প্রধান শিক্ষক নেই ফরিদগঞ্জের ৫৫ স্কুলে

শওকত আলী, চাঁদপুর থেকে
 | প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০১৭, ০৮:৩৫

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী অনেক শিক্ষক দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এর ফলে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে দারুণভাবে। এদের মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে কয়েক বছর থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ চররামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক নেই ১০ বছর ধরে। ফলে সহকারী শিক্ষকরাই নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এতে বিঘœ ঘটছে শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়ন। সৃষ্টি হচ্ছে প্রশাসনিক জটিলতা।

উপজেলাটিতে এ রকম আরও ৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, যেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসবের মধ্যে ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যথাক্রমে, শোশইরচর সপ্রাবি, দিগধাইর সপ্রাবি, ফরিসাইর সপ্রাবি, সবিদপুর সপ্রাবি, গুয়াটোবা সপ্রাবি, শ্রীকালিয়া সপ্রাবি, গল্লাক সপ্রাবি, আস্টা সপ্রাবি ভোটাল সপ্রাবি, পূর্ব বদরপুর সপ্রাবি, পশ্চিম হর্ণি সপ্রাবি, দক্ষিণ চররামপুর সপ্রাবি, পশ্চিম পোয়া সপ্রাবি, রামপুর বাজার সপ্রাবি, মনতলা সপ্রাবি, দক্ষিণ বিশকাটালি সপ্রাবি, পাইকপাড়া বালিকা সপ্রাবি, পূর্ব ভাওয়াল সপ্রাবি, পূর্ব আলোনিয়া সপ্রাবি, একলাশ সপ্রাবি, উত্তর সন্তোষপুর সপ্রাবি ষোলদানা সপ্রাবি, রুস্তমপুর সপ্রাবি, লক্ষ্মীপুর সপ্রাবি, সকদিরামপুর সপ্রাবি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন কবির বলেন, সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিলে এতগুলো বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শূন্য থাকতো না। প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে সরকারকে আরো গতিশীল হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ চররামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান রানা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকলে একটি বিদ্যালয়ের কী যে দুর্গতি হয়, তা সাক্ষী তার প্রতিষ্ঠানটিই। তিনি দ্রুত প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণের দাবি জানান।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদ উদ্দীন আহম্মদ জানান, ইতোপূর্বে প্রধান শিককের পদ শূন্যের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান। সেই আলোকে গত কয়দিন আগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য ৫৫টি বিদ্যালয়ের তালিকাসহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

ঢাকাটাইমস/৫জুন/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত