তিন সন্তানসহ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

দুই প্রভাবশালীর প্রতি সন্দেহ স্বামীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ২৩:২৯ | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০১৭, ১৯:৫১

রাজধানীর তুরাগে তিন সন্তানসহ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার ঘটনায় পুলিশ বলছে, তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মা রেহানা পারভীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু রেহানার ভাই ও স্বামীর দাবি, এটি হত্যাকাণ্ড। স্বামী মোস্তফা কামাল সন্দেহ করছেন, বহুস্তর ব্যবসা ডেসটিনিতে বিনিয়োগের জন্য তাদের কাছ থেকে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি ৫০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন, তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এই সন্দেহের কথা জানান মোস্তফা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রেহেনা পারভিন (৩৪), তার তিন সন্তান এন এম আঁখি ওরফে শান্ত (১৩), শেফা আক্তার এম আরিশা (৯) ও মো. মোসামিম ওরফে সাদের (১) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য পাঠানো হয়।

তুরাগ থানার উপপরিদর্শক খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয় তিন সন্তানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মা রেহেনা পারভিন আত্মহত্যা করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

রেহেনা পারভিনের ছোট ভাই নূর হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  সাংবাদিকদের বলেন, তুরাগের সানদিন স্কুল রোডের এক নম্বর গলির একটি টিনশেট বাড়ির ভাড়া তুলত মোস্তফা কামাল ও তার পরিবার। কয়েক মাস আগে ওই বাড়িতে আসেন মোস্তফা কামালের মা ও তার বোন। তখন থেকে তারা ওই বাড়ির ভাড়া তুলছেন।

এরপর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয় বলে জানান নূর হোসেন। রেহানা ও তার সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে দাবি করে নূর হোসেন অভিযোগের আঙুল তোলেন মোস্তফার মা ও বোনের দিকে। তিনি বলেন,  ‘আমাদের সন্দেহ হয় মোস্তফার মা-বোনেরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।’

নূর হোসেনের এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন মোস্তফা কামাল। তিনি বরং সন্দেহ প্রকাশ করছেন স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রতি, যাদের কাছে তিনি বেশ কিছু টাকা পান।

দুই প্রভাবশালীর বিষয়ে রেহানার মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই দুজনকে ডেসটিনি ব্যবসার জন্য ৫০ লাখ টাকা ধার দেওয়া হয়েছিল। আমার সন্দেহ, তারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।’

নূর হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি এই ঘটনা বিশ্বাস করি না। তবে যদি আমার বোন অথবা মা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ হয় তাহলে প্রচলিত আইনেই তাদের বিচার হবে। সে ক্ষেত্রে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।’

(ঢাকাটাইমস/৯জুন/এএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত