রোজার প্রয়োজনীয় মাসয়ালা

ইসলাম ডেস্ক
| আপডেট : ৩১ মে ২০১৭, ১৬:১০ | প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৭, ১৬:০৮

রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। এর পালনে কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় বিধানগুলো জানা না থাকার কারণে সারাদিন উপোস থাকার পরও রোজা হয় না। প্রত্যেক রোজাদারের জন্য রোজার প্রয়োজনীয় মাসয়ালাগুলো জেনে নেয়া উচিত।

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা-কাফফারা ওয়াজিব হয় সেগুলো হলো ১. ইচ্ছাকৃত কিছু খেলে বা পান করলে; ২. স্ত্রী সহবাস করলে; ৩. কোনো বৈধ কাজ করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত খেলে; ৪. কানে বা নাকে ওষুধ ঢুকালে; ৫. ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে অথবা অল্প বমি আসার পর তা গিলে ফেললে; ৬. কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতরে পানি চলে গেলে; ৭. কামভাবে কাউকে স্পর্শ করার পর বীর্যপাত হলে; ৮. খাদ্য না এমন বস্তু খেলে, যেমন: কাঠ, কয়লা, লোহা ইত্যাদি; ৯. ধূমপান করলে; ১০. আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছা করে নাকে ঢুকালে; ১১. সময় আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহেরি খেলে; ১২. ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের আগেই ইফতার করে ফেললে; ১৩. দাঁত দিয়ে বেশি পরিমাণ রক্ত বেরিয়ে তা ভেতরে চলে গেলে; ১৪. জোর করে কেউ রোজাদারের গলার ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে দিলে; ১৫. হস্তমৈথুন দ্বারা বীর্যপাত ঘটালে; ১৬. মুখে পান রেখে ঘুমালে এবং সে অবস্থায় সেহেরির সময় চলে গেলে; ১৭. রোজার নিয়ত না করলে; ১৮. কানের ভেতরে তেল ঢুকালে।

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয় সেগুলো হলো: ১. বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছু চিবালে; ২. তরকারির লবণ টেস্ট করে ফেলে দিলে; ৩. মাজন, কয়লা, গুল বা পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে;  ৪. রাতে ফরজ হওয়া গোসলসহ সারাদিন অতিবাহিত করলে; ৫. রোজা অবস্থায় রক্তদান করলে; ৬. পরনিন্দা, কুৎসা, অনর্থক কথা ও মিথ্যা বললে; ৭. ঝগড়া, ফাসাদ ও গালমন্দ করলে; ৮. ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে অস্থিরতা প্রকাশ করলে; ৯.  মুখে থুথু জমা করে গিলে ফেললে; ১০. স্ত্রীকে কামভাবের সঙ্গে স্পর্শ করলে; ১১. মুখে কিছু চিবিয়ে শিশুকে খাওয়ালে; ১২. বুটের কণার চেয়ে ছোট কিছু দাঁতের ফাঁক থেকে বের করে গিলে ফেললে।

যেসব কারণে রোজা ভাঙে না সেগুলো হলো: ১. ভুলে কিছু খেলে বা পান করলে; ২. অনিচ্ছাকৃত বমি করলে; ৩. রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে; ৪. অসুস্থতাজনিত কারণে বীর্যপাত হলে; ৫. স্বামী-স্ত্রী চুম্বন ও আলিঙ্গন করলে।

কেউ ইচ্ছাকৃত রোজা ছেড়ে দিলে তাকে একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। মাঝে একটি রোজা ছুটে গেলে আবার ৬০টি রোজা রাখতে হবে। তবে কেউ ৬০টি রোজা একাধারে রাখতে সক্ষম না হলে ৬০ জন মিসকিনকে তৃপ্তি সহকারে দুই বেলা খাওয়াতে হবে, অথবা একজন মিসকিনকে ৬০ দিন দুই বেলা করে খাওয়াতে হবে। রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু খেলে অথবা পান করলে তার ওপর রোজার কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর ইচ্ছাকৃতভাবে দৈহিক মিলন ঘটলে তাদের ওপর রোজার কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে।

(ঢাকাটাইমস/৩১মে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত