ঈদবাজার

এখনো জমেনি মিরপুরের ‘বঙ্গবাজার’

লেখা ও ছবি: শেখ সাইফ
| আপডেট : ০৬ জুন ২০১৭, ১৬:০৮ | প্রকাশিত : ০৬ জুন ২০১৭, ১৬:০৫

‘খারাপ অবস্থায় আছি। গত রোজায় এই সময় ৫০-৬০ হাজার টাকার বেচাবিক্রি হয়েছিল। এবার সেখানে ১০ হাজার টাকার বেচাবিক্রিও হয়নি।’ বলছিলেন মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরের নান্নু মার্কেটের রাহিমা ফ্যাশনের রনি আলম।

রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরে নান্নু মার্কেট। রাজধানীর বঙ্গবাজারের মতোই মার্কেটটি গড়ে উঠেছে। সড়কের দুধারে সারি সারি পোশাকের দোকান।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিপণি বিতানগুলো ঘুরে দেখা গেল বিক্রয় প্রতিনিধিরা অনেকটাই অলসভাবে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ওয়াজ নসিয়ত শুনছেন। আবার অনেকে দুয়েকজন ক্রেতাকে ডেকে ডেকে কেনাকাটায় আকৃষ্ট করছেন। নান্নু মার্কেটের কেনাকাটা নিয়ে কথা হয় সুমনা ফ্যাশনের বিক্রয় সানি আলম। তিনি বলেন, ‘গত বছরের এ সময়ে রোজার তুলনায় এবারের বিক্রি একেবারেই কম। নেই বললেই চলে।’ তবে ১৫ রোজার পর বেচাবিক্রি ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বেচাবিক্রি কেন কম হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাঙা মাসে রোজা শুরু হওয়ায় অনেকের হাতে টাকা-পয়সা নেই। এখন সবাই বেতন পাবে। তবে আর একটা কারণও আছে বিক্রি কম হওয়ার। অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গাজীপুরে চলে গেছে। আমরা আগে যেভাবে সহজে কেনাকাটা করতে পারতাম। সেভাবে এখন পাওয়া যাচ্ছে না এটিও একটি কারণ।’

কী ধরনের পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে বিক্রয়কর্মী সোহাগ আলী বলেন, ‘আমাদের এখানে হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, বাচ্চাদের শার্ট, জিন্স প্যান্ট, থ্রি কোয়ার্টার, হাফ প্যান্ট, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, পোলো শার্ট প্রভৃতি বিক্রি করে থাকি।’     

আমিন ফ্যাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি আমিন মুন্সির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘রমজান পড়েছে ভাঙা মাসে তাই এখন বেচাবিক্রি কম। তবে বিকাল থেকে কিছুটা বেচাবিক্রি হচ্ছে। আর সন্ধ্যার পর কিছুটা হচ্ছে।’

মার্কেট খোলার সময় নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, সকাল ৯টা, ১০টা থেকে এখন মার্কেট খোলা হয়। আর বন্ধ করা হয় রাত ১১টার দিকে। তবে ঈদের জন্য অনেকে রাত ১২টা পর্যন্তও খোলা রাখবে। আর ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে রাত ২টা পর্যন্তও খোলা রাখা হয়।’

পোশাকের মূল্য নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে নির্ধারিত মূল্যে কোনো পণ্য বিক্রি করা হয় না। দামদর করে কেনাকাটা করে ক্রেতা সাধারণ। তবে পাঞ্জাবি ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা এর মধ্যে পাওয়া যাবে। জিন্স প্যান্ট ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। ছোটদের পোশাক ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, গেঞ্জি ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, পোলো শার্ট ২০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, শার্ট ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, থ্রি কোয়ার্টার ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, হাফ শার্ট ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।’

আফ্রিন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বেচাবিক্রি টুকটাক হচ্ছে, তবে আগের বছরের তুলনায় কম। তবে দুই একদিনের মধ্যে বেচাবিক্রি বেড়ে যাবে বলে আশা করছি।’

মিরপুরের নান্নু মার্কেটের বিপণি বিতানগুলো ঘুরে দেখা গেল প্রায় সবাই একই রকম কথা বলছেন। বেচাবিক্রি এখনো জমেনি। মাসের শুরুতে রোজা আরম্ভ না হওয়ায় ক্রেতাসমাগম কম। বেতন হাতে পেলেই ক্রেতারা কেনাকাটা করতে শুরু করবে বলেও জানান।

(ঢাকাটাইমস/০৬জুন/এসএস/জেবি)    

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত