। এক কেজি ময়দায় ৬৫ পিস পাঁপড় হয়। প্রতিটি পাঁপড়ের উৎপাদন খরচ ১ থেকে ২ টাকা। বিক্রয় মূল্য ৫ টাকায়।

১৩ বছর ধরে এ শিল্পের সাথে যুক্ত গৌর চন্দ্র জানান, এ পাঁপড় তৈরি করতে প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা নিয়ে এর সঙ্গে পরিমাণমতো লবণ, কালিজিরা, খাওয়ার সোডা, বেসন ও খাবারের রং ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর  হাঁড়িতে পানি দিয়ে চুলা জ্বালাতে হবে। পানি ফুটে উঠলে হাঁড়ির ওপর একটা স্টিলের প্লেট বসিয়ে তাতে এক চামচ মিশ্রণ ঢেলে দিয়ে প্লেটটি ঘুরিয়ে মিশ্রণটুকু পাঁপড়ের আকারে গোল করতে হবে। কিছুক্ষণ পর পাঁপড়টি ভাপে সেদ্ধ হলে নামিয়ে রোদে শুকাতে হবে। তারপর সেগুলো ভেজে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

পাঁপড় তৈরি করতে বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। দু-তিন দিন প্রশিক্ষণ নিয়েই পাঁপড় তৈরি করা যায়। পাঁপড় তৈরি করেন এমন ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করে শিখে নেয়া যেতে পারে।

বছরের ভাদ্র থেকে মাঘ এই ৬ মাস এর চাহিদা থাকে বেশি। আর বর্ষায় এটা তৈরি করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। কারণ পাঁপড় তৈরি পর তা রোদে শুকাতে হয়। পাঁচ হাজার পাঁপড় তৈরি করতে খরচ হয় ৩ হাজার ৮শ টাকা। আর পাঁচ হাজার পাঁপড় বিক্রয় করে লাভ হয় ১ হাজার ১শ টাকা।

সামান্য লাভ তাও সবসময় পাওয়া যায় না। কারণ বিক্রয়ের জন্য বাড়তি পরিবহন খরচ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণেও অনেক সময় মাল পচে যায়। ফলে ওই সময় তাদের মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

বর্তমানে বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা, রাজশাহী, নাটোর,  চাপাইনবাগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার গুন্দইল গ্রামে পাঁপড় ক্রয় করতে আসেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।

গুন্দইল গ্রামের অর্ধশত পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পাঁপড় শিল্পের সাথে জড়িত।

পাঁপড় শিল্পের আরো অগ্রসর হওয়ার জন্য সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরো অগ্রগতি হবে বলে জানান এই শিল্পের সাথে যুক্ত গুন্দইলবাসী।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিন জানান, গুন্দইল গ্রামটি পৌরসভার আওতায় হওয়ায় আমরা তাদের ভিজিডি সুবিধা দিতে পারছি না। তবে তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করছি এবং যারা অষ্টম শ্রেণি পাস তাদের জন্য অচিরেই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। যাতে করে তারা নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/৩১মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত