যশোরে দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

বেনাপোল প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ জুন ২০১৭, ১০:০১ | প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০১৭, ০৮:১৭

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বেলোকাটি গ্রামে একটি পরিবার ১৫ দিন ধরে বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে চলা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য টাকা চেয়ে না পাওয়ায় স্থানীয় মেম্বার খলিলের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এছাড়া মামলা ও ভাঙচুর করে ওই জমি প্রতিপক্ষের দখলে দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে ওই পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে গৃহবধূ মমতাজ বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেম্বার খলিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর আগে উপজেলার বেলোকাটি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল আজিজ বিশ্বাস একই গ্রামের খোকন সরদারের কাছ থেকে পাঁচ শতক জমি কিনে তাতে বাড়ি নির্মাণ করেন। এক বছর আগে ওই জমিতে নিজের তিন শতক জমি আছে এমন দাবি করেন একই গ্রামের বিলায়েত মোড়লের মেয়ে সেলিনা খাতুন। পরে এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিরসনে ২০/২২ দিন আগে সংশি¬¬ষ্ট এলাকার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে ওই গ্রামের মেম্বার খলিলুর রহমান, কওছার আলীসহ আরও কয়েকজনকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান।

শিক্ষক আব্দুল আজিজের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, বিষয়টি সমাধান করতে মেম্বার খলিলুর তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারকে ফাঁসাতে নানা রকম ষড়যন্ত্র করেন। সালিশের দুই দিন পার হতে না হতেই ওই মেম্বার সেলিনা খাতুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গত ১৫মে খলিলুর রহমান ও কওছার আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক লাঠিসোটা, সবল দিয়ে তাদের গোয়াল ঘর ভাঙচুর করে এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু লুট করে। বাধা দিতে গেলে তিনি, তার শাশুড়ি খতেজান বিবি ও জা নুরুন্নাহারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের গোয়াল ঘর ভেঙে তিন শতক জমি বাঁশের কঞ্চির বেড়া দিয়ে ঘিরে সেলিনা খাতুনের দখলে দিয়ে আসে বলে অভিযোগ করেন মমতাজ।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলা নেয় বলে অভিযোগ করেন মমতাজ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেম্বার খলিলুর রহমান। তিনি জানান, ‘সেলিনার জমি সেলিনাই দখল করেছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। তবে আমি বেড়া তুলে দেয়ার চেষ্টা করছি, যাতে তারা চলাচল করতে পারেন।’

এ ব্যাপারে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘বিষয়টি নিরসনের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাকে বলেছেন। পরিবারটি যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কবীর হোসেন বলেন, ‘তারা আমার কাছে অভিযোগ দিতে এসেছিল। কিন্তু বিষয়টি বহুদূর গড়িয়েছে। এখন আমার করার কিছুই নেই। তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এলাকার চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিরসনের জন্য বলা হয়েছে।’

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ‘এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঢাকাটাইমস/৫জুন/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত