মালয়েশিয়া বসেই ‘বড় ভাই’য়ের নির্বাচনী ভাবনা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ০৯:৩৫ | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০১৭, ০৯:০৮

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে গুলশান-বাড্ডা এলাকা থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করেছিলেন বিএনপির নেতা এম এ কাইয়ুম। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি তাই তিনিও আর প্রার্থী হননি। তবে এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও দলে শুরু হয়েছে। কিন্তু এই যখন অবস্থা তখন দেশে নেই কাইয়ুম।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর কিছুদিন আগে প্রকাশ পায় তিনি মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছেন। নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার পর তাকে প্রকাশ্যেও দেখা গেছে। অন্যদিকে রাজধানীতে ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যা মামলায় তার বিচার শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক কাইয়ুম ঢাকা মহানগর কমিটির শেষ কমিটিরও যুগ্ম আহ্বায়ক। সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকার সময় তিনি গুলশান-বাড্ডা এলাকার কমিশনার ছিলেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে গুলশান-বাড্ডা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কাইয়ুম।

১৯৯১ সাল থেকে শুরু। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আলোচনায় আসতে থাকে কাইয়ুমের নাম। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি ‘ক্যাডারভিত্তিক’ রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানা গেছে।

প্রথমে ওয়ার্ডে পদ পেলেও পরে বাড্ডা থানার পদ পান। সিটি করপোরেশনের কমিশনারও ছিলেন। পরে সাদেক হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয় তাকে। সবশেষ ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

বিএনপির রাজনীতিতে বেশ প্রভাব বিস্তারকারী কাইয়ুমকে ২০১৫ সালে ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যা মামলায় আসামি করে পুলিশ। ইতিমধ্যে মামলার অভিযোগ গঠন হয়েছে। তবে এরই মধ্যে দেশ ছাড়েন কাইয়ুম। এর মধ্যে তিনি বড় ভাই উপাধি পেয়ে গেছেন। তাভেল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কয়েকজন জানিয়েছেন, এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে এই খুন করেছে তারা। আর সেই বড় ভাই যে কাইয়ুম, সেটি পরে জানিয়েছে পুলিশ।

মুখে আন্দোলন করে সরকারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে বিএনপি। তবে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সারাদেশে প্রার্থী তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। প্রার্থী হতে আগ্রহীরাও দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। অনেকে গণসংযোগও শুরু করে দিয়েছেন।

কাইয়ুমের সমর্থক নেতাকর্মীরাও চাচ্ছেন তাদের নেতা যেন এলাকায় ফিরে এসে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের লক্ষ্যে মাঠ প্রস্তুত করুন। কিন্তু আপত  দৃষ্টিতে সে রকম কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

কাইয়ুমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহানগর উত্তর যুবদলের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দল যখনই নির্বাচনে যাক তাকে (কাইয়ুম)তো দেশে আসতে হবে। কারণ স্বশরীরে থাকা আর দূরে বসে দল চালানো তো এক না। কিন্তু কবে আসতে পারবেন তা তো কেউ জানে না।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বাধীন মহানগর কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। এরপর ওই বছর ১৮ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক করে ৫২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের।

এর দুই বছর আট মাস পর ঢাকাকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন কমিটি দিল বিএনপি। ঢাকা দক্ষিণের ৭০ সদস্যের এবং উত্তরের ৬৪ সদস্যের এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করেন। উত্তরে সভাপতি করা হয় এম এ কাইয়ুম।

তবে আন্দোলন ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কর্মীরা তাদের নেতাকে কাছে পেতে চাইলেও কাইয়ুম যে শিগগিরই দেশে ফিরছেন না তা তার নিজের কথাই ফুটে উঠেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর মালয়েশিয়াতে সংবর্ধনায় তিনি বলেছেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সরাসরি না থাকতে পারলেও দূরে বসে নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দেয়া সম্ভব। মোবাইলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আপাতত যোগাযোগ রাখার কথাও বলেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনেও ঢাকা-১১ থেকে মনোনয়ন চান কাইয়ুম। দল থেকেও তার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অনুকূলে না হলে দেশেও নাও ফিরতে পারেন কাইয়ুম। সে ক্ষেত্রে বিকল্প কাকে প্রার্থী করা হতে পারে সে বিষয় চূড়ান্ত কিছু জানা না গেলেও কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগমকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে গুঞ্জন আছে।

বিএনপির মহানগর উত্তরের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কাইয়ুম ভাই নিজেও চাচ্ছেন আগের আসন থেকে নির্বাচন করতে। যতটুকু জানি দলেরও একই চিন্তা।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আহসান উল্লাহ হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুত। কিন্তু কাকে কোথায় মনোনয়ন দেবে সেটা দল সিদ্ধান্ত নিলে জানা যাবে। আগ বাড়িয়ে বলা ঠিক হবে না।’

এদিকে মহানগর উত্তর ছাত্রদলের এক নেতা দপ্তরের নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী আরো নেতা আছেন। কিন্তু এখনই তারা মুখ খুলবেন না কারণ তাহলে নেতাকর্মীদের পেছনে টাকাপয়সা খরচ শুরু করতে হবে। এ কারণে তারা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে আপাতত নীরব।’

(ঢাকাটাইমস/০৮জুন/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত