‘ফ্রুট ব্যাগিং’য়ে বাড়ছে চাঁপাইয়ের আম রপ্তানির পরিমাণ

জহুরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে
| আপডেট : ০১ জুন ২০১৭, ০৯:১৪ | প্রকাশিত : ০১ জুন ২০১৭, ০৮:৪৪

বিদেশে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে সহায়ক হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ প্রযুক্তির ব্যবহার। এই পদ্ধতি ব্যবহারে চাহিদা অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন আম উৎপাদন হওয়ায় বাড়ছে রপ্তানির পরিমাণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে, অতিরিক্ত কীটনাশকের প্রয়োজন না হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে আমচাষের প্রসার ঘটাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, দেশের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। প্রতি বছর আড়াই লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম এখানে উৎপাদন হলেও রপ্তানিতে অবস্থান ছিল শূন্যের কোঠায়। এই অবস্থায় ২০১৪ সালে চীন থেকে আমদানি করা একটি বিশেষ জাতের ব্যাগ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হয় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতির ব্যবহার।

বাগানমালিক গোলাম মুখলেসুর রহমান পলাশ, আব্দুল হাদি ও মেরাজুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ায় ২০১৫ সালে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু করেন জেলার বাগান মালিকরা। এতে করে আর কোনো বাড়তি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে উৎপাদিত আমের চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় চলতি বছর কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই ব্যাগের ব্যবহার।

ব্যাগ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মনামিনা এগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী নাইজার আহম্মেদ নাহিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি কীটনাশক খরচ অনেক কমে যাওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা বেড়ে গেছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন জানান, জেলায় গত বছর ৩০ লাখ ব্যাগ ব্যবহার হলেও এ বছর প্রায় দেড় কোটি ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। মানসম্পন্ন নিরাপদ, শতভাগ রোগ ও পোকা-মাকড়মুক্ত আম উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়াও ব্যাগিং করা আম সংগ্রহের পর ১০-১৪ দিন পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে সুফল পেতে শুরু করেছেন। প্রযুক্তিটি আমচাষিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম খেতে পারবে ভোক্তারা। তিনি বলেন, ‘এ প্রযুক্তির আম ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মান, মালয়েশিয়া, কাতার, সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি হবে। তবে, ইতিমধ্যে চীন ও জাপান এ প্রযুক্তির আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা জানান, আম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হওয়ায়, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে আম চাষের প্রসার ঘটাতে কৃষকদের পরামর্শসহ সব ধরনের সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫ সালে জেলা থেকে আম রপ্তানি হয় মাত্র তিন মেট্রিক টন; যা ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ১৫০ মেট্রিক টন। এ বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হবে এবং রপ্তানির পরিমাণ গতবারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হবে।

(ঢাকাটাইমস/০১জুন/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত