লংগদুতে ২০০ বাড়ি পোড়ার অভিযোগ, বৃদ্ধা নিহত

রাঙামাটি প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০১৭, ১৬:২৬

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার চারটি গ্রামে দুর্বত্তদের আগুনে পাহাড়িদের দুই শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছেন গুণাবালা চাকমা (৭০) নামের এক বৃদ্ধা।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন দেয়া শুরু হয়। চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে দুপুর ১২টায় জারি করা ১৪৪ ধারা এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বহাল আছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাড়াগুলো হলো তিনটিলা পাড়া, মানিকজোড় ছড়া, বাত্যাপাড়া, বড় আদাম। অগ্নিসংযোগের আতঙ্কে অনেক পাহাড়ি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়।

এই ঘটনার জন্য অ-উপজাতিদের দায়ী করছেন পাহাড়িরা। অগ্নিসংযোগের সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। তারা হলেন মো. শরীফ (২৮), মো. সবুজ (৩০), মো. আবুল খায়ের (৩৭)।

স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লংগদুর বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায় খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলার চার মাইল এলাকায়। তার লাশ শুক্রবার সকালে মিছিল নিয়ে লংগদু সদর মাঠে আনা হচ্ছিল। চার-পাঁচ হাজার মানুষের মিছিলটি কাত্তল তলার জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) অফিসের সামনে পৌঁছলে অফিস ভাঙচুর শুরু হয়। এর পরপর পাহাড়ি গ্রামে বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয় বলে অভিযোগ।

তিনটিলার বাসিন্দা ও স্থানীয় জেএসএ নেতা মনিশংকর চাকমা বলেন, ‘আমার ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দুপুর ১২টার দিকে ১৪৪ ধারা জারির পরও দুপুর দুইটা পর্যন্ত বড় আদাম, বাত্যা পাড়ায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।’ চার গ্রামে দুই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘লংগদু ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়িতে এক বৃদ্ধা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।’
আড়াই শ ঘর পুড়েছে বলে দাবি করেন লংগদু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আমার বাড়িতে আশ্রয় নিতে এসে গুণাবালা চাকমা বাড়ির ভেতর আগুনে পুড়ে মারা গেছে।’ তিনজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালক নিহতের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে সম অধিকার আন্দোলন, বাঙালি ছাত্র পরিষদ মিছিল বের করে। মিছিলের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয়। এরপর ঘটনার সূত্রপাত হয়।  

তবে সম অধিকার আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি ছিল না বলে দাবি করেন সংগঠনটির  রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি প্রতিবাদী মিছিলের ওপর গুলতি দিয়ে গুলি মারা হয়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিছিলকারীরা।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলামের লাশ নিয়ে শোক মিছিল থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পরে মিছিলকারীদের কেউ কেউ পাহাড়িদের ঘরে হামলা চালায়। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বেশ কিছু বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দিঘীনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের খাগড়াছড়ি সদর থানার চার মাইল এলাকার মূল সড়কের পাশে মো. নুরুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। তিনি মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে লংগদু থেকে  খাগড়াছড়ি গিয়েছিলেন।
খাগড়াছড়ি থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ হান্নান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের পাশে নুরুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। তবে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়নি। এটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এটি হত্যা না দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত নয়, তবে তার শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত